কবিতা – সেই রাত

কবিলক্ষণ কিস্কু

বাতায়নপারে শোভমানা পূর্ণ শরতের চাঁদ
ঝর্ণার মধুর বুক স্নিগ্ধ-আলোয় মাখা নিখাদ,
বদ্ধ দুই তির মৃনাল বাহু কাশফুলে ঢাকা–
রূপবতী কন্ঠহারে পদ্মরাগ আঁকা
অলকে আলোক দ্বীপ্তি বর্ধিত শোভা
অপরূপা পরীর মতো যাচ্ছে দেখা।

ঝর্ণার তিরে ঝর্ণা মুক্তোভরা পর্ণা
গন্ধ-ভরা তনু কেয়া ফুল ভিনু
আভরণ অবনমন হাঁটুর পরে
উষ্ণ উন্মাদনা অল্পে ধীরে ধীরে
সাগর মন্থন হৃদয়ে গ্রন্থন
থরথর কাঁপি উধর মধুর সিঞ্চন।

পূর্ণিমারাতের উচ্ছলতায় মহোৎসব ধায়
আপন হাতে পূর্ণ পরশ রাখল সোনার থালায়।
চিন্তন উধাও সারা রাতি মিটি মিটি জ্বলে বাতি
আলোক রেখায় আঁধার স্থির যেন সিক্ত তৃপ্ত ছাতি।
‘ওঠ প্রেমিকা আমার, হে কনক সুন্দরী
স্বর্গ মোর! প্রভাত ভোর ওগো, পরী। ‘

পক্ষবিহীন উড়ে চলে মন, সেই রাতে
স্বপ্নভেজা জ্যোৎস্না আভা নি:সম্বিতে,
আধো আধো জাগরণ চিকচিক বালুচরে
মন যায় উড়ে উড়ে রাখালী বাঁশির সুরে–
ঝর ঝর ঝর্ণা কুলু কুলু ভাষে কাছে ডাকে
পূর্ণিমার সেই রাত ছায়াঘন লিপ্ত মোর বুকে।