Monthly Archives: August 2020

বীরহড় কন্যাদের গান ও অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম এর কথা

লিখেছেন ডঃ জলধর কর্মকার

আমাদের ভারতবর্ষে যে 75 টি আদিম জনজাতির মানুষজন আছেন তাদের মধ্যে তিনটি আছেন আমাদের পশ্চিমবাংলায় তারা হলেন বিরহড়, লোধা শবর এবং জলপাইগুড়ির টোটো। পুরুলিয়া জেলার আদিমতম জনজাতিরা অবলুপ্তপ্রায়। পুরুলিয়া জেলায় এদের সংখ্যা…।





এদের অবস্থান এখন অযোধ্যার পাদদেশে এবং বলরামপুর এবং এবং ঝালদা এক নম্বর ব্লকে এরা সম্পূর্ণরূপে অরণ্যচারী যাযাবর জাতি এদের মধ্যে একমাত্র জীবন জীবিকা ছিল বনের কেন্দ, পিয়াল ইত্যাদি ফলমূল, কন্দ জোগাড় করে খাওয়া, নদীর মাছ ধরা, লতা থেকে দড়ি তৈরি করা এবং পশু শিকার করা ছিল এদের জীবন জীবিকা। চাষবাস এরা একেবারেই জানতো না বল লেই চলে, এখন যদিও কিছু কিছু চাষবাস করছে।





ইদানিং এদের মধ্যে লেখাপড়ার একটা চল দেখা যাচ্ছে এবং প্রথম বীরকন্যা জানকী শিকারি যিনি এই বছর ধস্কা পন্ডিত রঘুনাথ মুরমু আবাসিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করলেন এবং মাধ্যমিক পাস করলেন জবা শিকারি। এছাড়া এই বিরহড় সন্তানদের মধ্যে কাঞ্চন শিকারি ও সিতারাম শিকারি কয়েকবছর আগে তারা উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন শুশুনিয়া একলব্য মডেল হাইস্কুল থেকে এবং আরো কয়েকজন পড়াশোনা করছেন। এই সমস্ত এই সমস্ত বিরহড়রা অবলুপ্তপ্রায় জাতি এবং এদের ভাষা-সংস্কৃতি অতিদ্রুত সাঁওতালি বা মুন্ডারি দের গর্ভে বিলীন হতে চলেছে। এই বিরহড়রা আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী জাতি তাদেরকে বাঁচিয়ে রাখাটা আমাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।





বিরহড় কন্যারা যে গানটি গেয়েছেন সেটি হল, আলে দলে বিরহড়………

বিশ্ব আদিবাসী দিবস ও বর্তমান আদিবাসী সমাজ

আজ ৯ই আগস্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবস। বিশ্বের আদিবাসী জনগণের অধিকার সংরক্ষণ এবং সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ৯ই আগস্ট বিশ্ব আদিবাসীদের আন্তর্জাতিক দিবস পালন করা হয়। এই ইভেন্টটি পরিবেশ সংরক্ষণের মতো বিশ্বের সমস্যাগুলি উন্নত করতে আদিবাসীদের কৃতিত্ব ও অবদানকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন কর্তৃক এটি প্রথম উচ্চারিত হয়েছিল। সারা বিশ্বের আদিবাসীরা আজকের দিনটা খুব উৎসাহের সঙ্গে পালন করে আসছে। আদিবাসী বলতে কাদের বোঝায় বা আদিবাসী বলতে আমরা কাদের বলব? আদিবাসী কারা এটা এক কথায় প্রকাশ করা বা বলা সম্ভব নয় জাতিসংঘ একটা কার্যকরী সংজ্ঞা বলেছিলেন তা হল, ”আদিবাসী জনগোষ্ঠী জাতি এবং জাতি গুলি হল,যেগুলি প্রাক আগ্রাসন এবং প্রাক-ঔপনিবেশিক সমাজগুলোর একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা যা তাদের অঞ্চলগুলিতে বিকশিত হয়েছিল,সে অঞ্চল গুলিতে তাদের কিছু অংশে বিরাজমান সমাজের অন্যান্য খাত থেকে নিজেকে আলাদা মনে করে। তারা বর্তমানে সমাজের অপ্রভাবসালী খাত গঠন করে এবং তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির নিদর্শন অনুসারে জনগন হিসেবে তাদের অবিচ্ছিন্ন অস্তিত্বের ভিত্তি হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাদের পূর্বপুরুষের অঞ্চল এবং তাদের জাতিগত পরিচয় সংরক্ষণ, বিকাশ এবং সংক্রমণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা,সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে।”

