Monthly Archives: April 2020

বাঁকুড়া জেলার রানীবাঁধ ব্লকের 71 জন V.R.P (গ্রামীন সম্পদ কর্মী) তাদের দুই দিনের সান্মানিক 300 টাকা,মোট 21,300/- টাকা মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে দান করলেন

গতকাল 29/04/2020 তারিখে বাঁকুড়া জেলার রানীবাঁধ ব্লকের 71 জন V.R.P (গ্রামীন সম্পদ কর্মী) তাদের দুই দিনের সান্মানিক 300 টাকা,মোট 21,300/- টাকা রানীবাঁধ ব্লকের B.D.O সাহেব মাননীয় শুভদীপ পালিত মহাশয়ের হাতে তুলেদেন,মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর ত্রান তহবিলে দান করার জন্য।

মাননীয় B.D.O সাহেব তাদের এই সমবেত ঐকান্তিক প্রচেষ্টা কে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন- ”কোরনা মোকাবিলার জন্য তারা আজ যে ভাবে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন সেটা এই সময় খুব বড় একটা ব্যাপার এবং আগামী দিনেও তারা যেন এই ভাবে মানুষের পাশে থাকেন”।

লকডাউনের অনুভূতি

আমার মনে হচ্ছে যেন এই পৃথিবীর পৃষ্ঠে আমি একা

আমার অগ্রে পশ্চাতে কেও নেই

আছে শুধু গাছের ডালে পাখিদের কোলাহল

ওরা যেন আমার আত্মজীবনির চলচ্চিত্রে দিচ্ছে আবহ সংগীত

ঘুগুপাখি কোয়েল পাখি আরো অনেক অনেক।

আমার মনে হচ্ছে যেন আমি একাই এগিয়ে চলেছি

আমার জীবনকে বাজী রেখে পৃথিবীকে পুনর্জীবিত করার জন্য

পৃথিবীতে সকল জীবকুলের জীবনকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য।

আজ আমি ছাড়া অন্যরা সবাই করোনার ভয়ে চার দেওয়ালের মধ্যে অবরুদ্ধ

আজ ওড়ছেনা ওড়োজাহাজ , ছুটছেনা ট্রেন ট্রাম বাসগাড়ি

নেই ইঞ্জিনের আওয়াজ ; ফ্লায়োভার হাইওয়ে আজ নিস্তব্ধ।

আজ অবধি চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা করোনার চিকিৎসায় পায়নি পূর্ন সফলতা

কেও জানেনা আর কতদিন পরে মানব জীবনে ফিরে আসবে স্বাভাবিকতা।

তবুও সবাই বেঁচে থাকার সপ্নকে সাথী করে

পালন করছে সামাজিক দূরত্ব

এই সুযোগে রাজনৈতিক নেতারা দেখাচ্ছে মানবতার প্রমাণ

আর ধর্মীয় নেতারা ভাঁওতাবাজিতে ব্যস্ত

কাঁসর ঘণ্টা বাজিয়ে, মোমবাতি জ্বালিয়ে

করোনা নির্মূলের জন্য উপস্থাপন করছে অবৈজ্ঞানিক তত্ব।

আমার মনে হচ্ছে যেন আমি একাই এগিয়ে চলেছি

নদীর জলস্তর দেখতে

আরও দেখছি প্রতিদিন আকাশ, বাতাস, সূর্যের প্রখরতা

অতি বেগুনী রশ্মির তীব্রতা ইত্যাদি…।

আমার মনে হচ্ছে যেন পৃথিবীর মতো আমারও নেই কোন বিশ্রাম

আমার মনে হচ্ছে যেন পৃথিবীর মতো আমারও নেই কোন বিশ্রাম।।

লিগ্যাল মনোপলি : এক মানবিক সমীক্ষণ

এম.নেপোলিয়ন টুডু ।। বৃহস্পতিবার।। ১৬ই এপ্রিল।।

এক ভয়ঙ্কর ভাইরাস আজ আমাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। যাইহোক কেন্দ্র ও রাজ্যসরকারের সদর্থক কিছু পদক্ষেপ, এর চরম ভয়াবহতা অনেকটাই প্রতিরোধ করতে পেরেছে। সরকারীভাবে রেশনদ্রব্য বন্টন, অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ত্রানসাহায্য ইত্যাদীর মাধ্যমে সাধারন জনজীবন অনেকটাই সচল বলে মনে হচ্ছে। তবুও এই করোনা ভাইরাস আজ আমাদের সামনে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকগত অনেক প্রশ্নই সামনে নিয়ে এসেছে।এরকমই একটি বিষয় আজ সকলের কাছে উপস্থাপন করলাম।

সরকারীভাবে লক্‌ডাউন ঘোষনা হওয়ার পর থেকেই দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে, প্রায় অর্ধমৃত হয়ে কোনোরকমে নিজের ঘরে পৌঁছতে পেরেছে।এখনো অনেক মানুষ অনাহারে,অর্ধাহারে থেকে আপন গ্রামে ফিরতে চাইছে ।তারা হয়তো আসতে চায়নি ।কিন্তু দিনের পর দিন মালিকের চোখরাঙানি, প্রশাসনের রক্তচক্ষু, বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে নিরুপায় হয়ে আবার স্বদেশের পথ ধরা।লাভের লাভ অবশ্য কিচ্ছু হয়নি।উল্টে জুটেছে পুলিশের লাঠিপেটা, প্রতিবেশির গালিগালাজ ও ভয়ার্ত হুড়োহুড়ির সৌজন্যে ক্ষুধিত শরীরে হার্টফেল হওয়ার সৌভাগ্য। মিডিয়ায় ফুটে উঠেছে তাদের করুন মুখের অবয়ব।চ্যানেলের টিআরপি বেড়েছে, মধ্যবিত্ততার খাতিরে লাইক,শেয়ার,কমেন্টের বন্যা বয়েছে। পরিসংখ্যানের গ্রাফ কখনো উর্ধমুখী আবার কখনো নিম্নমুখী হয়েছে।কিন্তু তারা রয়েছে সেই তিমিরেই। কারোর বাড়িতে সন্তানসম্ভবা স্ত্রী,কারোর বাড়িতে সদ্য জন্মানো বাচ্চা,আবার কারোর বাড়িতে অপেক্ষারত পঙ্গু বৃদ্ধা মা।

এতক্ষণ যাদের কথা বলাহলো এরা সবাই খেটেখাওয়া মানুষ। এইসব মানুষ ব্যতিত অনেকেই নিজের নিজের বাড়ি পৌচেছে।কারন তাদের টাকা আছে, তারা সবাই ধনী। কোনোকোনো ক্ষেত্রে আবার সরকারী সহযোগিতায় এলিট্‌রা বাড়ি পৌছে বেশ আয়েশী জীবনযাপনে ব্যস্ত। আর যেসব গরীব মানুষ বাড়িতে আছে, ক্যামেরার সামনে পোজ্‌ দিতে দিতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। একশো দিনের কাজ নেই, চিকিৎসার টাকা নেই খামোকা গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে তারা কি করবে! কাজে প্রতারনা, আবাস যোজনার টাকায় কমিশন, রেশনকার্ড বন্দক, মিনিব্যাঙ্কে আঙুলের ছাপ বসিয়ে টাকা লোপাট – এসব বাদদিয়ে তাদের থাকে কি?শেষমেশ নামালখাটতে যাওয়া অথবা ভিনরাজ্যে জীবন বাজিরেখে উপার্জনের আশায় দুপা বাড়ানো। লোকাল ট্রেনে তথাকথিত শিক্ষিত মানুষের অশ্রাব্য গালিগালাজ শুনতে শুনতে গন্তব্যে পৌছানো।

