Monthly Archives: April 2021

LATEST NEWS OF JHARKHAND, ODISHA, WEST BENGAL & ASSAM.

young woman reading notes in floral shop

Sendra is Not For Wild life Killing| Awarness prog| Ranibandh Block






SANTALI NEWS | ASSAM NEWS | CORONA PANDEMIC






Santali Khabar || Episode 149






SANTALI NEWS | SENDRA TRADITION | JHARKHAND LOCKDOWN | ECL | ICSE WBBSE EXAM






🌲🌲💐💐🦈🐠🐟পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য পরিবর্তন ও সাঁওতাল জাতির সেঁদরা 🐟🐠🦈🌲🌲🌺🌺🌺

🖋️🖊️✍️– কুনৗমি মুরমু

এই চৈত্র-বৈশাখ মাসে সাঁওতাল জাতিগোষ্ঠীর প্রাচীনকাল থেকে “সেঁদরা” বা “অনুসন্ধান/খোঁজ” নামক এক পারম্পরিক প্রথা বিদ্যমান। বর্তমানে এই সেঁদরা শব্দকে অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করে বলা হচ্ছে শিকার। যা কিন্তু অনেকাংশে সত্যি। কেননা জানা গেছে একসময় অযোধ্যায় শিকারের সময় ঝাড়খণ্ড থেকে আসা শিকারীরা তীর বল্লম এর সাথে বন্দুক নিয়েও শিকার করেছে।

পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খন্ড ও ওডিশার প্রত্যেক জায়গার শিকারীরা সেঁদরা পর্ব শেষ করার পর মনোরঞ্জনের জন্য কাহিনী বেষ্টিত “সিংরৗই” এবং প্রাচীন সংস্কৃতি “দোঁগেড়” এর নাচ-গান করে।
পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার অযোধ্যার সুতৗন টৗঁডি হলো সাঁওতাল সমাজের শীর্ষ আদালত (ল মহল/Law Mahal)। এই শীর্ষ আদালতে সাঁওতাল সমাজের অমীমাংসিত বিচার সম্পন্ন হওয়ার কথা।

কিন্তু বর্তমানে কোন বিচার সভা না হওয়া সত্ত্বেও দূর-দূরান্ত থেকে গাড়ি ভাড়া করে তীর-ধনুক নিয়ে মানুষজন শিকারি হিসেবে পৌঁছে যাচ্ছে। সেই গাড়িতে করে আসা যাওয়া এবং কোন কোন বছরের সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া বন-শুয়োর ও ময়ূরের ছবি সেঁদরার অর্থকে শিকারের সঙ্গে সমার্থক করে দিয়েছে। সেই কারণে বর্তমানে সরকারের তরফ থেকে শিকারকে বন্ধ করার জন্য কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সাঁওতাল জাতিগোষ্ঠীর সেঁদরার কারণেই কি বন্যজন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বা পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য পরিবর্তিত হচ্ছে??এই প্রশ্নের উত্তরের খোঁজেই আমার এই ক্ষুদ্র লেখনি।

যেসব কারণে পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্র প্রভাবিত হচ্ছে সেগুলি হলো-

(১) অরণ্যচ্ছেদন:– পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করেছে এমন অনেক কারণ রয়েছে। যেমন নগরায়নের জন্য, কলকারখানা স্থাপনের জন্য, খনিজ সম্পদ খনন করার জন্য, জাতীয় সড়ক চওড়া করার জন্য হাজার হাজার বড় বড় গাছ শিকড় সমেত উপড়ে ফেলা হচ্ছে, তার পরিবর্তে কোথাও চারা গাছ রোপন করা হচ্ছে না। কোন কোন খনিজ পাহাড় বা শাল মহুলের, বনজ ঔষধি গাছের জঙ্গলকে রক্ষা করার জন্য স্থানীয় অধিবাসীরা আন্দোলন করেছে তখন আইনের লাঠি ওদের পিঠে পড়েছে।গত ৪০ বছরে পুরো বিশ্বে আনুমানিক ১ বিলিয়ন হেক্টর এলাকার গাছপালা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে ২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি ২৯.৭ মিলিয়ন হেক্টর বন জঙ্গল ধ্বংস করা হয়েছে।