অর্থাৎ বলা চলে উন্নত সভ্যতার গঠন হওয়ার পূর্বে যে সমস্ত জাতি বসবাস করত যাদের নিজস্ব ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি অন্যদের চেয়ে অনেক আলাদা ও স্বতন্ত্র, যারা নিজের সমাজের অস্তিত্ব রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং উন্নয়নশীল সমাজের থেকে অনেক দূরে, জল জঙ্গল,পাহাড়ে যাদের বাস তাদের কেই আমরা আদিবাসী বলতে পারি। এই আদিবাসীরা হলো দেশের একমাত্র আদিম অধিবাসী। আজকের আধুনিক সমাজের জনক সেই আদিবাসী,যাদের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হয় নিজের সংস্কৃতি,ধর্ম,পূজা পার্বণ। বন জঙ্গল যাদের প্রাণ, এই প্রকৃতি তাদের দেব স্থান, যারা হলেন প্রকৃতির পূজারী তারাই হলো আদিবাসী। এই আদিবাসীরা যুগ যুগ ধরে নানা রকম ভাবে শোষিত, বঞ্চিত,নিপীড়িত এক জাতি। যাদের কে বার বার করে তাদের বাসস্থান পাল্টাতে হয়েছে অত্যাচারী শাসকের জন্য। এই আদিবাসীরা আজকের দিনও শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত এক জাতি। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই আদিবাসীদের বসবাস দেখাযায় কমবেশী।

আমাদের ভারত বর্ষে ১০ মিলিয়নের চেয়েও বেশি আদিবাসী বসবাস করছেন। এই আদিবাসীদের মধ্যে আবার অনেক জাতি আছে যাদের ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ভিন্ন ভিন্ন । সাঁওতাল জাতি তার মধ্যে এক উন্নত আদিবাসীদের মধ্যে একটা জাতি। যাদের মাতৃ ভাষায় শিক্ষালাভ এর সুযোগ আছে। আদিবাসী সম্প্রদায় গুলি ইতিমধ্যে প্রচুর বাধার সম্মুখীন হয়েছে এবং দুর্ভাগ্যজনক বর্তমান বাস্তবতার ই হচ্ছে যে COVID-19 এর প্রভাব এখন এ বাধাগুলোকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আদিবাসী সম্প্রদায়় গুলো ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যসেবা গুলিতে সঠিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত,রোগের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধির হার, প্রয়োজনীয় পরিষেবা গুলোর অভাব স্যানিটেশন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যেমন পরিষ্কার জল জীবাণুনাশক ইত্যাদি। এমনকি আদিবাসীরা যখন স্বাস্থ্যপরিসেবা পেয়ে থাকে তখনো তাদের বিভিন্ন অপমানজন ও বৈষম্যের শিকার হতে হয়। মূল বিষয় হলো আদিবাসীদের নির্দিষ্টট পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত হিসাবে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় আদিবাসী ভাষায় পরিষেবা এবং সুযোগ-সুবিধা সরবরাহ নিশ্চিত করা। এছাড়াও শিক্ষাক্ষেত্রে আদিবাসীদের সমস্ত রকম সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যাতে তারা নিখরচায় শিক্ষা লাভ করে তাদের জাতিকে উন্নয়নের মূল স্রোত এ নিয়ে আসতে পারে তার জন্য সকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে।

এছাড়াও আদিবাসী যাতে মাতৃভাষায় পড়াশোনা করতে পারে তার ব্যবস্থাাা করা প্রয়োজন। আদিবাসীরা প্রায় সকলেই অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করে তাদের সংসার চালান। অনেক ক্ষেত্রে মহিলারা সংসারেেের হাল ধরেন। বন থেকেে শুকনো কাঠ পাতা আরোহন করে রোজগার করেন। ভারতবর্ষে অরণ্যযবাসী আদিবাসীদের অরণ্যের অধিকার আইন ২০০৬ কে সংশোধন করার মাধ্যমে আদিবাসীদের জীবনযাত্রাকে এক চরম সংকটের মুখে ঠেেলে দেওয়া হয়েছে। সাঁওতাল পরগনা টেনান্সি অ্যাক্ট ছোটনাগপুর টেনান্সি অ্যাক্ট বাতিল করার মাধ্যমে সাঁওতাল তথা আদিবাসীদের জমির উপর সরকার থাবা বসাতে চলেছে। বড়় বড় শিল্পপতিদের হাতে অরণ্যের অধিকার তুলে দিয়ে অরণ্য ধ্বংস করার একটা চক্রান্ত চলছে। সরকার আদিবাসীদের সংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ দেওয়া ও অরণ্যের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আদিবাসীদের প্রকৃত উন্নয়ন করার জন্য সচেষ্ট হতেে হবে। ভারতবর্ষে বিভিন্ন ভাষাভাষী আদিবাসী মানুষজন থাকলো সবাই কিন্তুুুু তাদের মাতৃভাষায় পড়াশোনা করার সুযোগ পায় না।