গরীব, অসহায়,খেটেখাওয়া এইসব মানুষদের অবস্থা আমরা আগেও জেনেছি। এদেরকে নিয়ে কত গল্প,নাটক,কবিতা, গান লেখা হয়েছে। প্রতিচী ট্রাস্টের মতো কত সংস্থা এদের নিয়ে গবেষনা করছে। অর্থনীতির কত ছাত্র যে এইসব দিনআনি দিনখাই মানুষের উপর থিসিস লিখে পিএইচডি ডিগ্রী হাঁসিল করেছে তার ইয়ত্তা নেই।তবুও গরীবের পেটে দুবেলা অন্ন জোটেনা।এর থেকে জটিল বিষয় আর কিবা হতে পারে!

জঙ্গলমহলের মতো ঐসব মানুষদের এলাকার কথা লিখতে গেলে শেষ হবেনা। আমাদের রাজ্যের জঙ্গলমহলের কথায় ভাবাযাক্‌। জমি আছে ফসল নেই,শস্য আছে ফলন নেই, পতিত জমি আছে শিল্প নেই।আহা কি দারুন অবস্থা! শোনাগেছে এখানে আবার কোলকাতা থেকে বাবুরা সুটিং করতে আসে। দংলাগ্‌ড়ে, ছৌ নাচ দ্যাখে,আদিবাসী নারীর শরীর দ্যাখে তারা ফিরে চলে যায়।এরপর এইসব ছবি কানচলচিত্র উৎসবের মতো কোনো জায়গার থেকে আর্ন্তজাতিক অনেক পুরস্কার জিতে নিয়ে আসে। আর এখানকার ভূমিপুত্রদের কপালে জোটে অনাহারের পুরস্কার।

এইসব এলাকায় শিল্প হয়না।কিন্তু শিল্পের জন্য শ্রমিকের জোগান এখান থেকেই হয়। বাম, ডান,অগ্নি,নৈঋত কোনো রাজনৈতিক দলেই বলেনা এখানে শিল্প হোক। কিন্তু ব্রিগেড কিংবা যুবভারতী ভর্তি হয় এইসব এলাকার মানুষদের দিয়েই। এখানকার জনপ্রতিনিধিরাও এইরকমই হয়।তারা পার্টির দালালি ছাড়া আর কিছু করেনা। যুগেযুগে সব বদলায় কিন্তু এইসব এলাকা বদলায় না। ছোটো বড়ো মাঝারি শিল্প থাকলে হয়তো সাধারন মানুষের এতো হাহাকার হতে হতো না।সাথে কিছুটা কৃষিজ ব্যবস্থার পরিকাঠানো, পর্যাপ্ত জলের যোগান থাকলে গরীব মানুষদের এতো হায়রানি হতে হতো না ।

এরপর আসা যাক পাড়ায়, গ্রামে, পঞ্চায়েতে ,ব্লকে, জেলায় থাকা কুকুরের মতো পাচাটা স্বভাবের, শিয়ালের মতো ধূর্ত কিছু রাজনৈতিক দালালদের কথায়। গরীব মানুষদের কাছ থেকে মোটা কমিশন নিয়ে তারা বাড়ি গাড়ি মোচ্চবে ব্যস্ত ।এদের জন্যই আজ খেটেখাওয়া মানুষদের এই অবস্থা। এখন এদের অনেকেই পাড়ায় পাড়ায় ত্রানবিলির নামকরে সেলফি তোলায় ব্যস্ত। রেশনের চাল লোপাট করে চাল বিলিতে ন্যস্ত । ত্রান তহবিলেও দান দক্ষিনায় সিদ্ধহস্ত। এরাই আসল ভদ্রলোক !

আসুন এইসব মানুষদের নিয়ে এই সঙ্কটময় মূহুর্তে সাহায্য সহযোগিতার সেতু গড়ে তুলি। নুহ্য, কন্টকময় এদের জীবনজিবীকা নিয়ে পরোক্ষভাবে হলেও সরব হই । সমস্তস্তরের মানুষের সহযোগিতা হয়তো অদূরভবিষ্যতে এদের আগত প্রজন্মের ভার অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারবে।অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে সবাইকে নিয়েই বেঁচেথাকার। সচেতনতার সঙ্গেই মনে রাখতে হবে

___ “যারে তুমি নীচে ফেল
সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে,
পশ্চাতে রেখেছ যারে
সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে ।।”

এম.নেপোলিয়ন টুডু ।। বৃহস্পতিবার।। ১৬ই এপ্রিল।।

Rating: 1 out of 5.