২০১৮ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি যেসব দেশের বন জঙ্গল ধ্বংস করা হয়েছে সেগুলি হল ব্রাজিলের ১.৩৫ মিলিয়ন হেক্টর, কোংগো (গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র) এর ৪.৮১ লক্ষ হেক্টর, ইন্দোনেশিয়ার ৩.৪০ লক্ষ হেক্টর, কলম্বিয়ার ১.৭৭ লক্ষ হেক্টর বলিভিয়ার ১.৫৫ লক্ষ হেক্টর। বিশ্বে এই পরিমাণ বনজ সম্পদ ধ্বংসের কারনে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের হার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৭ সাল পর্যন্ত সাধারণের তুলনায় ৫০% অধিক কার্বন ডাই অক্সাইড এবং ২০% গ্রীন হাউস গ্যাস উৎপন্ন হয়েছে।।

(২) জনসংখ্যা বৃদ্ধি:– পৃথিবীর অনেক অনেক সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেক বেশি যে কারণে বছরে ১.১% বা বছরে ৮০ মিলিয়ন জনসংখ্যা বৃদ্ধি ১৩ মিলিয়ন হেক্টর বনভূমি ধ্বংসের সমান। কারণ এদের জন্য এই বর্ধিত জনসংখ্যার জন্য পৃথিবীকে অক্সিজেন সরবরাহ করতে গিয়ে বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়ে পৃথিবীর জঙ্গল এলাকার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ঘনীভবনের চক্র ব্যাহত হয়ে বৃষ্টিপাতের চক্র পরিবর্তিত হচ্ছে।

(৩) প্লাস্টিকের উৎপাদন:– প্লাস্টিকের উৎপাদন হলো পৃথিবীর মারাত্মক সমস্যা। প্লাস্টিক ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া বর্জ্য প্লাস্টিক শহরের ড্রেন থেকে নদীতে এবং নদী থেকে সাগরে বা মহাসাগরে পৌঁছচ্ছে। বর্তমানে পৃথিবীতে বছরে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদন করে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ফেলে দেওয়ার পরে ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন টন নদীর জলের সাথে বাহিত হয়ে মহাসাগরে পৌঁছে জলজ প্রাণীর জীবনকে ব্যাহত করছে। বিশ্বের সমস্ত মহাসাগরের ভাসমান প্লাস্টিকের আনুমানিক ওজন হল ২,৬৮,৯৪০ টন। এই প্লাস্টিক গুলি যেহেতু বছরের-পর-বছর জলের মধ্যে ভাসমান হয়ে থাকছে তাই প্লাস্টিক গুলিতে উপস্থিত রাসায়নিক উপাদান গুলি জলে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে জলজ প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করছে এছাড়া অনেক প্রাণী অজান্তে প্লাস্টিক খেয়ে ফেলে মৃত্যুবরণ করছে যেমন স্কটল্যান্ড এর উপকূলে ২০১৭ সালে একটি তিমি ৯ পাউন্ড প্লাস্টিক খেয়ে ফেলার কারণে মারা যায়।

(৪) জল দূষণ:– কোন বড় নদীর ধারেই সাধারণত কল কারখানা স্থাপন করা হয়েছে এবং কলকারখানা থেকে নির্গত বর্জিত নাইট্রেট, ফসফরাস, কপার, জিংক, ক্যাডমিয়াম, হাইড্রোকার্বন প্রভৃতি রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা সমুদ্রের জল দূষিত হচ্ছে। বিশ্বে খাদ্য পণ্যের চাহিদা বাড়ায় ফলন বাড়ানোর জন্য অধিক মাত্রায় নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ব্যবহার করার কারণে মাছ, ব্যাঙ ইত্যাদির যেমন বেঁচে থাকার অসুবিধা হচ্ছে সেরকমই ভূগর্ভস্থ জল ধীরে ধীরে দূষিত হচ্ছে।

