দুর্গা প্রতিমা গড়তে বেশ্যা বাড়ির মাটি লাগে কেন? তাহলে মা দূর্গা কি বেশ্যা??

(১)
দুর্গা কি বেশ্যা ?
দুর্গা প্রতিমা গড়তে বেশ্যা বাড়ির মাটি লাগে কেন?






শতাব্দীর প্রাচীন প্রশ্ন এটা। দিল্লীর জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়ে চর্চা হচ্ছে বেশ কয়েক বছর ধরে। গোমাতার সন্তানরা শিং বাগিয়ে তেড়ে এলেও ছাত্রছাত্রীরা তাদের সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি। পুলিশ লেলিয়ে দিলেও ভয়ে গুটিয়ে যায় নি। স্মৃতি ইরানী দুর্গা-মহিষাসুর প্রসঙ্গ সংসদে উপস্থাপন করলেও নাকানি চোবানি খেয়েছেন। বরং দুর্গা বেশ্যা কি না এই প্রসঙ্গটি একটি রাষ্ট্রীয় ইস্যু হয়ে গেছে।

গত ২২শে সেপ্টেম্বর দিল্লীর দীনদয়াল সিং কলেজের সহকারী অধ্যাপক কেদার কুমার মণ্ডল টুইট করে দাবী করে বসলেন যে “Durga is the very much sexy prostitute in Indian mythology” ভারতীয় মাইথলজিতে দুর্গা নাকি একজন যৌনকর্মী বা বেশ্যা।
কী কান্ড কী কান্ড !!!

রেই রেই করে উঠল ভারতীয় মিডিয়া। এবিভিপি আর বিজেপির শিক্ষক সংগঠন এনডিটিএফ প্রফেসরকে বরখাস্ত করার দাবী তুলল। তার নামে এফআইআর করা হল। তাঁকে এরেস্ট করল পুলিশ।
তারপর কী প্রমান হল, তা আর মিডিয়া প্রকাশ করল না!!
প্রফেসর ক্লিনচিট পেলেন একথা প্রকাশ করার সাহস পেল না ব্রাহ্মণবাদী এঁটোখোর মিডিয়ার দল !!

“দুর্গাকে বেশ্যা বলেও আদালতে ক্লিনচিট পেলেন প্রফেসর মণ্ডল” এই বার্তা প্রকাশ করলে কী এমন ক্ষতি হত?
হ্যা, ক্ষতি হত ব্রাহ্মণবাদের।
ক্ষতি হত ধর্ম ব্যবসায়।
দেবীদুর্গা নামের আড়ালে বেশ্যা পূজার উপরে বিরাট প্রশ্ন উঠে আসত।






(১)
দুর্গা কেমন ভগবতী ?
“ব্রাহ্মণ মাইথলজীই দুর্গা কে বেশ্যা বলেছে” এই কথা বললেই ভক্তরা রে রে করে চিল্লাতে শুরু করবেন। কিন্তু নিজেরা খুঁজে দেখবেন না যে যে রেফারেন্স আমি দিচ্ছি তা কতটা সত্য।

বলছি কি বন্ধুরা, আমাকে গালাগালি করার আগে গাল দিতে থাকুন সেই জারুয়া এবং বারুয়াদের যারা নিজেদের যৌনাচারের দর্শন নানা পুরাণ কাহিনীতে লিখে রেখেছে।

এর আগে জিজ্ঞাসা করেছিলাম দুর্গার বাপের নাম কি?.
কেউ সদুত্তর দিলেন না তো?
এবার জিজ্ঞাসা করছি কার্ত্তিক আর গণেশের বাপের নাম কি?
কোন মায়ের গর্ভের সন্তান এরা?
বুড়ো শিব দুর্গার স্বামী হলেও তাকে নারায়ণী বলা হয় কেন?

যদি প্রমান করে দিই যে ব্রাহ্মন্যবাদী পুঁথিগুলিতেই দুর্গাকে মেনকা, রম্ভা, উর্বশীর মত বেশ্যা দেখানো হয়েছে তবে আগামী কাল থেকে এই দেবীর পূজা বন্ধ করবেন তো?

