দক্ষিণ বাঁকুড়ার সাঁওতাল কবির বাংলা কবিতা

ত্রয়োদশপদী কবিতা – প্রেমসাগরে খেলবি যদি আয় কবি- লক্ষণ কিস্কু

প্রেম সাগরে খেলবি যদি আয়রে
ছুটে ছুটে আয়, ভব নদীর তিরে
বুকচেরা তটিনীর পরশ বনে
লাগিবে ভালোবাসা ছোঁয়া, কচি মনে
মোরাল-মোরালী হাঁটু জলে দু’জনে
জলকেলি খেলিব মোরা এই ক্ষণে
সাবধানে নামিও নীল দরিয়ায়
নিও প্রেমের কলস নিজ হিয়ায়,
নদীতে জোয়ার আছে, সাগরে ঢেউ
ভাটার টানে জীবনতরী বাইও।

শাখায় ভরা ফুল দুলবে দোদুল
তোমাতে আমি মিলন বীথি, আকুল
পরাণ চেয়ে আছে নতুন সকাল।

কবিতা:- একটি প্রদীপ কবি:- লক্ষণ কিস্কু

বাঁচাও বাঁচাও রক্ষা করো
ওহে আমার দেব
দেখতে পাওনি রুটির লাগি
কাটি আমি জেব।
পুলিশ পিছে জেলর খোঁজে
ডাকছে ঘুঘুর ফাঁদ
আকাশ হতে মিটিমিটি
চাহে তারা রাত।
মানব পিতা লুকায় আমায়
একটু খানি বন
ক্ষুব্ধ শাসক রুদ্র মূর্তি
মুক্ত মহা রণ।

তবু আমি চুরি করি
রোপ্য ক্যন্ডল দীপ
যদি ঘরে আসে আলো
অভাব হবে চুপ।
পুলিশ ধরে পিতার ঘরে
বাঁধল পিছে মুড়
দিতে যাবে উত্তম মধ্যম
পিতা বলে ছাড়।
চুরি করেনি সে, আমি
ছেড়ে দিলে ডাকাতকে
শত শত প্রণাম ঠুঁকে।

অন্তর হতে মানবতা ডাকে
চুরি ছাড়ে মন
একটি প্রদীপ জীবন দীপ
পাল্টে দিল জীবন।

কবিতা- মাটির মানুষ কবি লক্ষণ কিস্কু

মাটির মানুষ মাঠে ঘাটে, আনন্দে দিন কাটে
ছোট ছোট ছেলে মেয়ে মন দেয় নিজ পাঠে।
চাষী দলে দলে লাঙল লয়ে চষে পোড়া মাটি
বুক ভরা আশা, ফলবে সোনার ফসল খাঁটি।
বারমাস রৌদ্রে মাথা পেতে ওরা করে কাজ
ওঠে রামধনু ঘাম ভেজা তনু মলিন সাজ।
ছোট ছোট চারা গাছ মহিরুহ আজ
ফুলে ফলে ভরা তরতাজা বিরাজ।
লোহিত রক্ত বিন্দু বিন্দু চাষীর শস্য সিন্ধু
মানুষ মানুষের তরে প্রকৃত মানব বন্ধু।

সমুদ্র নিংড়ানো নূড়ি প্রতি শস্য কণা
মানব উদর লাগি গড়ি যেন, দেব দানা।
চিরকাল চাষীর পাঁজর পায়নি পানি থল
বারে বারে মাথা কুটে, ভাঙে নিজ হাল।
মাটির মানুষ ফুলের হাঁসি পরের তরে
উদিবে কবে প্রভাত ভোর চাষীর ঘরে!!

কবিতা:- না জানা কথা বিঞ্জাপনে কবি:- লক্ষণ কিস্কু

শিক্ষার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি
ঠুঁটো জগন্নাথ শিক্ষাজগতে আমি
ভাবি আমার মুখ দেখাব সঙ্গোপনে
পারিনি, মুখ ঢেকে গেছে বিঞ্জাপনে।
দু’একটা মোলায়েম কথা
নেট দুনিয়ায় দেয় ব্যথা
অরণ্যের মতো ঝলসে গেছে মুখ
এ রাষ্ট্রে আমি এক অভাগা শিক্ষক।
জীবনের প্রথম পরীক্ষায় ধক ধক বুক
বিদ্যাঙ্গনে কচি কচি হাঁসিমুখ

জীবনের প্রথম পরীক্ষায় ধক ধক বুক
বিদ্যাঙ্গনে কচি কচি হাঁসিমুখ
আজ বিলীন সেই সুখ
বিদ্যালয়ে মুখ ঢাকে শিক্ষক।
অভিভাবকের প্রশ্নবানে জর্জরিত যুধিষ্ঠির
ছাত্র-ছাত্রীর দল পেয়েছে শিক্ষার ক্ষীর
শিক্ষক, তুমি কিছুই জাননা
রেজাল্ট পেয়েগেছি নেট থেকে।
বিকিয়ে গেছে চোখের চাওয়া
ছিন্ন তব দেওয়া নেওয়া

নতুন পথে গান গাওয়া

আজ, শিক্ষা পন্য পাওয়া।।

 

কবিতা:- শুধু তুমি কবি:- লক্ষণ কিস্কু

ধরার বুকে আজকে তুমি
বরেণ্য বরাভয়
বন্ধু তুমি কোথায় আছ
জানতে ইচ্ছে হয়।
ফুলের পাঁপড়ি ধূপের গন্ধ
তোমাতে আমি লয়
সাগর পারে দ্বীপের মতো
জীবন আমার ক্ষয়।
ভাবের সাগরে উথাল পাথাল
স্বপন কথা কয়
হালকা হাওয়া গানের কলি
কন্ঠে আমার রয়।
পদ্মা পারের শালুক দিঘি
রোদের কিরণ কয়
আয়লো আমার পরাণ মাঝে
নদীর মতো বয়।
শুধু তুমি দূরে দূরে
জানতে ইচ্ছে হয়
মিলবে কবে আমার সাথে
হচ্ছে আমার ভয়।