অবহেলিত সাঁওতালি মাধ্যমের শিক্ষা ব্যবস্থা

২০০৮ সাল থেকে ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সাঁওতালি মাধ্যমে পঠন-পাঠন শুরু হয়। ২০১৮ সালের সাঁওতালি মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীরা বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকা না থাকা সত্বেও এবং যথা সময়ে পাঠ্যপুস্তক না পাওয়া সত্বেও মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৯৪.৬১ শতাংশ হারে উত্তীর্ণ হয়।
২০২০ সালের সাঁওতালি মাধ্যমে বিজ্ঞান বিভাগ ও কলা বিভাগ দুই মাধ্যমে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক শিক্ষিকা না থাকা সত্ত্বেও এবং যথা সময়ে পাঠ্যপুস্তক না পাওয়া সত্বেও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৯৭.২০ শতাংশ হারে ১৪৩ জনের মধ্যে ১৩৯ জন। এরপর এই ১৩৯ জন ছাত্র-ছাত্রী সাঁওতালী মাধ্যমেই বিভিন্ন বিষয়ে BA BSC তে ভর্তি হবে। কিন্তু, কলেজে সাঁওতালী ভাষায় সকল বিষয় পড়ানোর জন্য প্রফেসর নেই। তাহলে কলেজেও কি ঐ সাঁওতাল সমাজসেবকরাই কোচিং ক্লাস করে পাঠদান করবে??
ভাবলে সবারই আশ্চর্য লাগার কথা। কিন্তু না; এরা তো সাঁওতাল, এরা আদিবাসী। এই সাঁওতালরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হলে ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাবে অ-আদিবাসীদের একনায়কতন্ত্র, ধীরে ধীরে সকল সাঁওতাল এলাকার বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়গুলি পরিবর্তন হয়ে যাবে সাঁওতালী মাধ্যমে। ওখানে তখন সাঁওতালী জানা প্রচুর শিক্ষক ও প্রফেসরের প্রয়োজন তারপর শুরু হবে সাঁওতাল সাম্রাজ্যের বিস্তার। এই রকম পরিবর্তন হতে দেওয়া যাবে না। এরকমই হয়তো সরকারের মন্ত্রী-আমলারা চিন্তাভাবনা করছে, এই জন্যই হয়তো নির্বাচনের পূর্বে স্পেশাল রিক্রুটমেন্ট এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল কিন্তু নিয়োগ সম্পন্ন করেনি। যদি সরকারের শীর্ষ কর্তাদের এরকম চিন্তাভাবনা না থাকত তাহলে ২০০৮ সালে সাঁওতালি ভাষায় পঠন পাঠন শুরু করার পর আজ ১২ বছরের মধ্যে শিক্ষার উপযুক্ত পরিকাঠামোতে অন্যান্য সকল মাধ্যমের মতো সাজিয়ে দেওয়া হতো।
যাইহোক রাজ্য সরকার শিক্ষক নিয়োগ করুক আর না করুক কিন্তু সাঁওতালি ছাত্রছাত্রীরা সকল প্রকার উচ্চশিক্ষায় ডিগ্রি অর্জন করবে এবং একদিন শুধু সরকারের পরিবর্তন নয় পুরো পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তন হবে শুরু হবে সাঁওতাল নবজাগরণ।