ᱤᱧ ᱫᱚ ᱠᱳᱨᱳᱱᱟ

ᱱᱚᱨᱮᱱᱫᱨᱚ ᱱᱟᱛᱷ ᱦᱟᱸᱥᱫᱟ

ᱤᱧᱫᱚ ᱠᱳᱨᱳᱱᱟ,

ᱤᱧ ᱠᱷᱟᱹᱛᱤᱨ ᱛᱮ ᱦᱚᱲ ᱠᱚ ᱳᱠᱳᱱᱟ,

ᱵᱟᱦᱮᱨ ᱵᱟᱝ ᱳᱰᱳᱠ ᱠᱟᱛᱮ ᱚᱲᱟᱜ ᱨᱮᱜᱮᱠᱳ ᱛᱟᱦᱮᱸᱱᱟ᱾

ᱤᱧ ᱫᱚ ᱠᱳᱨᱳᱱᱟ,

ᱤᱧ ᱫᱚ ᱪᱟᱭᱱᱟ ᱫᱤᱥᱚᱢ ᱠᱷᱚᱱᱤᱧ ᱳᱯᱷᱮᱹᱞᱟᱠᱟᱱᱟ,

ᱤᱛᱟᱞᱤ, ᱥᱯᱮᱱ, ᱟᱢᱮᱨᱤᱠᱟ ᱞᱮᱠᱟᱛᱮ

ᱫᱟᱬᱟ ᱫᱟᱬᱟᱛᱮ ᱥᱤᱧ ᱚᱛ ᱫᱤᱥᱚᱢ ᱛᱤᱧ ᱥᱮᱴᱮᱨ ᱟᱠᱟᱱᱟ᱾

ᱤᱧ ᱫᱚ ᱠᱳᱨᱳᱱᱟ,

ᱤᱧ ᱫᱚ ᱦᱚᱲᱼᱤᱧ ᱥᱟᱢᱴᱟᱣ ᱠᱳᱣᱟ,

ᱵᱟᱝ ᱥᱟᱢᱴᱟᱜ ᱦᱚᱲᱫᱩᱧ ᱜᱚᱡ ᱪᱟᱵᱟ ᱠᱚᱣᱟ᱾

ᱚᱱᱟᱛᱮ ᱤᱛᱟᱞᱤ, ᱥᱯᱮᱱ, ᱟᱢᱮᱨᱤᱠᱟ ᱨᱮ
ᱵᱟᱦᱮᱨ ᱨᱮ ᱦᱚᱲ ᱜᱮ ᱵᱟᱹᱱᱩᱜ ᱠᱳᱣᱟ᱾

ᱤᱧ ᱫᱚ ᱠᱳᱨᱳᱱᱟ,

ᱟᱯᱮ ᱦᱚᱸ ᱤᱧ ᱠᱷᱚᱱ ᱥᱚᱱᱛᱚᱨ ᱨᱮ ᱛᱟᱦᱮᱸᱱᱯᱮ,

ᱚᱲᱟᱜ ᱨᱮ ᱛᱟᱦᱮᱸᱱᱯᱮ, ᱱᱟᱯᱟᱭ ᱛᱟᱦᱮᱱᱯᱮ,

ᱵᱟᱧᱪᱟᱣᱜᱤᱧ ᱫᱚᱦᱚ ᱦᱚᱴᱚᱠᱟᱯᱮ᱾

ᱤᱧ ᱫᱚ ᱠᱳᱨᱳᱱᱟ,

ᱪᱟᱞᱟᱜ ᱦᱚᱨ ᱨᱮ ᱟᱞᱚᱯᱮ ᱡᱟᱸᱜᱮ ᱫᱟᱨᱟᱢᱤᱧ

ᱟᱯᱱᱟᱨ ᱚᱲᱟᱜ ᱨᱮ ᱛᱟᱦᱮᱸᱱ ᱯᱮ ᱥᱤᱸᱜᱮ-ᱥᱤᱧ,

ᱴᱷᱟᱱ-ᱢᱟᱱ ᱛᱟᱦᱮᱸᱱ ᱨᱮ ᱤᱧ ᱫᱚ ᱵᱟᱱᱩᱜᱤᱧ᱾

ᱤᱧ ᱫᱚ ᱠᱳᱨᱳᱱᱟ,

ᱤᱧ ᱫᱩᱧ ᱨᱩᱣᱟ.ᱲᱟ ᱪᱟᱭᱱᱟ, ᱥᱮᱭᱟ ᱥᱤᱬᱤᱡ ᱢᱮᱱᱟᱜ ᱡᱟᱦᱟᱱ,

ᱡᱟᱱᱟᱢ ᱤᱧᱟ.ᱜ ᱚᱱᱮ ᱚᱠᱟᱨᱮ, ᱩᱦᱟᱱ᱿

Rating: 1 out of 5.

ᱮᱦᱳ ᱡᱩᱣᱟᱹᱱ

ᱼᱼ ᱵᱤᱡᱚᱭ ᱢᱩᱨᱢᱩ

ᱮᱦᱳ ᱡᱩᱣᱟᱹᱱ,
ᱟᱢ ᱴᱷᱮᱱᱜᱮ ᱳᱠᱳ ᱢᱮᱱᱟᱜ ᱨᱮᱦᱮᱫ
ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱩᱛᱱᱟᱹᱣ ᱨᱮᱱᱟᱜ।
ᱮᱦᱳ ᱡᱩᱣᱟᱹᱱ,
ᱟᱢᱜᱮ ᱠᱟᱱᱟᱢ ᱟᱢᱟᱜ ᱟᱜᱟᱢᱨᱮᱱ
ᱥᱚᱨᱮᱥ ᱩᱛᱟᱹᱨ ᱞᱟᱹᱣᱲᱤᱭᱟᱹ।
ᱮᱦᱳ ᱡᱩᱣᱟᱹᱱ,
ᱟᱢᱟᱜ ᱠᱟᱹᱢᱤ ᱛᱮᱜᱮ ᱥᱚᱫᱚᱨᱚᱜᱼᱟ
ᱟᱢᱟᱜ ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱨᱮᱱᱟᱜ ᱵᱳᱜᱮ ᱵᱟᱹᱲᱤᱡ।
ᱮᱦᱳ ᱡᱩᱣᱟᱹᱱ,
ᱟᱢᱟᱜ ᱵᱮᱸᱜᱮᱫ ᱢᱟᱨᱥᱟᱞ ᱛᱮᱜᱮ
ᱟᱨᱥᱟᱞᱳᱜᱼᱟ ᱟᱢᱟᱜ ᱥᱳᱢᱟᱡᱽ ᱟᱹᱨᱥᱤ।
ᱮᱦᱳ ᱡᱩᱣᱟᱹᱱ,
ᱟᱢᱟᱜ ᱛᱟᱲᱟᱜ ᱫᱟᱦᱟᱨ ᱛᱮᱜᱮ
ᱞᱟᱦᱟ ᱤᱫᱤᱭᱟᱭ ᱟᱢᱟᱜ ᱥᱟᱶᱛᱟ।
ᱢᱮᱱᱠᱷᱟᱱ ᱡᱩᱣᱟᱹᱱ,
ᱟᱢ ᱢᱟᱢ ᱧᱮᱞᱚᱜ ᱠᱟᱱ
ᱡᱟᱹᱯᱤᱫ ᱟᱠᱟᱫ ᱞᱮᱠᱟ!
ᱮᱦᱳ ᱡᱩᱣᱟᱹᱱ,
ᱛᱤᱥ ᱟᱢ ᱫᱚᱢ ᱳᱨᱳᱢ
ᱟᱢᱟᱜ ᱟᱯᱱᱟᱨ ᱳᱯᱨᱳᱢ
ᱦᱟᱭᱨᱮᱹ ᱡᱩᱣᱟᱹᱱ
ᱛᱤᱥᱮᱢ ᱯᱷᱳᱴᱮᱞ ᱛᱟᱢᱟ
ᱪᱷᱟᱸᱫᱟ ᱟᱠᱟᱱ ᱡᱟᱹᱯᱤᱫ ᱢᱮᱫ
ᱮᱦᱳ ᱡᱩᱣᱟᱹᱱ,
ᱪᱤᱠᱟᱹᱛᱮᱢ ᱟᱸᱫᱷᱟᱜ ᱠᱟᱱᱟ
ᱳᱞᱳᱜ ᱟᱹᱠᱤᱞ ᱠᱟᱴᱮ ᱨᱮᱷᱚᱸ
ᱮᱦᱳ ᱡᱩᱣᱟᱹᱱ,
ᱛᱤᱥᱮᱢ ᱛᱟᱲᱟᱢᱟ ᱟᱢᱨᱮᱱ
ᱦᱟᱯᱲᱟᱢ ᱠᱚᱣᱟᱜ ᱩᱫᱩᱜ ᱦᱚᱨᱛᱮ?
ᱮᱦᱳ ᱡᱩᱣᱟᱹᱱ,
ᱛᱤᱥᱮᱢ ᱜᱚ~ᱜᱟ ᱵᱷᱟᱹᱨᱭᱟᱹ
ᱟᱢᱟᱜ ᱡᱟᱱᱟᱢ ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱦᱟᱨᱟᱵᱩᱨᱩ ᱨᱮᱱᱟᱜ?