(৫) চোরাশিকার:– বন্য জীবজন্তু হ্রাস হওয়ার অন্যতম কারণ হলো আধিকারিকের মদতে চোরাশিকার। গবেষণায় দেখা গেছে ৮৩% বন্য জীবজন্তু শিকারের কারণে মারা গেছে।

২০১৯ এর গণনা অনুসারে ভারতে ২৯৬৭ টি বাঘ, ৩০০০ টি একশৃঙ্গ গন্ডার, ২০০০টি হাতি এবং ২০১৮ এর গণনা অনুসারে ১২৮৫২টি চিতাবাঘ এবং ১৩৪৯ টি প্রজাতির পাখি রয়েছে। তুলনামূলক হিসেবে এই পশুপাখি গুলির জনসংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেত যদি ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড-এর পেশাদারী শিকারির মতো ভারতেও বন্দুক দিয়ে না শিকার করা হতো। এই পেশাদারী শিকারিরা সারা বছরেই শিকার করে বাঘের চামড়া, হাতির দাঁত ইত্যাদি বিদেশের বাজারে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করছে।

ভারতের আদিবাসী গোষ্ঠীর সাঁওতাল জাতির মানুষরা বছরের শুধুমাত্র একটি মরসুমে সেঁদরা পালন করে এবং ওই সময় হয়তো কিছু পাখি এবং খরগোশ শিকার করে মেরে ফেলে। সেই হিসেবে দেখলে গোটা বিশ্বের সাঁওতাল মিলে ৮৩ শতাংশের ০.৫% শিকার করে তাই এটা কখনও বলা যাবে না যে সাঁওতালরা বন্যজন্তু হত্যার জন্য চোরা শিকারির মতো অনেকাংশে দায়ী। কারণ সাঁওতালরা বছরে একবার এই শিকার করে বনৌষধি খোঁজার সময় বা সেঁদরা করার সময় এবং বন-জঙ্গল ধ্বংসের পেছনে সাঁওতালদের কোনো অবদান নেই। কারণ সাঁওতালরা প্রাচীনকাল থেকে প্রকৃতিকে রক্ষা করে আসছে ভগবানের রূপে প্রকৃতিকে পুজো করে। এরা শুধু বাড়ি বানানোর সরঞ্জাম আসবাবপত্র এবং জ্বালানির জন্য একমাত্র পুরনো গাছ কেটে ফেলে কিন্তু সেই হিসেব খুবই নগণ্য। কিছু এলাকার মানুষজন একসময় কচিকাঁচা শাল গাছ কেটে শুকনো করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতো কিন্তু এখন বন্ধ করে দিয়েছে এবং কিছু কাঠ ব্যবসায়ীরা একসময় জঙ্গল আধিকারিক এর সহায়তায় জঙ্গলের পুরনো গাছ বিক্রি করতো কিন্তু সেটাও এখন অনেকটা ক্রমহ্রাসমান। তাই এখন এই সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারি যে পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ব্যাহত হওয়ার পেছনে সাঁওতাল দের কোন ভূমিকা নেই।

সাঁওতালদের সেঁদরা নামক পরম্পরা কে বন্য প্রাণী এবং উদ্ভিদ সংরক্ষণের বাহানা করে শেষ করতে চাইলে পোষা প্রাণী হত্যা যেমন পাঁঠা বলি, উঁট পূজা, Beef Marketing সবকিছুই চিরকালের জন্য বন্ধ করতে হবে। কোথাও কোন ধর্মের দেবস্থানে কোন প্রাণীর এক ফোঁটা রক্তও যেন না পড়ে সেইরকম নিয়মকানুন লাগু হওয়া প্রয়োজন।

