“মানুষ” -সুমনা বেসরা

মনে আছে সেদিন?
দিল্লি বাসষ্ট্যান্ডে গাদাগাদি হয়ে
বাড়ি ফিরতে চাইছিলে
করোনার লকডাউনে?
বাসের ছাদে পাশের লোকটা
ভিন ধর্মের কিনা
জিজ্ঞেস করেছ একবার?
না কি তুমিও আঁকড়েছিলে
হাতের মুঠিতে করে
তার জামার হাতল
যাতে বসে থাকা যায় কোনরকমে ধরাধরি করে।

তুমি যখন
ইউ. পি. দিল্লি বা হিমাচল থেকে
কাঁধে বাচ্চা নিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরেছ
রাস্তায় তৃষ্ণার জল
ক্লান্তির ছায়া
কোন সহৃদয় এগিয়ে দিয়েছে
তুমি কি শুধাইছ একবার
হ‍্যাঁ গো তুমি কোন ধর্মের?

বন্ধ বাড়িতে ধর্মের দেবতাকে ডেকেছ
খুঁজেছ প্রাণ বাঁচানোর পথ
বেঁচে থাকার আকুল আবেদন
বলোতো, চেয়েছো কখনো?
“আমার ধর্মীরা সুস্থ থাকুক
ওদের ধর্মীরা মরুক”????

কেন তবু
প্রশ্রয় দাও
নিশ্চুপে সও
ধর্ম নিয়ে হানাহানি আর আস্ফালন?
ঝড় কেটে গেলে আবার
অস্ত্র নিয়ে
অহংকারে বড়াই করবে ধর্ম?
রাজনৈতিক নেতা না কি
দেশ গড়ি আমরা শ্রমিকের দল?
প্রতি অট্টালিকায়
সিমেন্টের মশলায় মজুরের ঘাম,
নাচায় শুধু ওরা।
বলো
আবার নাচতে ইচ্ছা করবে?

পায়ে হেঁটে পথ পেরিয়ে
জীবাণু নাশক স্প্রেতে নেয়ে
তৃষ্ণার্ত মনুষ্য সন্তান
খিদের জ্বালায় হাড়ভাঙা খাটুনি
তার পরও
রাখবে কি অবশিষ্ট
ধর্মে ধর্মে লড়ার মতো শক্তি???

31/03/2020,কাটিআম।