সংস্কার

এই মধ্যে বসন্ততে এসেই
প্রকৃতি হারিয়েছে তার খেই।
চলন হয়েছে তার খামখেয়ালী পনা ,
তাতেই সকলের হচ্ছে দোনা মনা।
ঝড় বৃষ্টি দেখে, মন বলে একি
বৈশাখ, জৈষ্ঠ্য মাস নাকি !!
চেনা শহরও আজ লাগে অচেনা,
নেই কোন ভিড়, মানুষের আনাগোনা।
গাড়ি ঘোড়ার আওয়াজের রেশ
নেই সেদিনের কোলাহলের রেশ,
একি হলো! ছিলতো বেশ।
এই গরমেও নেইকো দেখা
সেই সরবত বিক্রেতাদের খদ্দের ডাকা।
রাস্তার ধারে সারে সার দেখি,
বোতল বন্দী করা ঘোলা জল নাকি!
না! এতো দেখি জল নয় আস্ত গো – মূত্র,
আজকাল দেখা যাচ্ছে যত্র তত্র।
কোনটার গায়ে লেখা জার্সি,
তো কোনটার গায়ে লেখা দেশী।
গোশালার সেই গো – মূত্র তুলে পটাপট
এখানে এনে বিক্রিও হচ্ছে ঝপা ঝপ।
দামটা যদিও না হোক না নগণ্য,
এটাই নাকি ‘ করোনাতে’ অনন্য।
করোনার ভয়ে আজ মানুষও হয়েছে অন্ধ
দুদিন আগে যে গোবরে ছিল দুর্গন্ধ,
সেই গোবরে ই আজ নেই কোন গন্ধ।
গায়েতে গোবর মেখে বাবুরা করেন আনন্দ
যাদের হাতে স্যানিটাইজার জীবন যে নিরানন্দ।
গোবর দিয়ে স্নান করা , হয় না এটা কুসংস্কার
উচ্চবর্ণের কাছে এটাই নাকি শুভ সংস্কার।
তাদের কাছে এটা নাকি ঔষধী
‘ করোনার ‘ জন্য প্রচলিত মহৌষধী।
নাম টাও আজ ফেলেছে পাল্টে
কাও প্যাথি নামে আজ সকলেই ডাকে।
বুদ্ধিমানেরা করেন যেটা
খাঁটি ও আসল তো হয় সেটা।
বিজ্ঞান আজ দেখেও যে সেটা দেখেনা,
বাবু ভায়াদের তো আর কুসংস্কার হয় না !
নিম্ন জাতীরা করেন যাহা
থাকুক না সেটাতে বিজ্ঞানের ছোয়া,
নিম্ন জাতীর সেই সংস্কার
সকলের কাছেই হয় সেটা কুসংস্কার।
ছি! ছি! রবে চারিদিকে শোরগোল পড়ে,
সাংবাদিকের ক্যামেরার ফোকাস পড়ে।
ছুটে যায় বিজ্ঞান মঞ্চ, ছুটে যায় সরকার
বলে ওঠেন এই অনাচার দূর করা দরকার।
বাবুরা করেন যেটা সেটাই তো আচার,
অন্যরা করলেই সেটা অনাচার।
গো – মূত্র পান করা, গোবর গায়ে মাখা,
হাতে মঙ্গল সূত্র বাধা, কপালে তিলক কাটা,
দূর করে দিতে কি পারে করোনার কাটা???
সত্যিই আজব কি সেই বাবুদের সংস্কার।।

        রিমিল