ব্রাজিলের বিপন্ন আদিবাসী

ফিরিয়ে দাও আমাদের আগের জঙ্গল জীবন। হারিয়ে যেতে বসেছে ‘ইন্ডিজেনাস’ পরিচয়টুকুও। ব্রাজিলের অধিকাংশ নাগরিকই অবগত নয় তাঁদের মূল পরিচয়, সংস্কৃতির সম্পর্কে। অরণ্য হারিয়ে ঠাঁই শহরে, টাউন বাবুদের বৈষম্যের জেরবার ব্রাজিলের প্রাচীন জনগোষ্ঠী।

ক্রমাগত জমি অধিগ্রহণ, ড্রাগ মাফিয়াদের বাড়বাড়ন্ত, বনভূমি ধ্বংস, অনৈতিক খনন— এসবের জেরেই ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে ব্রাজিলের প্রাচীন জনগোষ্ঠীগুলির আবাসস্থল। ফলত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শহরে এসে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছেন তাঁরা। তবে সেখানেও যে খুব একটা সুখকর হচ্ছে না তাঁদের টিকে থাকার লড়াই, তেমনটাই জানাচ্ছে রিও ডি জেনেইরোর ফেডারাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

সাম্প্রতিক গণনা অনুযায়ী, ব্রাজিলের এক তৃতীয়াংশ প্রাচীন জনজাতির মানুষই বসবাস করেন শহরাঞ্চলে। যার সংখ্যা ৩ লক্ষ ১৫ হাজারের কাছাকাছি। তবে শহরের পটভূমি ও যাপনচিত্রে ক্রমশ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাঁদের সংস্কৃতি। এমনকি হারিয়ে যেতে বসেছে ‘ইন্ডিজেনাস’ পরিচয়টুকুও। ব্রাজিলের অধিকাংশ নাগরিকই অবগত নয় তাঁদের মূল পরিচয়, সংস্কৃতির সম্পর্কে।

আদিবাসী সংস্কৃতি বলতে শুধুমাত্র অরণ্যযাপনকেই চিহ্নিত করেন খোদ ব্রাজিলের তথাকথিত ‘উন্নত’ শহরের বাসিন্দারা। আর তা হবে না-ই বা কেন? একজন আদিবাসী হয়েও সরকারি স্বীকৃতি পাওয়াই যে দুষ্কর ব্রাজিলের বুকে দাঁড়িয়ে।পাশাপাশি শহরাঞ্চলে বসবাসরত প্রাচীন জনজাতির মানুষেরা শিকার কুসংস্কারেরও। আদিবাসী পরিচয়ের জন্য অনেকক্ষেত্রেই বৈষম্যমূলক মন্তব্য, এমনকি হিংসারও সম্মুখীন হয়ে চলেছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে ‘সভ্য’ সমাজ যেন দু’দিক থেকেই কোণঠাসা করে তুলছে তাঁদের অস্তিত্বকে।

কিন্তু একুশ শতকে দাঁড়িয়েও এই বৈষম্য কেন? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে দেখা যাবে, ব্রাজিলের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আদিবাসী শিক্ষার জন্য বিশেষ বন্দোবস্ত নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার কোনোরকম উদ্যোগ নেয়নি ব্রাজিল প্রশাসন। পাশাপাশি খাতায় কলমে অস্তিত্ব থাকলেও নিষ্ক্রিয় আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তর। বিভাজন হোক কি বৈষম্য— তার সূত্রপাতের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে রয়েছে বলসোনারো-র দুর্নিতিগ্রস্ত প্রশাসন। তবে এই বৈষম্যের বীজ বপন করা হয়েছিল বহু বহু যুগ আগে।