আযোদিয়া বুরু জুলুঃ কানা হো : বাপ্পাদিত‍্য বেসরা

অনে ঞেলঃ কান ঞালাঃ ঞালাঃ
হারয়াড় সাকাম চেতান পুঁড ধুঁওয়া
সেঙেলতে ল তরজঃ কান
দারে সাঁও দারে
বুকা তপল নাড়ি
অনাগে আমাঃ জাত গরব
আযোদিয়া বুরু।
জুলুঃ কানা হো আতারঃ কানা
বিরহড় সানতাড় মুডা কওয়াঃ
সাড়িম জাপাঃ জাপাঃতে
বির আতার সেঙেল,
সাধের হেরেলঃ আযোদিয়া চেতান।

সেটেরআম জানিচ হাঁঃ
এন হিলোঃ
কচা খনাঃ হাতিয়ার হাতড়াও ওডোক কাতে
মেড়হেৎ সাকম
মাতকম লাঠে
পটম দাকা
ঘেঁট কাতে,
গুলাট চাঁদওয়াঃ
তেরদেজরে
মিদির গডারে জাপিৎ আঁগা কাতে
দিহরি বাবাওয়াঃ হরাতে সেঁদরা
গরবআম খেরওয়াল শিকারিয়া।
তিরয়ো বানাম
সেরেঞ বাঁখেড়তে
“সুপ্রিমকোর্ট “এম
আঁদোড়া অনাকো বেড়া দ।
সিতা ডাডি গলবুরু
আডিম উরুমা উনদ,
সেরমা ভোর অকালেকা মেনাআ?
সেঁদরাম জিয়ালি,চাম্পাবাহা এমান
চেৎ হালততে জিওয়িকো বিতাও এদা বিররে
তলাস আকাদাম মিৎ ধাও?
গরবাম!
নওয়াকো দ ইঞাঃ
আলেয়াঃ
আবোওয়াঃ।
কয়গমে অনা বুরু জুলুঃ কানা
দঁগয় দঁগয়।

Rating: 1 out of 5.

ᱦᱟᱦᱟᱲᱟᱜ : ᱱᱚᱨᱮᱱᱫᱨᱚ ᱱᱟᱛᱷ ᱦᱟᱸᱥᱫᱟ

ᱦᱟᱦᱟᱲᱟᱜ, ᱟᱹᱰᱤ ᱦᱟᱦᱟᱲᱟᱜ ᱱᱚᱣᱟ ᱫᱷᱟ.ᱨᱛᱤ!
ᱚᱱᱟ ᱠᱷᱚᱱᱦᱚ ᱦᱟᱦᱟᱲᱟᱜ ᱢᱟ.ᱱᱢᱤᱭᱟᱜ ᱵᱟᱨ ᱛᱤ!
ᱦᱟᱦᱟᱲᱟᱜ ᱱᱚᱣᱟ ᱢᱟᱹᱱᱢᱤ ᱥᱤᱨᱡᱚᱱ ᱯᱩᱨᱤ!
ᱢᱟ.ᱱᱢᱤ ᱛᱮᱭᱟᱨ ᱦᱟᱦᱟᱲᱟᱜ ᱟ.ᱱ ᱟ.ᱨᱤ!
ᱦᱟᱦᱟᱲᱟᱜ, ᱟᱹᱰᱤ ᱦᱟᱦᱟᱲᱟᱜ ᱱᱚᱣᱟ ᱢᱟ.ᱱᱢᱤ ᱟ.ᱨᱤ!
ᱢᱤᱫ ᱦᱚᱲᱟᱜ ᱦᱟ.ᱴᱤᱧ ᱟᱨᱢᱤᱫ ᱦᱚᱲᱮ ᱡᱚᱢ,
ᱨᱮᱸᱜᱮᱡ ᱟᱠᱟᱫᱮ ᱦᱚᱲ ᱫᱚ ᱵᱟᱱᱩᱜ ᱛᱟᱭᱟ ᱫᱚᱢ!
ᱫᱚᱢ ᱜᱮᱭ ᱵᱚᱛᱚᱨᱚᱜ ᱞᱮᱝᱲᱚᱡ ᱢᱟᱹᱱᱢᱤ,
ᱫᱚᱢ ᱜᱮᱭ ᱵᱮᱱᱟᱣ ᱢᱮ ᱢᱟ.ᱱᱢᱤ ᱠᱷᱚᱱ ᱫᱟᱹᱱᱢᱤ᱾
ᱦᱟᱦᱟᱲᱟᱜ, ᱟᱹᱰᱤ ᱦᱟᱦᱟᱲᱟᱜ ᱱᱚᱣᱟ ᱢᱚᱧᱪᱚᱯᱩᱨᱤ᱾
ᱢᱟ.ᱱᱢᱤ ᱛᱟᱞᱟᱨᱮ ᱨᱟᱡ‌ᱽ ᱟ.ᱨᱤ ᱟᱨ ᱥᱤᱸᱭᱟ.ᱡᱟ.ᱨᱤ᱿
ᱢᱟ.ᱱᱢᱤ ᱛᱤ ᱛᱮ ᱵᱮᱱᱟᱣ ᱢᱟ.ᱱᱢᱤ ᱵᱟᱡᱟᱜ ᱡᱚᱱᱛᱚᱨ,
ᱢᱟ.ᱱᱢᱤᱭᱟᱜ ᱜᱮ ᱢᱟ.ᱱᱢᱤ ᱜᱩᱡᱩᱜ ᱢᱟᱱᱛᱟᱨ!
ᱦᱟᱦᱟᱲᱟᱜ, ᱟ.ᱰᱤ ᱦᱟᱦᱟᱲᱟᱜ, ᱫᱤᱥᱚᱢ ᱯᱟᱞᱚᱴᱮᱱ,
ᱢᱟ.ᱱᱢᱤ ᱛᱟᱞᱟᱨᱮ ᱱᱟᱯᱟᱭ ᱥᱟᱜᱟ.ᱭ ᱵᱚᱫᱚᱞᱮᱱ᱾
ᱵᱤᱨ ᱡᱤᱭᱟ.ᱞᱤ ᱪᱮᱬᱮ ᱪᱩᱯᱲᱤ ᱠᱷᱟᱱᱪᱟ ᱠᱷᱚᱱ ᱠᱚ ᱵᱟᱦᱮᱨᱮᱱ,
ᱫᱤᱥᱚᱢ ᱨᱮᱱ ᱢᱟ.ᱱᱢᱤ ᱡᱷᱚᱛᱚ ᱠᱚ ᱚᱲᱟᱜ ᱛᱟᱞᱟᱭᱮᱱ!

কুকমু রিনিচ কুড়ি উনি দ

Rating: 1 out of 5.

