কবিতা- পেয়েছি

নরেন্দ্রনাথ হাঁসদা

ক্ষণিকের জন্য পূজা-অর্চনা শোনা গেল,

আশেপাশে বাতাসের মধ্যে

ছড়িয়ে পড়লো পূজার্ঘ্যর গন্ধ।

সুশোভিত গন্ধে তাই জড়িয়ে গেল মনটাও,

এমন সময় লুটিয়ে পড়লো পায়ে;

গোলাপ মুখী সুন্দর ছোট্ট একটি মেয়ে।

ছোট্ট মেয়ে! নাম জিজ্ঞাসা করিলাম—

নাম -কৃষ্ণকলি।

আরো জিজ্ঞাসা করে দেখলাম কি ব্যাপার? হঠাৎ এরকম ভাবে!

মেয়েটি বললো একটুখানি প্রণাম,

আপনার পায়ের ধুলো নিলাম।

কিন্তু অসময়ে, এমতাবস্থায় কেন?

আমি তো তোমাদের কাছেই আছি,

আমি কি কোথাও চলে যাচ্ছি?

সত্যিই আমার ভয় হয়েছিল —

কেননা আমার আয়ু সেখানে কম ছিল।

মনে হলো, এই শেষ হলো কিন্তু না—

পেলাম এক গর্ব করার বিষয়,

‘স্যার আপনাকে খুবই ভালো লাগে তাই—‘

সিউরে উঠলাম গর্বে , ক্ষণিকের জন্য চোখ দুটি ছল ছল হয়ে উঠলো।

তারপর , পৃথিবীকে সত্যিই ঘুরতে দেখলাম,

ঝাপসা হয়ে এল সামনের যা কিছু ছিল;

হঠাৎ শুধরে নিলাম।

সত্যি মনে হল পেয়েছি,

যা আমার চাওয়ার ছিল —

এর থেকে আর বেশি কি?

শিক্ষক হিসাবে ভাল লেগেছে তারে

এর থেকে গর্ব কি?

তাই মনে হয়েছিল থাকসে,

সেই চাকুরির ফল–

যত সব বড় মানুষের ছল।

আমি এই শপথ করি,

চিরদিন যেন সকলের কাছে

ভালো হয়েই থাকতে পারি।