উনিশ শতকের শুরুর দিকের কথা। তখনও ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম রয়েছে ব্রাজিলে। জনগণনা শুরু হয়েছিল সেই সময়। তবে তা কেবল সীমাবদ্ধ ছিল শহর, মফঃস্বল অঞ্চলেই। কেননা, ঔপনিবেশিক শাসকদের কাছে সেনসাসের মূল উদ্দেশ্যই ছিল কর-আদায়। অরণ্যে বসবাসরত জনগোষ্ঠীগুলি যে আদতে কোনো আর্থিক কর প্রয়োগ করতে পারবে না, সে কথা মাথায় রেখেই ব্রাত্য করে রাখা হয়েছিল তাঁদের। আজ এত বছর পরেও এতটুকু পরিবর্তন আসেনি সেই রীতিতে। একদিকে যেমন অব্যাহত রয়েছে অরণ্যনিধন প্রক্রিয়া, তেমনই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি শহরেও। এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে শিক্ষাকেই হাতিয়ার করে নিয়েছেন প্রাচীন জনজাতির মানুষেরা।

২০১৯ সালের হিসাব বলছে ব্রাজিলে বসবাসরত মোট ৯ লক্ষ আদিবাসী মানুষের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যরত ৮১ হাজার শিক্ষার্থী। অর্থাৎ, শিক্ষার হার প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি। পাশাপাশি, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে শিল্পক্ষেত্রেও নিজেদের সংস্কৃতির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে চলেছেন তাঁরা। তাতে আসছে সাফল্যও। গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি স্বীকৃতি মিলছে আন্তর্জাতিক স্তরে। যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল আমাজনের প্রাচীন ‘কাদিইউ’ চিত্রকলা।

তবে এভাবেই একদিনে সম্ভব নয় সামাজিক বদল। জনসচেতনতা গড়ে তুলতে এগিয়ে আসতে হবে প্রশাসনকেই। বদল আনতে হবে শিক্ষাব্যবস্থাতেও। সেই দাবিতেই সরব ব্রাজিলের আদিবাসী পড়ুয়ারা। চলছে এক অসম লড়াই। স্বপ্ন, এমন এক বৈষম্যমূলক সমাজের যেখানে একদিন সমস্ত মানুষই তাঁদের স্বীকৃতি দেবে ‘পূর্বপুরুষ’ হিসাবে…

শকুনের বাচ্চা মন ভরে খেল মানুষের মাংস

এক শকুনের বাচ্চা তার বাপের কাছে বায়না ধরলো, — “বাবা, আমি মানুষের মাংস খাব! “

শকুন বলল–“ঠিক আছে বেটা, সন্ধ্যার সময় এনে দেব। শকুন উড়ে গেল আর আসার সময় মুখে এক টুকরো শুকরের মাংস নিয়ে এসে বাসায় রাখলো ।



বাচ্চা বলল–“বাবা, এটা তো শুকরের মাংস, আমি মানুষের মাংস খেতে চাই।”

বাপ বলল –অপেক্ষা কর বাবা!

শকুনটা আবার উড়ে গেল আর আসার সময় এক মরা গরুর মাংস নিয়ে এলো।



বাচ্চা বলল –“আরে এটা তো গরুর মাংস নিয়ে এসেছ, মানুষের মাংস কোথায়?

এবার শকুনটা দুটো টুকরো একসাথে মুখে নিয়ে উড়াল দিল আর শুকরের মাংসটি একটা মসজিদের পাশে আর গরুর মাংস একটা মন্দিরের পাশে ফেলে দিয়ে চলে এলো!

কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে শুরু হলো দাঙ্গা! কয়েকশ মানুষের লাশ পড়ে গেল! তখন গাছের ডাল থেকে নেমে বাপ-বেটা মিলে খুব তৃপ্তিতে মানুষের মাংস খেল।



বাচ্চাটা খেতে খেতে জিজ্ঞেস করছে– “বাবা, এত মানুষের মাংস এখানে কি করে এলো ?”

শকুন বললো — “এই মানুষ জাতটাই এরকম। সৃষ্টিকর্তা এদেরকে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ বানিয়ে জন্ম দিয়েছেন, কিন্তু ধর্ম আর রাজনীতির নামে এদেরকে আমাদের থেকেও হিংস্র বানানো যেতে পারে! ”

বাচ্চা বললো তুমি ধর্মকে ব্যবহার করলে কেন, কতগুলো নীরিহ লোক মারা গেল , রাজনীতি করলেই পারতে!