বাপ্পাদিত‍্য বেসরা

ভর তিকিন সেতোং
বাহু গিদার জাপিৎ বিছনারে
বাগি ওটো কাতে
ইঞ দঞ তাড়াম আকাদা
বুরু ধাসনা ফেডঃ হরতে
উনি সাঁও পান্তে পান্তে।
তিনাঃ মজ
লেমেঞ লাবিৎ লিল শাড়ি
উসুল লবয় হড়মরে
শোভা আকাদায়
ইঞ দঞ তাড়াম আকাদা
বাং বাডায় হর হরতে
হেঁদে ধিরি সিরম দাঁধি জাপাঃ
উনি সাঁও পাউড়ি গিডি গিডি জড়তে।
ঘানে উনিসেৎ
মেঁৎ মেঁৎ জাপাঃ কয়ঃ
মুলুচ লুটিয়াতেঃ
ডাঁডারে তি ককে
তাড়াম ইদিয়েদালিঞ লাতার
গাডা বালি আর খেত বৌদ হাবিচ।
সারিগে আডি মজ এ
ঞেলঃ কানা তেহেঞ,
ইঞাঃ
উনাঃ সোররে চিকাতে তেহেঞ উনি!!!
মনেয় কুশিঃ কুশিঃ কানা।
উনদিন চেদাঃ বাম সেটেরলেনা
“ইঞরেন মা এরা গিদার অড়াঃরে
আমাঃ হঁ ত হরাসিরে সিঁদুর”।
আর হঁ সোর কাতে চঃ চেরেচ সানা লিদিঞা
তেহেঞ দ আরহঁ
“আডিগে মজেম ঞেলঃ কানা
বুজ কাতে হঁ চেদাঃ
চেৎ কো চ লাং এপেম কান,

পালে বঙ্গা কুড়ি কানাম আম দ?”