2003 সালের 22 শে ডিসেম্বর ভারতবর্ষের সংবিধানের অষ্টম তফসিলেে সাঁওতালি ভাষাা অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তি হওয়ার দীর্ঘদিন পর সাঁওতালি ভাষায়় পড়াশোনা চালু হয়েছে। বহু বঞ্চনার মধ্যে আজ এগিয়ে চলেছ। এই বার প্রথম উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য এখনো পর্যন্ত শুধুমাত্র একটি কলেজে দুটি বিষয়ের উপর অনার্স কোর্সে পড়ার জন্য অনুমোদন পেয়েছি। কিন্তুুু দুর্ভাগ্যের বিষয়় যখন অন্যান্য মিডিয়ামেের ছাত্র ছাত্রীরা আগামীকাল থেকে কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য অনলাইনে ফরম ফিলাপ শুরু করবে কিন্তু সাঁওতালি মিডিয়াম ছাত্র-ছাত্রীদের এখনো পর্যন্ত কলেজের নাম ও জানানো হলো না। জানিনা এভাবেে কি সরকার ভারত বর্ষ থেকে আদিবাসীদের চিরতরে মুছেে ফেলতে চায়? কিন্তু না, সরকার শত চেষ্টা করেও কিন্তুুু আদিবাসীদের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে পারবে না। এই আদিবাসীরাই একদিন ইংরেজদের গোলাবারুদের সামনে ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার জন্য বুক চিতিয়ে আন্দোলন করেছিলেন। একথা গর্বব করে বলতে বলতেে পারি ১৮৫৫ সালে হুল বিদ্রোহ সংগঠিত না করলে ভারতবর্ষের অন্যান্য জাতি ইংরেজদের হাত থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার জন্য আন্দোলনের কথা ভাবতেও পারতেন না। সেই আদিবাসীদেের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা একটা ঐতিহাসিক ভুল হবেই এবং তার জবাব কড়া হাতেই করা হবে। (সংক্ষিপ্ত)