বাবা হেসে উত্তর দিল, তাতেও নীরিহ লোকগুলোই মারা পড়তো! ধর্মটা আবেগের যায়গা তাই ফলাফলটাও তাৎক্ষণিক! তুমি আজই খেতে চেয়েছিলে! রাজনীতি টা কুটিল এবং জটিল, এটি শুরু হতে সময় নেয় কিন্তূ হলে আর থামেনা!

বাচ্চা বললো- “তোমার অনেক বুদ্ধি, বাবা”


শকুন — “আরেহ, ধুর! এটা তো আমি মানুষের কাছ থেকেই শিখছি, এদের একটা অংশ যখনই কোন অনিষ্ঠ করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয় তখনই সহজ রাস্তা হিসেবে হয় ধর্মকে নয়তো রাজনীতিকে ব্যবহার করে!

সংগৃহীত

সাঁওতালি কাব্য সাহিত্যের কবিগুরু সাধু রামচাঁদ মুর্মু

“দেবন তিগুণ আদিবাসী বীর”সাঁওতালি ভাষার বিকাশের জন্য সাধু রাম চাঁদ মুর্মুর যে ভাবে আত্মনিয়োগ করেছেন বোধহয় আজ পর্যন্ত আর কেউ করতে পারেনি। সাধু রাম চাঁদ মুর্মু কে সাঁওতালি কাব্য সাহিত্যের কবিগুরু বা মহাকবি বলা হয়।

সাধু রাম চাঁদ মুর্মু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্তমান ঝাড়গ্রাম জেলার শিলদা নিকটবর্তী কামারবাঁদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । বাংলা ১৩০৪ সালের বৈশাখ মাসের ১৬ তারিখে এই মহান কবির জন্ম। সাধু রাম চাঁদ মুর্মুর পিতার নাম মোহন মুর্মু, মা কুনি মুর্মু। সাধু রাম চাঁদ মুর্মুর চার ভাই বোনের ছিলেন, তাঁর মধ্যে সবার বড় ভাই দুবরাজ মুর্মু, মেজ ভাই ধনঞ্জয় মুর্মু, বোন মুগলি আর সবার ছোট হলেন কবি সাধু রাম চাঁদ মুর্মুর।

১৯০৬ সালে তাঁকে গ্রামের স্কুলে ভর্তি করা হয়। সাধু রাম চাঁদ মুর্মুর বাল্য অবস্থা থেকে মেধাবী ছিলেন। মেদিনীপুর জেলায় ভীমপুর মিশনারীগণ সাঁওতাল ছেলেমেয়েদের শিক্ষার উদ্দেশ্যে আবাসিক স্কুল স্থাপন করেন। স্কুলের পুরনো রেকর্ড থেকে সাধু রাম চাঁদ মুর্মুর নাম পাওয়া গেছে অর্থাৎ তিনি এই স্কুলে পড়তেন।স্কুলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা রকম হাতের কাজ শেখানো হতো, এবং পুরানো রেকর্ড অনুযায়ী সাধু রাম চাঁদ মুর্মু ভালোভাবেই ছুতার মিস্ত্রির কাজ, তাঁতের কাজ, এবং বিভিন্ন কারিগারি কাজে শিখেছিলেন এবং লেখাপড়া চিরদিনই পারদর্শী।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সাধু রাম চাঁদ মুর্মুর জীবনেও পরিবর্তন আসে, ব্যক্তিগত জীবনে সাধু রাম চাঁদ মুর্মুর ছিলো দুই বিবাহিত স্ত্রী । প্রথম পক্ষের নাম মানকা আর দ্বিতীয় পক্ষের নাম কি পুটি। প্রথম পক্ষের স্ত্রীর তিন ছেলেমেয়ে কালিপদ , চুনারাম , কুনি। দ্বিতীয় পক্ষ স্ত্রী তিন সন্তান ধনঞ্জয় , ফুতু , মেয়ে কাকা। সাধু রাম চাঁদ মুর্মুর শুধু সান্তালি ভাষা সাহিত্য বিকাশের জন্য খাওয়া পরা চিন্তা না করে মন প্রাণ দিয়ে সাহিত্যচর্চার আত্মনিয়োগ করে গেছেন। সাধু রাম চাঁদ মুর্মুর লেখা “” দেবন তিঙ্গুন আদিবাসী বির “”।

