কবিতা – ভিখারিনী

কবি – লক্ষণ কিস্কু

না পড়া চিঠি
এক জীবন কাঠি।
পৃথ্বী পানে তাকাও চোখ তুলে
ভিখারিনী চলে পথ ভূলে
মাঝিহীন নৌকা যেরূপ চরাচরে
অথৈ সাগরে বুক চিরে।
স্বপ্ন ভেজা নয়ন জলে
অতীত ভেঁসে ভেঁসে চলে।

বাপ মরা ছেলে
মানুষ করবে বলে
সারাটি জীবন হাড় খাটুনি
কখনো কোন বায়না অপূর্ণ রাখেনি।

ছেলে, আজ মস্তবড় অফিসার
বৌ নিয়ে নতুন ঘরে চলে অভিসার।

ছিন্ন সব মায়া বন্ধন
জীর্ণ কুটিরে মায়ের ক্রন্দন।

বয়সের ভার, বইতে পারেনা আর
শক্তি নেই পরের ঘরে কাজ করার।

ডেকেছিল সেদিন বেনু
দুইবার লাগি ধেনু,
পাঁজর ঘরে লাথি খেয়ে
সব দুধ গেল গঙ্গা বয়ে।

আজ হাড়ভাঙা বুড়ি
লাঠি হাতে থুড়থুড়ি
ভিক্ষা মাগে পড়িমরি
একান্তে চোখের জল ঝরি!

তাড়ি’দেয় সবে দূরদূর করে —
সারাটি দিন ঘুরে ঘুরে
পড়েনি একমুঠো অন্ন,
এখন তো অপরাহ্ন
পাখীর দল চলে নিজ নীড়ে
ফিরে যেতে হবে, আঁধার ঘরে।
ভিরমি খেয়ে পথের ধারে
ভিখারিনী গড়াগড়ি করে।

মানবতার বুকে মায়া জাগে —
‘বলবে বুড়ি, যদি কিছু লাগে।’
পথিকের কথা শনে ডুকরে কাঁদে —
‘কেন নেই মমতা আমার ছেলের হৃদে? ‘

এইতো সেদিন ভিড়ের মাঝে
ছেলে-বৌ, নাতি বাবুয়ানা সাজে
চলেছে আপন পথে —
চোখ না তুলে, ভিখারিনীকে
একটি পয়সা দিল ছুঁড়ে
মলিন জীর্ণ বসন– ক্রোড়ে।

ছোট্ট শিশু পিছু ফিরে
বারে বারে হাত নাড়ে,
প্রশ্ন জাগে মনে
জিঞ্জাসি সেই ক্ষণে,
মা — মা– ওকি নিরুপায়ী
বাবা– বাবা– ওকি ভিখারিনী!!