কবি সারদা প্রসাদ কিস্কু স্মৃতি পুরস্কার যেন প্রতি বছর কবির জন্মদিনে (2 February) দেওয়া হয় – শুভজিৎ মুর্মু

আজ সাঁওতালি সাহিত্যের সাহিত্যিক, কবি, সমাজ সংস্কারক ও পথপ্রদর্শক সারদা প্রসাদ কিস্কুর ৯৩ তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২৯ সালের আজকের দিনেই তিনি পুরুলিয়া জেলার দাড়িকাডোবা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা চরণ কিস্কু ও মাতা ধণমনি কিস্কু। তিনি পিতা মাতার কনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন। ১৯৪৮ সালে খাতরা হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর বিষ্ণুপুর রামানন্দ কলেজে I.Sc. পড়ার জন্য ভর্তি হন কিন্তু অর্থের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। জীবনযাপন ও জীবিকার তাগিদে ১৯৫০ সালে তিন মাসের হিন্দি ট্রেনিং নেন বান্দোয়ান হিন্দি ট্রেনিং সেন্টার থেকে। এর কিছুদিন পর তিনি জামতোড়িয়া সিনিয়র বেসিক স্কুলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ হন।

সারদাপ্রাসাদ কিস্কু ছাত্র জীবন থেকে সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। তাঁর প্রথম লেখা হড় সম্বাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
তাঁর প্রকাশিত পুস্তকগুলি হলো-
১।ভুরকৗ ইপিল(১৯৫৩)
২।কুহু বৗউ(১৯৬০)
৩।গাঁম গঁদার(১৯৬৭)
৪।লাহাঃ হররে(১৯৮৫)
৫।সলম লটম(১৯৮৮)
৬।জুডৗসি অনল মালা(১৯৯৪)
৭।বিদৗঃ বেড়া(১৯৯৭)
৮।সংগীতিকা(১৯৯৮)
৯।লিলিবিছি(২০১৩)
১০। চিঠিসাকাম(২০১৯)

তিনি খেরওয়াল আড়াং(১৯৫৮) ও সুসর ডাহার(১৯৭২) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তিনি সমাজের কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করেছিলেন। তিনি ১৯৭৩ সালে আদর্শ শিক্ষক পুরস্কার পান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভি.ভি. গিরির কাছ থেকে এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গুণীজন সংবর্ধনা পান ১৯৮৯ সালে। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা অসংখ্য থেকে সংবর্ধনা ও সম্মান পেয়েছেন।

সাঁওতালি সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার কবি সারদা প্রসাদ কিস্কু স্মৃতি পুরস্কার চালূ করেন ২০০৯ সালে। কিন্তু খুবই দুঃখের বিষয় কবি সারদা প্রসাদ কিস্কু স্মৃতি পুরস্কার নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে না। সর্বশেষ ২০১৭ সালে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।২০১৮,২০১৯ও ২০২০ সালের পুরস্কার এখনও পর্যন্ত্য দেওয়া হয়নি। কবির নামাঙ্কিত স্মৃতি পুরস্কার সঠিক সময়ে না দেওয়া মানে শুধু কবি সারদা প্রসাদ কিস্কুর অসম্মানই নয়, এটি আপামর সাঁওতাল সমাজের অসম্মান সেই সঙ্গে তাচ্ছিল্য ও অবহেলার চুড়ান্ত নিদর্শন। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি কবি সারদা প্রসাদ কিস্কু স্মৃতি পুরস্কার যেন প্রতি বছর কবির জন্মদিনে (2 February) দেওয়া হয় এবং ২০১৮, ২০১৯ এবং ২০২০ সালের বকেয়া পুরস্কারও যেন খুব তাড়াতাড়ি দেওয়া হয়।