প্রকাশিত হলো সাঁওতালী কবি লক্ষণ কিস্কুর বাংলা কাব্যগ্রন্থ “রূপ সাগরের তীরে”

বর্তমানে সারা ভারত সাঁওতালি লেখক সংঘের সভাপতি ও মহান কবি, কাহিনীকার, প্রাবন্ধিক লক্ষণ কিস্কুর প্রকাশিত হল বাংলা সাহিত্য জগতের প্রথম কাব্যগ্রন্থ “রূপ সাগরের তীরে”।

কবি লক্ষণ কিস্কু হলেন পেশায় শিক্ষক এবং সমাজকর্মী। কবি কিস্কুকে তার সাঁওতালি কাব্যগ্রন্থ “ডয়লং চেঁড়েয়াঃ গল”-এর জন্য ২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে “কবি সারদা প্রসাদ কিস্কু স্মৃতি পুরস্কার” প্রদান করা হয় এবং এই ২০২০ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে গুণীজন সংবর্ধনা দেওয়া হয় “সাধু রামচাঁদ মুর্মুর স্মৃতি পুরস্কার” হিসেবে। এবার এই “রূপ সাগরের তীরে” কবিতার বই লিখে কবি সাঁওতালি সাহিত্যের পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যেও নিজের নাম স্বর্নাক্ষরে খোদাই করলেন।
এর সাথে আরেকটি উল্লেখ্য বিষয় হলো যে কবি লক্ষণ কিস্কু সাঁওতালি মাধ্যমের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ “ভারত রেনাঃ নাগাম” লিখে বিশ্বের ইতিহাসে সর্বপ্রথম প্রকাশ করেছেন।





রূপ সাগরের তীরে কাব্যগ্রন্থের ভূমিকাতে বাংলা সাহিত্যিক ডঃ সুবীর মন্ডল লিখেছেন, “কবি স্বভূমিকে চেনেন নিজের হাতের তালুর মতো। তাঁর কাব্যভুবন জুড়ে ছড়িয়ে আছে সমকালীন সমাজ সংস্কৃতি এবং মানুষের সংগ্রামী জীবনের কথা। তার কাব্যগ্রন্থটি কবিতাপ্রেমী দেশের মানুষের কাছে সাদরে গৃহীত হবে আমার বিশ্বাস, তেমনি জঙ্গলমহল সম্পর্কে কৌতুহলী মানুষের কৌতূহলেরও অনেকাংশে নিরসন হবে।”





এবং “রূপ সাগরের তীরে” কাব্যগ্রন্থের সূচনাতে কবি বলেছেন, “আমি এক ডুবুরি অতল সমুদ্রে ডুব দিয়ে হাতের কাছে যা পেয়েছি তাই কুড়িয়ে নিয়ে এসে পৌঁছিয়ে দিই। জীবনের সুখ-দুঃখ, বেদনা, হাহাকার, প্রেম-ভালোবাসা, প্রেরণা, শহর-নগর ও গ্রাম বাংলার অপরুপ রুপ ভেসে উঠেছে কবিতার ছত্রে ছত্রে। আমার এই কবিতার প্রকৃতির চিত্র বেশি করে ধরা পড়েছে অভিজ্ঞতার আলোকে।
এই সময়কার প্রথম কাব্যের ফসল ভরা হয়েছে “রূপ সাগরের তীরে”। দুরুদুরু বুকে জাগে সংশয়, সাগরের তীরে সবাই তাকাবে ফিরে কিন্তু আমাকে নেবে কি হৃদয়ে।”