আজ বাংলা-বিহার-উরিষ্যা আসামের ও বাংলাদেশ সাঁওতালদের মুখে মুখে শোনা যায়। সমাজ এবং জাতির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা তাঁর ছিল বলেই এ ধরনের গান তিনি রচনা করতে পেরেছেন যা শুনলে আজও সান্তালদের মনে এক অন্য ধরনের অনুভুতি জায়গায়। গানটি সাঁওতালদের জাতীয় সংগীত হিসেবে আদৃত আছে। সাধু রাম চাঁদ মুর্মুর বুঝতে পেরেছিলেন , সাহিত্য ছাড়া কোন জাতির বিকাশ অসম্ভব ।

সান্তালি সাহিত্যের বিকাশ ও জাতির বিকাশের জন্য, বাড়ি-ঘর আত্মীয় পরিজন ছেড়ে আমরণ সাহিত্য-সাধনার নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছিলেন এবং যা দিয়ে গেছেন তার প্রকৃত মূল্যায়ন এতদিন হয়নি। পাশাপাশি সাধু রাম চাঁদ মুর্মুর এও বুঝতে পেরেছিলেন মাতৃভাষার শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি সার্বিক উন্নয়ন অসম্ভব । তাই তিনিই সর্বপ্রথম মাতৃভাষার শিক্ষার জন্য সাঁওতালি ভাষার স্বতন্ত্র লিপি “” মঁজ দাঁদের আঁক”” তৈরি করেছিলেন ১৯২৩ সালে।

“মঁজ দাঁদের আঁক” এই লিপি বা বর্ণ মালা সাঁওতালি ভাষার উপযোগী হয়েছিল। পরবর্তীতে কালে সেই বর্ণমালাতেই তাঁর সাহিত্য সম্ভার রচনা করেন। সাধু রামচাঁদ মুর্মু তৈরি করা বর্ণমালা সাঁওতাল সমাজে কাছে আজও অপরিচিত। সেই সময় অর্থভাবের জন্য এই লিপির ব্লক তৈরি করা ও প্রচার করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। সাঁওতাল সমাজে এটাই ছিল সবচেয়ে প্রথম এবং প্রাচীন লিপি। জীবিত কালে তিনি তার সাহিত্যকীর্তিকে আর্থিক অনটনের জন্য প্রকাশ করে যেতে পারেননি। দীর্ঘদিনের পান্ডুলিপি অরক্ষিত অবস্থায় ছিল।

তার মৃত্যুর পরে তার নামাঙ্কিত “” সাধু রামচাঁদ উইহৌর বাথান “” (সাধু রাম চাঁদ স্মৃতি রক্ষা কমিটি) এবং মারাংবুরু প্রেসের প্রচেষ্টায় এই পান্ডুলিপি গুলা গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়। ১) সারি ধরম পেলেন পুঁথি ১৯৬৯২) অল দহ অনড়হেঁ ১৯৭৮৩) লিটৌ গোডেৎ ১৯৭৯৪) সংসার ফেঁদ ১৯৮২৫) ঈশরড় ১৯৮৫ আজও প্রায় অনেকেরই অজানা যে সাধু রাম চাঁদ মুর্মুর “”সাধু”” শব্দ টা ব্যবহারের কারণ।