আচকাঞ এভেনেনা
পারকম রেয়াঃ তায়ম সেৎরে
কসবাৎ কাতে
ভর তিকিন নংকাঞ কুকমু জং কান।

সংস্কৃত বাংলা ভাষার জননী নয়, সাঁওতালী ভাষার কাঠামোতেই বাংলা ভাষার বিকাশ

লিখেছেন সৌভিক ঘোষাল

বাংলা ভাষা একটি মিশ্র ভাষা। তার মধ্যে বৈদিক বা সংস্কৃত ভাষার অবদান যেমন আছে, তেমনি আছে খেরওয়াল বা সাঁওতালী সহ বেশ কিছু মুণ্ডা ভাষার অতি গুরূত্বপূর্ণ অবদান। বাংলা ভাষার জননী হিসেবে কেবল সংস্কৃত আর্য ভাষার দাবি সম্বলিত যে মিথটি গড়ে উঠেছিল – সেই দাবিকে নস্যাৎ করার কাজটা আজ থেকে প্রায় একশো বছর আগে শুরু করেছিলেন ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় স্বয়ং। ১৯১৮ সালে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার নদীয়া সাহিত্য পরিষদের সভায় একটি বক্তৃতা দেন। সেটি তারপর ছাপা হয় সবুজপত্র পত্রিকায়। “বাঙলা ভাষার কুলজী” নামক সেই অতি গুরূত্বপূর্ণ নিবন্ধে সুনীতিকুমার বলেন, “বাঙলা ভাষাটা যে অনার্য ভাষার ছাঁচে ঢালা আর্য ভাষা, সেটাও ক্রমে ক্রমে লোকে মানবে; আর্যামি যত দিন বাধা দিতে থাকবে, ততদিন বাঙলার ঠিক স্বরূপটি বের করা কঠিন হবে”।
একটি ভাষার ভিত্তি আলোচনা করতে হলে শুধু তাতে ব্যবহৃত শব্দের সংখ্যাগত আধিক্যের নিরিখটি বিবেচনা করতে গেলে ভুল হবে। বাংলা ভাষার বৈদিক ও সংস্কৃত এবং তা জাত শব্দের সংখ্যাধিক্য আছে ঠিকই, কিন্তু সেটাই বাংলা ভাষার ভিত্তি নির্ণয়ের যথার্য সূত্র নয়। ভাষা তার ইতিহাসে নানা কারণে নানা শব্দ গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু তার মূল ভিত্তি খুঁজতে গেলে অপরিহার্য ধ্বনি উচ্চারণের প্রকৃতি, ছন্দের বৈশিষ্ট্য, বাক্য গঠনের বৈশিষ্ট্য – ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা।
ধ্বনিতত্ত্বের দিক থেকে
সুনীতিকুমার বাংলা ভাষার ধ্বনিবৈশিষ্ট্যের মধ্যে দ্রাবিড় এবং কোল ভাষাগুলির বিশেষ প্রভাব লক্ষ্য করেছেন। “দ্রাবিড় আর কোল উচ্চারণের বিশেষত্ব – কথায় দুই ব্যঞ্জন একত্র থাকতে পারে না; হয় তাদের ভেঙে নেওয়া হয় বা একটিকে লোপ করা হয়। প্রাকৃতেও তাই, আমাদের ভাষাতেও তাই”। তাই তাঁর গুরূত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, “খালি সংস্কৃত আর প্রাকৃতের দিকে নজর রাখলে চলবে না, বাঙলা ভাষার ইতিহাস ঠিক করে জানতে গেলে অন-আর্য ভাষাগুলির দিকেও নজর রাখতে হবে”। তিনি এও বলেছেন, “বাঙলা ভাষা যখন জন্মগ্রহণ করে, তখনকার দিনের অনার্য ভাষার প্রভাবটাই বেশি পড়েছিল”। … “কিন্তু ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের আর শ্রীরামপুরের পণ্ডিতদের হাতে পড়ে বাঙলা ভাষা ভোল ফিরিয়ে বসল, বাঙলা ব্যাকরণ বলে লোকে সংস্কৃত ব্যাকরণের সন্ধি আর কৃৎ তদ্ধিত শব্দসিদ্ধি পড়তে লাগল”।
সুনীতিকুমারের দেওয়া সূত্রকে ব্যবহার করে এবং মৌলিকভাবে পরবর্তীকালে অনেকেই এই বিষয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন। সুহৃদকুমার ভৌমিকের “বাংলা ভাষার গঠন” সংক্রান্ত আলোচনা এই বিষয়ে একটি মাইল ফলক। সুনীতিকুমারের কথার সূত্র ধরেই সুহৃদকুমার বলেছেন, “ধ্বনিবৈশিষ্ট্য জীবদেহে জিনের মতো কাজ করতে থাকে। সংস্কৃত নরঃ শব্দ বাঙলায় তৎসম শব্দ হলেও উচ্চারণ করি নর্‌ হিসাবে”। সুহৃদবাবুর মতে এই হলন্ত উচ্চারণ বৈশিষ্ট্য বাংলায় এসেছে সাঁওতালি প্রভৃতি কোল বা মুন্ডা ভাষার প্রভাবে।
বাঙলা ও সাঁওতালির স্বরধ্বনির সাদৃশ্য দেখাতে গিয়ে সুহৃদবাবু দেখিয়েছেন বিশুদ্ধ অ এবং অ্যা এই দুটি ধ্বনি বাংলা ও সাঁওতালিতে লক্ষণীয়ভাবে বিদ্যমান, যা হিন্দিতে নেই। বাংলা ভাষায় এই বৈশিষ্ট্য সাঁওতালী থেকেই এসেছে বলে সুহৃদবাবু মনে করেছেন।
বাকরীতির আরেক গুরূত্বপূর্ণ উপাদান ছন্দ। সুহৃদবাবু বিস্তারিত আলোচনায় দেখিয়েছেন বাংলা ভাষার নিজস্ব ছন্দ যাকে বলা হয়, সেই দলবৃত্ত ছন্দ বা ছড়ার ছন্দ সাঁওতালি কবিতার ছন্দ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত। এ প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বিশিষ্ট ছন্দবিদ প্রবোধচন্দ্র সেন মহাশয়ের পর্যবেক্ষণ মনে করিয়ে দিয়েছেন – বাঙালির স্বাভাবিক বাগ্‌রীতি, সংস্কৃত ছন্দ বহনের অনুপযুক্ত।
নোটন নোটন পায়রাগুলি ঝোটন বেঁধেছে ইত্যাদি বাংলা ছড়ায় যে ছন্দ শুনি তার সঙ্গে সাঁওতালি লোকসঙ্গীতের ছন্দের গভীর মিল সুহৃদবাবু দেখিয়েছেন এই গান উদ্ধৃত করে –
তেহেঞ্‌ পেড়া/ তাহেন মেসে/ তেহেঞ্‌ তোয়া/দাকা।
সুহৃদবাবুর বইতে এই সংক্রান্ত অনেক উদাহরণ আছে। বাংলার ধ্বনিতত্ত্ব এবং সাঁওতালি ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব বিষয়ে ব্যাপকতর গবেষণা করেছেন ড. বোমকেশ চক্রবর্তী। তাঁর লেখা A Comparative Study of Santali and Bengali এই বিষয়ে আগ্রহীদের অবশ্য দ্রষ্টব্য।
রূপতত্ত্বের দিক থেকে
বাংলা ভাষার কিছু রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য (ক্রিয়াপদের লিঙ্গহীনতা, শব্দদ্বৈত ইত্যাদি) মুণ্ডা ভাষাজাত বলে ভাষাবিজ্ঞানীগণ মনে করেন। রূপতাত্ত্বিক দিক থেকে ‘মুণ্ডা’ ভাষার কিছু বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করেছেন পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য- ‘আকৃতিগত দিক থেকে মুণ্ডা ভাষা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে থাকে, যেমন আ, ই, উ, টা, তে ইত্যাদি। করা, খাওয়া, যাওয়া, শোওয়া এবং চলতে, বলতে,খেলতে, ঘরেতে, নদীতে, ছেলেটা, মেয়েটা, গরুটা, ইত্যাদি প্রত্যয়যুক্ত শব্দগুলো সাঁওতালি রীতি প্রভাবিত। শব্দে গুরুত্ব আরোপের জন্য শব্দদ্বিত্বের প্রয়োগ বহুল প্রচলিত।
বাক্যগঠন রীতির দিক থেকে
বাংলার বাক্যগঠন রীতির দিক থেকে বৈদিক আর্য ভাষা বা সংস্কৃত ভাষা নয়, সাঁওতালি ভাষারই প্রবল সাদৃশ্য দেখা যায়। সংস্কৃত বা প্রাকৃত ভাষায় শব্দ বিভক্তি যুক্ত হয়ে পদে পরিণত হয় ও বাক্যে ব্যবহৃত হয়। বাংলায় মূল শব্দের আলাদা কোনও বিভক্তি ব্যতিরেকে (অ বা শূন্য বিভক্তি প্রকৃত বিভক্তি নয়) প্রয়োগের দৃষ্টান্ত সুপ্রচুর। বাঙলায় ধাতুবিভক্তির গুরূত্ব থাকলেও শব্দ বিভক্তির তেমন গুরূত্ব নেই। ‘আমার পঠিত বই’ বাংলা বাক্যের স্বাভাবিক রীতি নয়, ‘আমার পড়া বই’ হল স্বাভাবিক রীতি। সাঁওতালি ভাষার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য মূল শব্দ কখনোই রূপান্তরিত হবে না। বাংলাতেও এই প্রবণতা ব্যাপক।
শব্দভাণ্ডারের দিক থেকে
বিভিন্ন জটিল বিমিশ্রনের মধ্য দিয়ে আমরা যখন অষ্ট্রিক থেকে ক্রমে ক্রমে প্রোটো বাঙ্গালি বা আদি বাঙ্গালিতে রূপান্তরিত হলাম, ততদিনে আমাদের অষ্ট্রিক ভাষায় ভোট-বর্মী, দ্রাবিড় ও সংস্কৃত-প্রাকৃত বহু শব্দ যুক্ত হয়ে গেছে। পরবর্তীতে যতই আমরা বাঙ্গালি হয়েছি, আমাদের বাংলা ভাষায় অষ্ট্রিক সাঁওতালি শব্দাবলী ততই সংখ্যালঘু হয়ে গেছে। তার পরও বহু শব্দ এখনও আমরা বাংলায় ব্যবহার করি, যা মূলগত ভাবে সাঁওতালি শব্দ। পরিহাসের বিষয় হলো সাঁওতাল শব্দটি নিজেই সংস্কৃতজাত, সাঁওতালদের নিজেদের আখ্যা হলো খেরওয়াল বা খেরওয়ার। বৃহত্তর মুন্ডা জাতিগোষ্ঠীই আসলে খেরওয়ার বা খেরওয়াল জাতি, আর্যভাষীদের ভারতে আগমনের আগে তারা মধ্য, পূর্ব ও দক্ষিন-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ন অঞ্চল জুড়ে বসবাস করতো। জেনেটিক নৃ-তত্বের বিচারে বর্তমান বাঙ্গালি জনগোষ্ঠীর ভিত্তিমূল হলো খেরওয়াল জাতিগোষ্ঠী।

বাংলা ভাষায় অনেক সাঁওতালি শব্দ অবিকৃত ভাবে বিদ্যমান, বেশ কিছু শব্দ আংশিক পরিবর্তিত হয়েছে। আবার কিছু দ্বৈত শব্দ কিংবা ইডিয়ম সংস্কৃতজাত শব্দের সাথে মিশ্র আকারে ব্যবহৃত হয়। অধ্যাপক ক্ষুদিরাম দাস “সাঁওতালি-বাংলা সমশব্দ অভিধান” নামে একটি গ্রন্থ লিখেছেন। এ বইটিতে কয়েক হাজার শব্দ ঠাঁই পেয়েছে, যা সাঁওতালি এবং বাংলা উভয় ভাষাতেই ব্যবহৃত হয়। এর অধিকাংশই মূলগত ভাবে সাঁওতালি, কিছু কিছু শব্দ বাংলা, হিন্দি, প্রাকৃত বা সংস্কৃত থেকে সাঁওতালি ভাষায় গৃহীত হয়েছে।
অজ্ = নিরেট, পুরোপুরি, পূর্নমাত্রায়, সব দিক থেকে। সুতরাং “অজ্ পাড়াগাঁ” এর অর্থ হলো “নিরেট গ্রাম”। পাড়া শব্দটিও সাঁওতালি, এর অর্থ গ্রামের খন্ডিত অংশ। গাঁ শব্দটি অবশ্য সংস্কৃত জাত। মজার ব্যাপার হল অজ পাড়াগাঁ শব্দটির সাথে আগে সর্ব স্তরের বাঙ্গালীর পরিচয় ছিল না, ১৯৩০ সালে কাজী নজরুল ইসলাম সর্ব প্রথম তাঁর রচিত সাহিত্যে অজ পাড়াগাঁ শব্দটি ব্যবহার করেন, তারপরই এটি ধীরে ধীরে বাংলা ভাষায় ব্যপকতা লাভ করে। এর আগে এটি ছিল বর্ধমান, বাঁকুড়া অঞ্চলের একটি আঞ্চলিক বাংলা শব্দ।