ᱡᱮᱜᱮᱫ ᱡᱟᱠᱟᱛ ᱟ.ᱫᱤᱵᱟ.ᱥᱤ ᱢᱟᱦᱟ ᱫᱤᱥᱟ. ᱛᱮ

-ᱱᱚᱨᱮᱱᱫᱨᱚ ᱱᱟᱛᱷ ᱦᱟᱸᱥᱫᱟ

ᱱᱚᱣᱟ ᱥᱚᱥᱱᱚᱜ ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱨᱮᱱᱟᱜ ᱠᱟᱛᱷᱟ ᱩᱭᱦᱟ.ᱨ ᱠᱟᱛᱮ,
ᱟ.ᱫᱽ ᱵᱩᱱᱭᱟ.ᱫᱽ ᱨᱮᱱᱟᱜ ᱦᱚᱠ ᱟ.ᱭᱫᱟ.ᱨ ᱥᱚᱞᱚᱢ ᱞᱚᱴᱚᱢᱚᱜ ᱠᱟᱱᱛᱮ᱾
ᱚᱱᱚᱞᱤᱭᱟ. ᱟᱜ ᱢᱚᱱᱮ ᱵᱟᱝ ᱛᱷᱤᱨ ᱛᱟᱦᱮᱱ,
ᱥᱟᱶᱛᱟᱨᱮ ᱧᱮᱞᱚᱜ ᱠᱟᱱ ᱥᱟ.ᱨᱤ ᱠᱟᱛᱷᱟ ᱯᱟᱞᱮᱱ᱾
ᱡᱷᱟᱞᱠᱟᱣ ᱨᱟᱠᱟᱵ ᱜᱚᱫᱚᱜ ᱡᱷᱟᱨᱱᱟ ᱱᱚᱱᱚᱞ,
ᱟᱸᱠᱟᱣ ᱜᱚᱫᱚᱜ ᱚᱱᱚᱞᱤᱭᱟ. ᱟᱜ ᱥᱟᱢᱟᱱᱚᱢ ᱚᱱᱚᱞ᱾
ᱢᱟ.ᱱᱢᱤ ᱡᱤᱭᱚᱱ ᱨᱮᱱᱟᱜ ᱥᱟ.ᱨᱤ ᱚᱬᱦᱮ,
ᱚᱱᱚᱞᱤᱭᱟ. ᱫᱚᱭ ᱵᱮᱱᱟᱣ ᱜᱚᱫᱽ ᱚᱱᱚᱬᱦᱮ᱾
ᱟᱭᱳ-ᱵᱟᱵᱟ ᱫᱩᱞᱟ.ᱲ, ᱵᱚᱭᱦᱟ ᱫᱩᱞᱟ.ᱲ,
ᱡᱩᱨᱤ-ᱯᱟᱨᱤ ᱥᱟᱶᱛᱮ ᱜᱟᱛᱮ ᱫᱩᱞᱟ.ᱲ᱾
ᱧᱟᱢ ᱟᱜᱩ ᱜᱚᱫᱟᱢ ᱦᱮᱞᱠᱟᱣ ᱠᱟᱛᱮ,
ᱩᱭᱦᱟ.ᱨ ᱫᱚᱦᱚᱭᱟᱢ ᱡᱷᱚᱛᱚ ᱚᱛᱮ ᱥᱚᱛᱮ᱾
ᱵᱮᱲᱟ ᱨᱟᱠᱟᱵ ᱛᱟᱨᱟᱥ ᱞᱮᱠᱟ ᱟᱨᱥᱟᱞ,
ᱥᱟᱶᱛᱟᱨᱮ ᱱᱟᱯᱟᱭ ᱰᱟᱦᱟᱨᱮ ᱢᱟᱨᱥᱟᱞ᱾
ᱟ.ᱫᱤᱵᱟᱥᱤ ᱢᱟᱭᱟᱝ ᱨᱤᱞᱟ.ᱢᱟᱞᱟ ᱢᱟᱭᱟᱝ,
ᱟ.ᱫᱤᱵᱟᱥᱤ ᱡᱟᱱᱟᱢ ᱥᱟ.ᱜᱩᱱ ᱨᱮᱭᱟᱝ᱾
ᱥᱤᱧ ᱪᱟᱸᱫᱳ ᱦᱚᱸ ᱡᱩᱫᱤᱭ ᱤᱸᱜᱚᱞ-ᱰᱤᱸᱜᱚᱞ,
ᱮᱱᱦᱚ ᱢᱟᱭᱟᱝ ᱟᱢᱟᱜ ᱟᱞᱚᱢ ᱵᱚᱫᱚᱞ᱾
ᱫᱤᱥᱚᱢ ᱨᱮᱱ ᱟᱢᱜᱮ ᱥᱚᱨᱮᱥ ᱡᱟ.ᱛᱤ,
ᱡᱟ.ᱛᱤ ᱛᱟᱢ ᱟᱞᱚᱢ ᱪᱷᱤᱛᱤ ᱵᱤᱛᱤ᱾

সাঁওতালি মাধ্যম কলেজের দাবিতে পথ অবরোধ আপাতত স্থগিত রাখা হলো

আরসাল ডেস্কঃ ২০২০ সালের সাঁওতালি মাধ্যমে উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সাঁওতালি মাধ্যমের কলেজের দাবিতে ১০ আগস্ট ২০২০ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সাঁওতালি শিক্ষার অধিকার রক্ষা মঞ্চ বাঁকুড়া জেলা ব্যাপী যে পথ অবরোধ করার ডাক দিয়েছিল তা প্রশাসনের আশ্বাসে আপাতত স্থগিত রাখা হলো।