সানতালি সাহিত্যের ইতিহাস বই থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে – সাধু রাম চাঁদ মুর্মুর সঙ্গে যারা কাটিয়েছেন তারা অনেকে বলেন, বৃদ্ধা বয়সে সংসারের প্রতি কবির বিতৃষ্ণা সৃষ্টি হয় তাই কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির নির্জনে কোলে কুঁড়ে ঘর বানিয়ে তাতে একাকি দিন যাপন করতেন। সাধুসন্ন্যাসীদের মতো জীবন শুরু করেন। জপ- তপা তাঁর জীবনের মূল উদ্দেশ্য। সাধুদের মত দাড়ি রাখেন, সাদা কাপড় পরিধান করতেন। সাধুর মতন জীবন যাপন করার জন্য তার নামের আগে সাধু শব্দ ব্যবহার হয়ে আসছে। কবি সাধু দার্শনিক , শিল্পী , প্রকৃতিপ্রেমী , সমাজসেবী , সমাজ সংস্কারক , গবেষক সাধু রামচাঁদ মূর্মু বাংলা ১৩৬১ বঙ্গাব্দে ২৯ শে অগ্রহায়ণ , ইংরেজির 1955 সালে দেহত্যাগ করেন।

বাংলা ১৩৭৭ সালের ১৫ই ভাদ্র তারিখের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশি “সাঁওতালী বর্ণমালা ও সাহিত্য” শীর্ষক একটি প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক লিখেছেন –“..পশ্চিমবাংলায় সাধু রামচাঁদ এবং উড়িষ্যার শ্রীযুক্ত রঘুনাথ মুরমু পৃথক পৃথক ভাবে সাঁওতালী বর্ণমালাতৈরী করেন। সাধু রামচাঁদের বর্ণমালা সাঁওতাল সমাজে অপরিচিত এবং অর্থাভাবে এই লিপির ব্লক তৈরী করে প্রচার করা সম্ভব হয়ে উঠে নি। এই বর্ণমালা রঘুনাথবাবুর তুলনায় প্রাচীনতর…।” ১৯২৩ সালে নির্মিত সাধু রামর্চাদের লিপির নাম “মজ দাঁদের”। এই লিপিতে তিনি “সারি ধরম” (শ্বাশ্বত ধর্ম গ্রন্থখানি রচনা করেন, যার খণ্ডিত পাণ্ডুলিপি আবিষ্কৃতহয়েছে।

মামা-ভাগ্নের গল্প

ছোট্টবেলায় পড়া সেই গল্পটা বারবার মনে পড়ছে।বাঘ🐯 বৃদ্ধ হয়ে শিকার করতে পারে না,তখন গলায় তুলসীর মালা পরে মাংস-নিরপেক্ষ হয়ে যায়।

তারপর সবাইকে বলে, ” কাছে এসে দু’দন্ড বসো, সুখ-দুঃখের গল্প করি “।

এই কথা শুনে যেই কেউ তার পাশে যায়,তার ঘাড় মটকায় আর নিমেষে সাবাড় করে 😭।

একদিন শেয়াল🦊 কিন্তু ওর কৌশল বুঝতে পারে।সে অন্য পশুদেরকে সঙ্গে নিয়ে বোষ্টম বাঘামামার কাছে যায়।

বাঘ🐯 বলে,” এসো ভাগ্নে, কাছে এসে দু’দন্ড বসো, সুখ-দুঃখের গল্প করি “।

শেয়াল🦊 কিন্তু নিরাপদ দূরত্ব থেকেই বলে,” মামা, আমার কিন্তু একটা ব্যাপারে খটকা লাগছে। তোমার কাছে এর আগে যারা গেছে, তাদের যাওয়ার পায়ের ছাপ দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু ফিরে আসার পায়ের ছাপ একটাও নেই “।

তখন সবাই বাঘামামার🐯 ঘাড় মটকে তার বোষ্টমগিরি ও ভবলীলা উভয়‌ই সাঙ্গ করে।