স্থানের নামবাচক শব্দঃ শব্দের শেষে “ইল” যুক্ত করে স্থানের নাম যেমন টাঙ্গাইল, ঘাটাইল, পূবাইল, নড়াইল, এসব মুন্ডা রীতির। নামের শেষে কোল এবং কোলা যেমন শিয়ালকোল,শ্রীকোলা, পাড়কোলা এবং বাড়ী বা বাড়ীয়া যেমন ফুলবাড়ী, উলুবাড়িয়া মুন্ডা রীতি। নামের শেষে তা যেমন জামিরতা, কামতা, রুপতা এসবও মুন্ডা রীতি। শব্দের শেষে টোলা যুক্ত করে (যেমন- নয়াটোলা, করাতিটোলা) নামকরনও মূলগত ভাবে সাঁওতালি রীতি।

কৃষিজাত শব্দঃ আটা, আমড়া, আম (শব্দটির মূলগত সাঁওতালি শব্দ আমড়া, যা সংস্কৃতে পরিবর্তিত হয়ে আম্রাতক>আম্র(টক), পরবর্তীতে প্রাকৃত হয়ে বাংলায় আম)। কচু, কদলী,কম্ব্লা(কমলা), কান্দাল(কলাগাছের কান্ড), কলা, কদম, কুঁচ, কাণঠার(কাঁঠাল), খই, খেসারি, গাব, গুড়(গুড়ের জন্য প্রসিদ্ধ অঞ্চল হেতু গৌড়), ঘাঁস, চাওলে(চাউল), চুন, জাম্বুরা, ঝিঙা,ডাল, ডিম, ডালিম, ঢ্যাপ, বেগুন, তাল, তিল, তিসি, তাম্বুল, নারিকেল, পুদিনা, বুট, মটর, লেবু, রসুন, রুটি, লঙ্কা(মরিচ)।

প্রানীবাচক শব্দঃ আঁড়িয়া(এঁড়ে গরু), ইকুন(উকুন), ইচা(চিংড়ি), ইলসা(ইলিশ), কাতলা, কাছিম, কেন্না(কেন্নো), বাদুড়, ব্যাঙ, জঁক(জোঁক), ডাহুক, মশা, ইন্দুর, বক, ভেড়া,কটাস(খাটাশ), ট্যাংরা, খইলসা, গোচই, চিতল, জিওল(সিঙ মাছ), ডারকা(মাছ), পুঁটি, হলাহল(মূল অর্থ সাপ), ময়ুর, ঘুঘু, ময়না, মাছ, মকর, শুয়াপোকা।
সম্পর্কবাচক শব্দঃ খোকা, খুকি, বারুই(পানচাষী), মামা, মামি, মাসি, বেটা, বিটি(বড় লোকের বিটি লো)। কাকা-কাকি(সাঁওতালি শব্দ, তবে চাচা-চাচীর বদলে খালু-খালা অর্থে ব্যবহৃত হয়)।

উপকরন বিষয়ক শব্দঃ ইন্দারা(পাকা কুয়া), কল(যন্ত্র), কাঠা(পাত্রবিশেষ), কান্থা(কাঁথা, সাঁওতালি থেকে সংস্কৃত হয়ে বাংলায়), কানপাশা, কুঠরি(কক্ষ), খুন্তি, খালুই(মাছ রাখার পাত্র),গদি, গাড়ি, ঘুড়ি, ঘানি(তেলের ঘানি), চারা(ছোট গাছ), চাল(ঘড়ের ছাউনি), চাল(রীতি), চাস(চাষ), বাণ, লাঙ্গল, কম্বল, অঙ্গার, কাঠা(বেত বা বাঁশের পাত্র বিশেষ), করাত, দা, বটি,ডোল(বাঁশ নির্মিত শস্য রাখার বড় পাত্র), ডুলি(পাল্কি বিশেষ), মাকু, মাচা, মাদুলি, টিকলি, লোটা, বালি, শন, সাবল, হাল(নৌকার), হুড়কা।

শারীরিক অঙ্গ বিষয়ক শব্দঃ গোড়ালী(পায়ের), ঠ্যাঙ, ঠোঁট, মোচ(গোঁফ), ঘাড়, গলা, পেট, খোস(পাঁচরা)।

সংখ্যা বাচক শব্দঃ কাঠা(জমির মাপ), কুড়ি(বিশ), কাহন, গন্ডা, পোন, ছটাক(মাপের পরিমান), মন।