গোপুত্রগণ,
তোমরা জান যে “ভগ” শব্দের অর্থ হল যোনি। যার মাধ্যমে জনন কাজ সম্পন্ন হয়। আর “বতী” শব্দের অর্থ হল “যার সাথে বর্তমান”। অর্থাৎ ভগবতী শব্দের অর্থ হল “যিনি যোনির সাথে বর্তমান” বা যিনি যোনি সর্বস্য নারী।

আমরা যদি বলি “দুগ্ধবতী গাভী”, তার মানে দাঁড়ায় যে গাভী দুগ্ধ দান করে। তেমনি এখানে “ভগবতী” মানে হল যে “ভগ” দান করে এমন নারী। এবার বুঝে নাও হে গরুর পুত্রগণ তোমাদের এই দুর্গাকে কেন তোমাদের ধর্ম বাপেরা ভগবতী বলত !!






হে গোপুত্রগণ,
তোমাদের ধর্ম বাপেরা তাঁদের পর্ণপুঁথিতে আর কি কি লিখে গেছে জেনে নাও। তারাই বলেছে যে এই পার্বতী হলেন দুর্গা। যখন মাহাদেবের প্রমত্ত যৌন উত্তেজনার ফলে পার্বতী মরনাপন্ন হয়ে পড়ে, তখন পার্বতী প্রান রক্ষার জন্য ভগবান কৃষ্ণের উদ্দেশ্যে প্রার্থণা শুরু করে। কৃষ্ণ দেখে যে শিব আর পার্বতী এমন ভাবে মৈথুনে মত্ত যে তাঁদের আলাদা করা কঠিন! তখন কৃষ্ণ তার সুদর্শন চক্রের দ্বারা উভয় লিঙ্গ কেটে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে পার্বতীর প্রান রক্ষা করে।

হে গোপুত্রগণ, তোমাদের ধর্ম বাপেরা তাঁদের পিতৃপুরুষদের এই কাহিনী এবং যৌনতা ধরে রাখার জন্য প্রবর্তন করে শিবলিঙ্গ বা এই যুক্তলিঙ্গ পূজা । (ভগবত, নবম স্কন্ধঃ৫৯৮)

হে গোপুত্রগণ, দেবী দুর্গার “ভগ” দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরে কি ভাবে তিনি অন্যান্য দেবতাদের যৌন তৃপ্তি দান করতেন তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ কর। স্কন্দ পুরানে যে কাহিনী তোমাদের ধর্ম বাপেরা বর্ণনা করেছেন তা বর্ণনা করছি। ভাল করে শোন।

সুদর্শনের সাহায্য কৃষ্ণ শিব আর পার্বতীর যৌনাঙ্গ কেটে নিল বটে কিন্তু শরীর আর মন থেকে তো যৌন চাহিদা মেটার নয়। বিষ্ণু সহ অন্যান্য দেবতারা পড়লেন মহা ফ্যাসাদে। কারণ দেবী দুর্গার সাথে তাঁদের সম্পর্ক ভদ্র মাসের সারমেয়র মত। মেনকা, উর্বশী এবং রম্ভার থেকেও এই নারী দেবতাদের বেশি পছন্দ!! দেবীও চিন্তিত !! তিনি তার খ্যাতির বাজার ধরে রাখার জন্য “পায়ু” দ্বারা দেবতাদের চাহিদা মেটাতে শুরু করলেন।

গোপুত্রগণ,
এই পর্ণপুঁথিগুলিতে বর্ণিত এমনি একটি বিশেষ দিনের ঘটনা বলছি শ্রবণ করো।
বুড়ো শিব লিঙ্গ হারানোর ফলে যৌন ক্রিয়ায় অক্ষম। পার্বতী গোপনে ভগবান বিষ্ণুর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে। ঠিক এমন সময় সেখানে গনেশ এসে হাজির। কী মুশকিল !! গনেশ পার্বতীর আপন ছেলে!! এমন বেসামাল অবস্থায় ছেলে তাঁকে দেখে ফেললে লজ্জার আর শেষ নেই !!! পার্বতী গনেশের থেকে নিজেকে লুকানোর জন্য তুলসীর রূপ ধারণ করে। তুলসীর সাথে গনেশের পূর্ব থেকে যৌন সম্পর্ক ছিল। তখন গনেশ নিজের মা পার্বতীকে তুলসী ভেবে তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। (স্কন্ধ পুরাণ, নাগর খন্ডম ৪৪১, পৃঃ১-১৬)