পশ্চিমবঙ্গ সাঁওতালি শিক্ষার অধিকার রক্ষা মঞ্চের সদস্যদের নিয়ে এক ভার্চুয়াল প্রস্তুতি মিটিং অনুষ্ঠিত হয় এবং দৃঢ় সিদ্ধান্ত হয় যে পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী 9 আগস্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবস এর মধ্যে যদি দুই হাজার কুড়ি সালের উচ্চ মাধ্যমিক ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্মারকলিপিতে উল্লেখিত বাঁকুড়া জেলায় এবং উচ্চ মাধ্যমিকে যে বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছে সেগুলোতে অনার্স কোর্স চালুর অনুমোদন না পায় তাহলে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। মঞ্চের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আবেদন করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এবং যদিও ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল এর পক্ষ থেকে ৭ আগস্ট ২০২০ তারিখে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এর সঙ্গে সাক্ষাতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে আগামী ১০ই আগস্ট সাঁওতালি মাধ্যমে স্নাতক স্তরে পঠন পাঠনের জন্য সরকারি অনুমোদন প্রকাশ করা হবে কিন্তু তাতে পশ্চিমবঙ্গ সাঁওতালি শিক্ষার অধিকার রক্ষা মঞ্চ সন্তুষ্ট নয় তাই ১০ আগস্ট সকাল সাতটা থেকে পথ অবরোধ করার ডাক দেওয়া হয়েছিল। গত 9 আগস্ট বাঁকুড়া জেলার প্রশাসকগন আশ্বাস দেন যে, ১০ থেকে 15 দিনের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হবে এবং বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলিতে সাঁওতালি মাধ্যমে পঠন পাঠন শুরু করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

সরেস জৗতি

”জেগেৎ জাকাত রেন সানাম অৗদিবাসী মুদরে সরেস অৗদিবাসী দ সান্তাড়গে”- কালিরাম মুরমু

জেগেৎ জাকাত অৗদিবাসী; পৗহিল ওপরোম দ খেরোয়াল
সানামখন সরেস আবো সান্তাড়, দেকো কাথাতে সাঁওতাল, সান্থাল
আবোগে বিহার বেঙ্গল আসাম ওডিসা ঝাড়খণ্ড এমানকোরে
ঝাটা চেতান হতৎ নৗড়িলেকা পাসনাও আকান তারাল বাসাল।
পাসনাও আকান ওপরোম আবোনাঃ ধৗরতি জাকাতরে ২০০২ সাল
সান্তাড়ি জাঁহায়াঃ পৗরসি ওনকো দ জৗতি সান্থাল।।


নিতোঃ দ আর বানুঃবোনা সেদায় লেকা ধিঁগৗল সাঁগাল
চরক চিঁকৗড় আকান পৗঞ্চি ব্লেজারতে সাজাওাকান আবো সান্থাল
নিতোঃ দ আর বৗনুঃবোনা সেদায় লেকা রেঁগেজ কাঁগাল
জাঁহানাঃ বাং জাঁহালেকাতেগে কেটেজ আকাদাবোন ঘারঞ্জ হাল।।
নিতদ আবোয়াঃ হঁ আনাক রে হরঃ বান্দে আটাল গঁডাল
ছাটকা রাচা অড়াঃ রে বৗনুঃ অঞ্জরা জবরা ঢাল ঢাল
এটাঃ অৗদিবাসীকো লেকা সরচ পটচ ঞাগাল ঞাগাল;
নিতদ আর বানুঃবোনা আবো ফুরগৗল সান্তাল।।

অড়াঃ দুয়ৗর সরেস গড়হন জেড়ের পতাওতে চিকন চকন
উসুল পিঁডৗ কঠা অড়াঃ উডুক বলন ধিরিগাড় লেকা ইলন গলন।


সাঁড়েসিয়ৗ সৗরিয়ৗড় উয়হৗরতে পেরেজ জমসিম বিন্তি সিরজন
মৗনমী সুসার অৗনৗরি লাকচার নেমাচার বোংগাবুরু ধরম করম
সানাম জৗতি খন আয়মা আয়মা সরেসানাঃ ধন।
আতো, পিড়, মুলুক, দিসোম তাঁহেন বাঞ্চাও তিনভোর ধৗরতি জিয়ন
মৗঞ্জহি পারগানা সুসৗরিয়ৗতে বাঞ্চাও লৗগিদ সাঁওতা
ফৗরয়ৗ দাঃ লেকা নিরড় সানাম কওয়াঃ অন্তর মন।


লোটা দাঃ ডবঃ জহার সরেস সিখনৗত সৗগৗয় মাপানাও
এনেজ সেরেঞ কুদুম কৗহিনী পেরেজ সান্তাড়ি অলঃ পড়হন
সাঁওতা খন সারাবেড়া সাহারে সিঁডৗং সিয়ৗজৗরি আভরন
বির বুরু দারে নৗড়ী জিব জিয়ৗলী ধরম ধেয়ানান করম
ধৗরতি দুলৗড়, মৗনমী দুলৗড়, সানাম জিওয়ী দুলৗড় খৗতির
ধৗরতিরে সরেস আকান সান্তাড় জৗতি সানাম অৗদিবাসী খন।।