বিবিধ বিষয়ক শব্দঃ আড়া(জঙ্গল), আড়াআড়ি, আনাড়ি, আপনি, আরকি( সে আমার ভাই আরকি), আহা(সুখ, আনন্দ জ্ঞাপক শব্দ), ইনি(এই ব্যক্তি), উনি(ঐ ব্যক্তি), উমুক(অমুক ব্যক্তি),ইয়া( ইয়ে মানে..), ইস(দুঃখবোধক শব্দ), উজাড়(গ্রাম উজাড়), উল্টা, উলট পালট, এ(এ গ্রামে আমার বাস, এ মা! এ কি?), এহ্, (এহ্ এটা কি করলে?), এ্যা(এ্যাই যে), ও(ওঃ, তুমি সেই লোক?), কচি, কনকন(কনকনে শীত), কাটাও(সময় কাটানো), কাঠি, কালি(দেবী বিশেষ), কাঁচা, কাঙ্গলা(কাঙ্গাল), কাবিল(দক্ষ), কামাই(উপার্জন), কালা(বধির), কাহিল(কাতর),কিত্ কিত্(খেলা বিশেষ), কিরিয়া(কিরা- শপথ), কিল(কিলায়ে কাঁঠাল পাকানো), কিস্তি(নৌকা), কুলি(শ্রমিক), কোঠিন(কঠিন), কুণ্ড(সীতাকুণ্ড, মাধবকুণ্ড), খণ্ড, খাড়ি(খাল), খাচা(খাঁচা),খাট(বেঁটে), খাটা(পরিশ্রম করা), খাড়া(লম্বালম্বি), খাতির(নিমিত্তার্থে), খাল, খামচি, খালি, খিজুর(খেজুর), খিল(অনুর্বর জমি- খিলক্ষেত), খিলি(খিলিপান), খুঁটি, খুচরা, খুড়া(কাকা),খেদ(খেদিয়ে দেয়া), খেপ(খেপ মারা), খ্যাপা, খোঁজ, খোদাই, খন্দক, গঙ্গা(গঙ্গা নদী), গছাও(গছিয়ে দেয়া), গড়(দুর্গ), গড়গড়া(হুক্কা), গবর(গোবর), গলা(কন্ঠস্বর), গোলা(গলা/কন্ঠা),গহনা(নৌকা অর্থে), গাদা(খড়ের গাদা), গিরা(গিঠ), গুতা, গুল(গোলাকৃতি), গোজা(কাঠে পেরেক, খোপায় ফুল), গোটা(সমগ্র), চট(জলদি), চমক, চরকা, চাখা(আস্বাদ নেয়া), চাঙ্গা, চাটা,চাপা(এক বস্তুর উপর অন্য বস্তু), চাহি(চাই), চেঙড়া/চেঙড়ি(বালক/বালিকা), চিমটা, চুটকি(ছোট), চুড়ি, চেঁড়ে(চিড়িয়া), চেলা, চেহারা, চোঙগা, চোপা, ছলক, ছাতি(বুকের), ছাকা(চালুনি দ্বারা), ছাপ, ছাল, ছালা, ছুকরি(সাঁওতালি অর্থ সাজুগুজু করা তরুণী, এ শব্দটি বাংলায় গৃহীত হওয়ার পর বাংলায় এর পুরুষবাচক ছোকরা শব্দের উৎপত্তি হয়েছে, যা সাঁওতালি ভাষায় নেই), জট(চুলের), জড়িবুটি, জমা(জমে দই), জাঃ(এই যাঃ ভুলে গেছি), জিরান(বিশ্রাম), জুড়ি(জুটি), জোট, জোত(জমি), ঝড়না, ঝাঁক, ঝাঁকা, ঝাঁটা, ঝাড়, ঝাঁপ, ঝানু, ঝাপসা, ঝাল,ঝিল, ঝুটি, ঝুড়ি, ঝগড়া, টলা(নড়বড়), টিকলি, টিপ, টুকরা, টুকু(এইটুকু, এতটুকু), টুপি(মাথার আবরন অর্থে), ঠ্যাটা, ঠক(ঠগ), ঠোঁট, ঠাহর, ঠাকুর, ঠাট্টা, ঠিক, ঠেকা, ঠেলা,ডাল(গাছের), ডাক(আহবান), ডাকু, ডাঙ্গা, ডোঙ্গা, ডালা, ঢল, ঢাক, ঢাকনা, ঢাল, ঢালু, ঢিমা, তাড়ি, তোড়া(টাকার, ফুলের), থলি, থুতনি, দৌড়, দাই, দাদা(বড় ভাই), দান(খেলার),দেদার(অজস্র), ধমক, নাড়ী, নাম(অবতরন), নিঝুম, নিরালা, নুনু(শিস্ন), পগার, পাগল, পাঁঠা, পাল্কি, পাল(গরুর পাল), পেট, পঁচা, ফালতু, ফুঁ(ফুঁ দেওয়া), বাবু, বালি, বিঘা, ভাণ্ড, ভিটা,ভিড়, ভোটকা/ভুটকি(বেঁটে মোটা), ভুঁড়ি, ভুল, মুদি, মেটা(মিটে যাওয়া), মেলা(অনেক), ময়লা, মোচড়, মোট(সব), মোট(কুলি), মোটা, রগড়, নড়া, লাগা(পিছে লাগা, কলহ করা), লুচ্চা,সড়ক, সারা, সিধা, সিঁদ, সুবিধা, সে(সে তো বোঝাই যাচ্ছে, সে আমি বুঝেছি),

শব্দদ্বৈতঃ খুটখাট, খাটাখাটি, খোলাখুলি, গম্ গম্, গালগল্প(গাল শব্দটি সাঁওতালি, এর অর্থ গল্প), গিজগিজ, ঘ্যানঘ্যান, চকমক, চটপট, চমচম(সাঁওতালি অর্থ দ্রুতগতিতে, এই নামের মিষ্টান্নের নামকরনের কারন হলো তা দ্রুতগতিতে খাওয়ার আগহ জন্মে), চাপচুপ(ঈষৎ পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় চুপচাপ), চিপাচিপি, চুরমার, ছপছপ, ছিছি, জবজব, জানে তানে(যেন তেন), ঝনঝন, ঝমঝম, ঝরঝর, ঝলমল, ঝিকিমিকি, ঝুমুর ঝুমুর, টলমল, টুকরা টাকরা, টানাটানি, টিপটিপ, ঠকঠক, ঠনঠন, ঠাস ঠাস, ঠিকঠাক, ডগমগ, ডলাই মলাই, ডামাডোল,তড়িঘুড়ি, তরি তরকারি, থরথর, ধকধক, ধরফর, ধমকাধমকি, মোটামুটি, রগড়া রগড়ি, রঙ বেরঙ, সুরসুর।

উল্লিখিত সকল শব্দই প্রমিত বাংলায় ব্যবহৃত সাঁওতালি শব্দ। অধ্যাপক ক্ষুদিরাম দাসের অভিমত অনুযায়ী বাংলা ভাষায় এখনও যে সকল সাঁওতালি শব্দরাজি ব্যবহৃত হয়, তার সংখ্যা কম করে হলেও দশ-বার হাজার, তবে তার অধিকাংশই ব্যবহৃত হয় আঞ্চলিক বাংলায়। আমাদের অগ্রজ শব্দসৈনিকেরা বাংলা সাহিত্যে সংস্কৃতজাত শব্দসমূহকে অতি মাত্রায় অগ্রাধিকার দিতে যেয়ে আঞ্চলিক বাংলার শব্দসমূহকে অকাতরে বিসর্জন দিয়েছেন, ফলে এ ভাষার মূলগত অনেক শব্দই হারিয়ে গেছে চিরতরে। এখনও যে গুলো টিকে আছে বৃহত্তর বাংলার বিভিন্ন প্রান্তরে,সে সবও ক্রমে ক্রমে বিলুপ্তির পথে এগিয়ে চলেছে। নানা গবেষণা থেকে এটাই বলা যায় –“সংস্কৃত ভাষা বাংলা ভাষার জননী” – এই জাতীয় মিথ একেবারেই মিথ্যা বা প্রবল অতিকথন। বাংলা ভাষার কুলজী বিচারে আমাদের ফিরতে হবে সাঁওতালি প্রভৃতি মুণ্ডা/কোল ভাষার দিকেই।

বিশিস্ট সমাজসেবী নরেন হাঁসদা-এর ঝমুর গান

“ভয়েরও কোন কারন নাই আর ভাবনা চিন্তারও কোন কারন নাই, জখন জন্মেছি বাবু মরতেই হবেক একদিন…” – এই কথা বলে বিশিস্ট সমাজসেবী নরেন হাঁসদা শুরু করেছেন আজকের ঝমুর গান,

“জাকর ঘুগি তাকর মাছ; মিছায় কর সাত পাচ

এই রিজ ফুর্তি করো মনের শূখে; মনরে বেহুঁশ হলে ঘিরে লিবেক তকে||

ভালঘাটে জল লিবি; ভাল করে ছানে খাবি, ছানে খাবি…………………………||”

« Older Entries