জম্মু-কাশ্মীরের উপ-রাজ্যপাল গিরিশচন্দ্র মুর্মু ইস্তফা দিলেন, কিন্তু কেন ??





ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের বর্ষপূর্তির দিনে জম্মু-কাশ্মীরের উপ-রাজ্যপাল গিরিশচন্দ্র মুর্মু ইস্তফা দিলেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে বুধবার সন্ধ্যায় তিনি ইস্তফাপত্র কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠিয়েছেন।

বুধবার সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া এবং জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন মহলে উপ-রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া গিরিশচন্দ্র মুর্মু কে নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। তবে সারাদিন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে রাজ্যপালকে। দুপুরে এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সেনা বাহিনীর কমান্ডার লেফটেনেন্ট জেনারেলের সঙ্গে বৈঠক করেন উপ-রাজ্যপাল। যদিও এই বিষয়ে রাজভবন, কেন্দ্র বা স্বয়ং গিরিশচন্দ্র মুর্মু এখনও পর্যন্ত মৌণ আছেন।





খবরে প্রকাশিত , সম্প্রতি একাধিক বিষয় নিয়ে জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম উপ-রাজ্যপাল গিরিশচন্দ্র মুর্মু্র সঙ্গে কেন্দ্রের বনিবনা হচ্ছিল না। ২০১৮ সাল থেকে জম্মু-কাশ্মীরে ভোট থমকে আছে। রাজ্যের মর্যাদা হারানোর পরে সেখানে প্রথম বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বর্ষীয়ান এই প্রাক্তন আইএএস অফিসার যে পথ নিয়েছিলেন তা কেন্দ্রের পথের সঙ্গে মিলছিল না। আসন পূণর্বিন্য়াশ না হওয়া পর্যন্ত বিধানসভা ভোট স্থগিত রাখার পক্ষে ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের উপ-রাজ্যপাল। ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে তাঁর এহেন মন্তব্যে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল ভারতের নির্বাচন কমিশন; যা একেবারেই নজিরবিহীন। তাতে নাকি অসন্তুষ্ট ছিল কেন্দ্র সরকার।





তাছাড়া ভূস্বর্গে 4জি মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়েও গিরিশচন্দ্র মুর্মুর নেতৃত্বাধীন জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের সঙ্গে নয়াদিল্লির মতের মিল হচ্ছিল না। নিরাপত্তার কারণে কেন্দ্র বিষয়টি নিয়ে ধীরে চলার পক্ষে থাকলেও হাইস্পিড ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর পক্ষে মত দেন জম্মু-কাশ্মীরের উপ-রাজ্যপাল। যা নিয়ে গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছিল। এই সমস্ত কারণে কেন্দ্রের রোষে ৩৭০ ধারা বাতিলের বর্ষপূর্তির দিনই জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম উপ-রাজ্যপালের ইস্তফার ঘটনা বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারনা।