Author Archives: birurapaj

জংগলমহলের হাওয়া

সকালে ঘুম থেকে উঠে পাড়ার একমাত্র চা দোকানে বসে চা খেতে খেতে গল্প করছিলাম, এমন সময় আমার মোবাইল ফোনটা বেজে উঠলো। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলাম একটা অচেনা নাম্বার থেকে ফোন আসছে। গলা ছেড়ে আমি ফোনটা রিসিভ করলাম। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে একটা চেনা গলার আওয়াজ পেলাম, বুঝতে কোনো অসুবিধা হলো না, দুরসম্পর্কের আমার এক দাদা কলকাতায় থাকে, তারি ফোন এটা। সামান্য কুশল বিনিময় হওয়ার পর সে আমাকে জিজ্ঞেস করল ভাই, “তোমাদের জঙ্গলমহলের ভোটের বাজার কেমন গরম?”






আমি বললাম “আমাদের জঙ্গলমহল এমনিতেই খুব গরম। তুমি তো শুনেছো আমাদের জঙ্গলমহলের এখনকার অবস্থা। সেটা নিয়ে আর কি বলব!”

দাদা বলল , “কি খবর ? নাতো আমি কোন খবর জানি না।”

“জানো তো, আজকাল শহরাঞ্চল ছড়িয়ে গ্রামেগঞ্জে একটা কথা প্রচলিত হয়ে উঠেছে। আমরা তো জানি, শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ, জল দূষণ এর কথা কিন্তু আজকাল আরেকটা দূষণ এসে হাজির সেটা হল সংবাদ দূষণ। আজকাল টিভিতে হোক বা খবরের কাগজ সব জায়গাতেই আজব আজব খবর ই দেখা যায়। সে সমস্ত গাঁজাখুরি খবর এর মাঝেই ভালো খবর হারিয়ে যায়। তুমি দেখে থাকবে প্রত্যেক সংবাদপত্রে র খবর, কোন নায়িকার সকালে কি হলো, তো কোন নায়িকার উমুক হয়েছে ইত্যাদি। “






“নায়িকার কথা বলতে একটা কথা মনে পড়ে গেল। আমাদের টলিউডে আগে নতুন নতুন অভিনেতা অভিনেত্রী তৈরি হতো। আজকাল দেখো টলিউডে নতুন নতুন রাজনীতির নেতা তৈরি হচ্ছে। যাকগে সে কথা, কি যেন বলছিলে?” আমার কথার মাঝেই দাদা কথাটা বলে উঠল।

আমিও বললাম “কথাটা মন্দ বলনি। বলছিলাম আমাদের জঙ্গলমহলের এখন আবহাওয়া খুব গরম। তোমাদের শহর কলকাতা তো নয় এটা।”

“সে কি বলো, এখন থেকেই ঝগড়া ঝাটি শুরু হয়ে গেল নাকি?”






“না, ঝগড়াঝাঁটি হবে কেন! সেই দিক থেকে আমাদের জঙ্গলমহল কিন্তু অনেকটাই শান্ত। আসলে যে কথাটা বলছিলাম, আমাদের দক্ষিণবঙ্গের অযোধ্যা পাহাড় থেকে শুশুনিয়া পাহাড় সাথে ঝিলিমিলি বারো মাইল জঙ্গল এখন আগুনের লেলিহান শিখায় দগ্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেই আগুনের লেলিহান শিখা ছোট ছোট সবুজ গাছ থেকে শুরু করে পশু পাখিদের পুড়িয়ে জারখার করে দিচ্ছে। কত যে নিরীহ প্রাণীর জীবন হলো বলিদান তার কোন হিসাব নেই। পাড়ার একটা কুকুর মরলে, পশুপ্রেমী মানুষ জন এতক্ষণ হয়ত মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রতিবাদে গর্জে উঠতেন। কিন্তু এখানে হাজার হাজার নিরীহ পশু পাখি, গাছগাছালি; যারা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য নিরলস ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করে চলেছে তাদের জন্য সংবাদপত্র থেকে ইলেকট্রনিকস মিডিয়ায় সামান্য কোন খবরও নেই। জানি না সাংবাদিকদের ক্যামেরা গুলো কেন যে সব নায়ক নায়িকার পেছনেই লেগে থাকে! সেই আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে আমাদের জঙ্গলমহলের মানুষের স্বপ্ন। আগুলের লেলিহান শিখার আঁচ সত্যিই গরম করে তুলেছে জঙ্গলমহলের আবহাওয়া। এ জঙ্গলকে আঁকড়ে ধরে আবর্তিত হয়েছে সাঁওতালদের জীবন জীবিকা। জঙ্গল পুড়লে শহুরে বাবুদের আর তাতে কি আসে যায়! আজকাল নাকি শুনেছি, অক্সিজেন কিনতে পাওয়া যায় তাই তো জঙ্গল পুড়লে কারো মাথা ব্যথা থাকার কথা নয়। জঙ্গল থেকে সাঁওতালদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য সরকার নাকি আইন আনছে, এবার বলো সাঁওতালদের জীবিকার কথা জঙ্গল রক্ষা করা সরকারের কাছে একটা অযৌতিক কাজ মনে হতে পারে। তাই তো আমরা দেখেছি, মেলার জন্য অনুদান, খেলার জন্য অনুদান, পুজোর জন্য অনুদান, ক্লাবের জন্য অনুদান দেওয়ার সময় টাকার অভাব হয়না। আমাদের সবুজ সরসতা রক্ষা করার প্রয়োজনে কোন অনুদান আসে না। জানিনা তাতে মা ভবানীর ভান্ডারে টান পড়বে নাকি! এদিকে সবাই বলে চলেন, “জঙ্গল হলো আমাদের ফুসফুস।” আমাদের তো দেখে মনে হয় ফুসফুস নয় এটাকে তারা ভাবেন ফানুস।”






“সত্যিই এটা খুব খারাপ খবর। কোনদিন সংবাদ পত্রিকাগুলোতে এই খবর আমার চোখে পড়েনি। আমরা তো সুন্দর বন বাঁচানোর জন্য কত টাকাই না খরচ করি তার কিছুটা হলেও যদি জঙ্গল রক্ষা করার কাজে খরচ হতো তাহলে আজকে এই অবস্থা হতোনা। এই কটা দিন আগেই বনবিভাগ থেকে ‘ বন সহায়ক ‘ পদে নিয়োগ তো হলো, তাদের তাহলে কি কাজ দেওয়া হলো? আমিতো ভাবছিলাম জঙ্গল রক্ষা করতেই তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”

“জানি না, কি কাজ দেওয়া হয়েছে। আমি তো কোনদিন দেখিনি জঙ্গল দেখতে কোনদিন কোন ফরেস্ট আফিসার এসেছে বলে। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট এর কি কাজ সেটাই জানি না।”






যাক গে সে কথা, এখন তো আর ভেবে লাভ নেই। সামনের বছর দেখ, যাতে সকলকে সচেতন করা যায়। আর কি যেন একটা বলছিলে, আমাদের সাওতালদের জীবন জীবিকা জঙ্গলকে আঁকড়ে বেঁচে আছে। কেন কোন উন্নয়ন কি আজও হয়নি?

ক্রমশ…..

হারিয়ে গেছে


বীরেন্দ্র নাথ কিস্কু

হারিয়ে গেছে…….
আজ অনেক দিন আগে
যা ছিল সেদিন, সবার হৃদয় মাঝে।
হণ্য হয়ে খুঁজেছি কত, সবার হৃদয় মাঝারে,
কি যে হলো, কোথায় গেলো, এই ভব সাগরে
তাকে ছাড়া অশ্রু জলে জীবন গেলো ভেসে।

এখানে ,সেখানে, কোনখানেই নেই আজ তার দেখা
এ যেন চাঁদ ছাড়া এক পূর্ণিমার কথা ভাবা,
কোথা থেকে আজ কী যে হলো
মানুষ আজ হয়েছে বিনা মান হুশ।
পাপিষ্ট, দুর্বৃততায়নদের ক্ষমতার লালসায়,
নিভৃতে, রজনী কাঁদে হীনমন্যতায়।

আজও টিম টিম করে জ্বলে মোমবাতির আলো
কত এলো, আর কত যে গেলো,
তবুও আজও আলো ছড়াই এই দীন কুটিরে,
এক দিন আসবে সবাই , বসবে মাদুর পেতে
ভুলে যাবে সব ভেদাভেদ, সংকীর্ণ প্রাচীর
ভালোবাসায় ভেসে যাবে, উঠবে সবাই হেসে।

কী যে হলো !!

বিরেন্দ্র নাথ কিস্কু

কোথায় কী যে হলো

বোঝার আগেই সকলেই আতঙ্কিত হলো,

ভয়ে সবাই যে যার বাড়িতে মুখ গুঁজল;

শিশুরা তাদের খেলার মাঠ ছেড়ে গেলো

সমাজের উন্নয়নের চাকা হঠাৎ স্তব্ধ হলো,

কোথাও নাকি জঙ্গি হামলা হলো !

না! তাতো নয়, তাহলে কী হলো?

সারা দেশে দেশে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হলো

যার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি তাতো জানা গেলো,

চোখে যারে দেখা না যায় সেই হলো

গোলা বারুদের সামনে তাকেই ফেলা হলো।

মাথায় কিছু আসে না এটা কী যে হলো!

খেলার মাঠ সবুজ ঘাসে ঢেকে গেলো,

গরু ,ছাগলের গোচারণ ভূমি হয়ে গেলো।

সারা দেশে দেশে সব যানবাহন বন্ধ হলো,

শুধুই অ্যাম্বুলেন্স এর সাইরেন বাতাসে ভেসে এলো;

হাসপাতাল গুলো সবই ভরে গেলো

চারিদিকে হাহাকার ….. কান্না শোনা গেলো।

এতদিনে বোঝা গেলো ‘ করোনা ভাইরাস ‘এলো,

সংক্রমণের ভয়ে সবাই বাড়িতে বসে রইলো।

লাঠে উঠলো সব পড়াশুনা, স্কুল কলেজ বন্ধ হলো;

ছেলে মেয়েদের কতই না মজা হলো!

অনলাইনে পড়াশুনা শুরু হলো,

মেঘ না চাইতেই, এ যেন জল পড়লো।

দরিদ্র পিতা মাতার মাথায় যেন বাজ পড়লো,

স্বপ্নপূরণ করতে মাথার ঘাম পায়ে পড়লো।

এত দিন পর গ্রাম শহর জীবন এক হলো,

গ্রাম্য জীবনই যে সবচেয়ে ভালো

এক বিংশ শতাব্দীতে এসে তা বোঝা গেলো।।।

ᱯᱷᱩᱨᱜᱟᱹᱞ ᱢᱟᱦᱟ

– ᱵᱤᱨᱮᱱᱫᱚᱨᱚ ᱱᱟᱛᱷ ᱠᱤᱥᱠᱩ

ᱵᱟᱨᱥᱟᱭ ᱥᱮᱨᱢᱟ ᱞᱮᱠᱟ ᱤᱧᱨᱮᱡᱽ ᱡᱟᱹᱛᱤᱭᱟᱜ
ᱨᱚᱰᱚᱽ ᱠᱚᱪᱞᱚᱱ, ᱥᱟᱥᱮᱛ, ᱱᱟᱦᱟᱪᱟᱨ ᱠᱷᱚᱱ
ᱨᱟᱲᱟ ᱫᱩᱜ ᱠᱟᱛᱮ, ᱱᱳᱣᱟ ᱫᱤᱥᱚᱢ ᱨᱮᱱ
ᱥᱟᱱᱟᱢ ᱢᱟᱹᱱᱢᱤ ᱵᱚᱱ ᱟᱹᱯᱱᱟᱹᱛ ᱟᱠᱟᱱ;
ᱦᱟᱱᱮ ᱥᱮᱫᱟᱭ ᱱᱟᱜᱟᱢ ᱨᱮᱭᱟᱜ
ᱜᱮᱞ ᱢᱚᱲᱮ ᱟᱜᱚᱥᱴ, ᱑᱙᱔᱗ ᱥᱟᱞ ᱟᱹᱯᱱᱟᱹᱛ ᱢᱟᱦᱟ,
ᱫᱤᱥᱚᱢ ᱨᱮᱱ ᱥᱟᱱᱟᱢ ᱢᱟᱹᱱᱢᱤ ᱨᱟᱹᱥᱠᱟᱹᱛᱮᱠᱚ ᱪᱟᱯᱮᱞᱮᱱ
ᱵᱷᱟᱵᱤᱛ ᱞᱮᱫᱟᱠᱚ ᱪᱟᱵᱟᱭᱮᱱᱟ ᱥᱟᱥᱮᱛ ᱱᱟᱦᱟᱪᱟᱨ ᱯᱟᱞᱮᱱ᱾
ᱥᱟᱱᱟᱢ ᱟᱨᱡᱟᱣ ᱫᱷᱚᱱᱨᱮ ᱟᱯᱱᱟᱨᱟ ᱜᱮ ᱟᱭᱫᱷᱟᱹᱨ,
ᱵᱟᱝᱠᱚ ᱛᱟᱸᱦᱮᱱᱟ ᱟᱫᱚ ᱡᱟᱸᱱᱫᱮ ᱪᱷᱟᱱᱫᱮ, ᱵᱤᱨ ᱜᱟᱡᱟᱲ;
ᱛᱮᱭᱟᱨ ᱟᱠᱚ ᱢᱤᱫ ᱥᱩᱞᱩᱠ ᱱᱤᱨᱟᱹᱭ, ᱱᱤᱨᱟᱹᱲ ᱥᱟᱶᱛᱟ
ᱟᱯᱱᱟᱨ ᱫᱤᱥᱚᱢᱨᱮ ᱟᱯᱱᱟᱨᱟᱜ ᱜᱮ ᱨᱟᱡᱽ᱿

ᱪᱟᱵᱟᱭᱮᱱᱟ ᱥᱟᱱᱟᱢ ᱡᱚᱢᱤᱫᱟᱨ ᱠᱳᱣᱟᱜ ᱡᱚᱢᱤᱫᱟᱨᱤ
ᱡᱮᱹ ᱡᱮᱢᱚᱱ ᱠᱚ ᱪᱟᱥ ᱟᱱᱟ ᱦᱟᱨᱤ ᱯᱷᱟᱨᱤ᱾
ᱧᱮᱞ ᱠᱟᱛᱮ ᱡᱚᱢᱤᱫᱟᱨ ᱠᱚᱠᱚ ᱮᱛᱦᱚᱵ ᱠᱮᱫᱟ ᱱᱟᱣᱟ ᱟᱹᱨᱤ,
ᱱᱟᱦᱟᱜ ᱨᱮᱭᱟᱜ ᱪᱟᱞᱟᱜ ᱠᱟᱱ “ᱨᱟᱡᱽᱟᱹᱨᱤ”᱾
ᱮᱛᱦᱚᱵ ᱮᱱᱟ ᱟᱨᱦᱚᱸ ᱱᱟᱣᱟ ᱢᱤᱫ ᱞᱮᱠᱟᱛᱮ ᱥᱟᱥᱚᱱ,
ᱱᱟᱪᱟᱨ ᱢᱟᱹᱱᱢᱤᱼᱟᱜ ᱢᱚᱱᱮ ᱠᱷᱚᱱ ᱥᱟᱦᱟᱭᱮᱱᱟ ᱯᱷᱩᱨᱜᱟᱹᱞ ᱵᱷᱟᱵᱽᱱᱟ
ᱱᱤᱛᱦᱚᱸ ᱚᱱᱟᱛᱮᱜᱮ ᱥᱟᱨᱟᱵᱮᱲᱟ ᱜᱮᱠᱚ ᱨᱚᱸᱫᱷᱚᱱᱟ᱿

ᱯᱟᱨᱚᱢᱮᱱᱟ ᱛᱤᱱᱟᱜ ᱥᱮᱨᱢᱟ………ᱹᱹ
ᱱᱟᱪᱟᱨ ᱢᱟᱹᱱᱢᱤ ᱱᱤᱛᱦᱚᱸ ᱛᱟᱭᱚᱢᱨᱮᱜᱮᱠᱚ ᱛᱟᱸᱦᱮᱭᱮᱱᱟ᱾
ᱵᱟᱝᱠᱚ ᱧᱟᱢ ᱞᱮᱫ ᱱᱤᱛ ᱦᱟᱹᱵᱤᱡ ᱟᱠᱳᱣᱟᱜ ᱟᱭᱫᱷᱟᱹᱨ,
ᱡᱤᱣᱤ ᱵᱟᱹᱛᱤ ᱵᱟᱧᱪᱟᱣ ᱞᱟᱹᱜᱤᱫ ᱵᱟᱝᱠᱚ ᱧᱟᱢᱼᱟ ᱵᱤᱪᱟᱹᱨ᱾
ᱱᱤᱛᱦᱚᱸ ᱞᱤᱸᱜᱤᱜ ᱠᱟᱱᱟ ᱡᱚᱦᱟ ᱪᱮᱛᱟᱱ ᱢᱮᱫ ᱫᱟᱜ
ᱟᱹᱫᱤᱵᱟᱹᱥᱤ ᱠᱚᱣᱟᱜ ᱥᱟᱱᱟᱢᱟᱜ ᱥᱚᱨᱠᱟᱨ ᱨᱮᱡ ᱦᱟᱛᱟᱣᱼᱮ ᱮᱛᱦᱚᱵ ᱟᱠᱟᱫᱼᱟ᱾
ᱡᱟᱱᱟᱢ ᱟᱲᱟᱝᱛᱮ ᱨᱚᱲ ᱞᱟᱱᱫᱟ
ᱯᱷᱩᱨᱜᱟᱹᱞ ᱛᱟᱭᱚᱢ ᱨᱮᱜᱮ ᱫᱤᱥᱚᱢ ᱠᱷᱚᱱ ᱰᱩᱸᱜᱤ ᱟᱠᱟᱱ᱾
ᱵᱟᱝᱠᱚ ᱦᱟᱹᱴᱤᱧ ᱟᱠᱟᱫᱟ ᱡᱟᱱᱟᱢ ᱟᱲᱟᱝᱛᱮ ᱵᱷᱮᱜᱟᱨ ᱯᱚᱱᱚᱛ
ᱟᱹᱫᱤᱵᱟᱹᱥᱤ ᱠᱳ ᱪᱮᱛᱟᱱ ᱟᱨᱦᱚᱸ ᱪᱟᱢᱠᱮᱭᱮᱱᱟ ᱥᱟᱥᱮᱛ,
ᱫᱤᱥᱚᱢᱨᱮᱱ ᱟᱹᱫᱤᱵᱟᱹᱥᱤ ᱠᱳᱣᱟᱜ ᱡᱩᱢᱤᱫ ᱫᱟᱲᱮ ᱛᱟᱠᱚ
ᱟᱹᱯᱱᱟᱹᱛ ᱛᱟᱭᱚᱢᱜᱮ ᱥᱟᱱᱟᱢ ᱨᱟᱹᱯᱩᱫᱼᱮᱱ ᱛᱟᱠᱚ᱿

ᱱᱩᱢᱤᱱ ᱫᱤᱱ ᱛᱟᱭᱚᱢ ᱨᱮᱸᱦᱚ ᱟᱹᱯᱱᱟᱹᱛ ᱨᱮᱭᱟᱜ ᱨᱟᱹᱥᱠᱟᱹ
ᱟᱹᱫᱤᱵᱟᱹᱥᱤᱠᱚ ᱢᱩᱫᱽᱨᱮ ᱛᱮᱦᱮᱧᱦᱚᱸ ᱵᱟᱱᱩᱜ ᱟᱱ,
ᱢᱮᱫ ᱢᱩᱴᱷᱟᱹᱱᱨᱮ ᱱᱤᱛᱦᱚᱸ ᱦᱮᱱᱟᱜ ᱵᱮᱼᱟᱹᱯᱱᱟᱹᱛ ᱨᱮᱭᱟᱜ ᱪᱦᱟᱯ
ᱱᱚᱝᱠᱟ ᱦᱩᱭᱩᱜ ᱛᱤᱥᱦᱚᱸ ᱵᱟᱝᱠᱚ ᱵᱷᱟᱹᱵᱤᱛᱼᱟᱱ᱾
ᱟᱹᱯᱱᱟᱹᱛ ᱞᱟᱹᱭᱛᱮ ᱛᱮᱦᱮᱧ ᱡᱟᱹᱛᱤᱭᱟᱹᱨᱤ ᱪᱷᱩᱴᱤ ᱢᱟᱦᱟ,
ᱥᱚᱨᱠᱟᱹᱨᱤ ᱚᱯᱷᱤᱥ , ᱵᱤᱫᱫᱟᱹᱜᱟᱲ ᱠᱚᱨᱮ ᱵᱳᱱᱫᱮ ᱞᱟᱹᱰᱩ
ᱢᱟᱨᱟᱝ ᱢᱟᱨᱟᱝ ᱵᱷᱟᱥᱚᱱ ᱟᱨ ᱱᱟᱜᱟᱢ ᱨᱮᱭᱟᱜ ᱟᱹᱨᱤ᱾
ᱡᱟᱹᱛᱤᱭᱟᱹᱨᱤ ᱪᱤᱨ ᱚᱴᱟᱝᱼᱟᱛᱮ ᱰᱤᱜᱞᱟᱹᱣᱵᱟᱲᱟ,
ᱱᱟᱯᱟᱭ ᱱᱟᱯᱟᱭ ᱡᱚᱢ ᱧᱩ ᱛᱮᱦᱮᱧ ᱢᱤᱫ ᱵᱮᱲᱟ᱿

বিশ্ব আদিবাসী দিবস ও বর্তমান আদিবাসী সমাজ

আজ ৯ই আগস্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবস। বিশ্বের আদিবাসী জনগণের অধিকার সংরক্ষণ এবং সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ৯ই আগস্ট বিশ্ব আদিবাসীদের আন্তর্জাতিক দিবস পালন করা হয়। এই ইভেন্টটি পরিবেশ সংরক্ষণের মতো বিশ্বের সমস্যাগুলি উন্নত করতে আদিবাসীদের কৃতিত্ব ও অবদানকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন কর্তৃক এটি প্রথম উচ্চারিত হয়েছিল। সারা বিশ্বের আদিবাসীরা আজকের দিনটা খুব উৎসাহের সঙ্গে পালন করে আসছে। আদিবাসী বলতে কাদের বোঝায় বা আদিবাসী বলতে আমরা কাদের বলব? আদিবাসী কারা এটা এক কথায় প্রকাশ করা বা বলা সম্ভব নয় জাতিসংঘ একটা কার্যকরী সংজ্ঞা বলেছিলেন তা হল, ”আদিবাসী জনগোষ্ঠী জাতি এবং জাতি গুলি হল,যেগুলি প্রাক আগ্রাসন এবং প্রাক-ঔপনিবেশিক সমাজগুলোর একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা যা তাদের অঞ্চলগুলিতে বিকশিত হয়েছিল,সে অঞ্চল গুলিতে তাদের কিছু অংশে বিরাজমান সমাজের অন্যান্য খাত থেকে নিজেকে আলাদা মনে করে। তারা বর্তমানে সমাজের অপ্রভাবসালী খাত গঠন করে এবং তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির নিদর্শন অনুসারে জনগন হিসেবে তাদের অবিচ্ছিন্ন অস্তিত্বের ভিত্তি হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাদের পূর্বপুরুষের অঞ্চল এবং তাদের জাতিগত পরিচয় সংরক্ষণ, বিকাশ এবং সংক্রমণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা,সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে।”

অর্থাৎ বলা চলে উন্নত সভ্যতার গঠন হওয়ার পূর্বে যে সমস্ত জাতি বসবাস করত যাদের নিজস্ব ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি অন্যদের চেয়ে অনেক আলাদা ও স্বতন্ত্র, যারা নিজের সমাজের অস্তিত্ব রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং উন্নয়নশীল সমাজের থেকে অনেক দূরে, জল জঙ্গল,পাহাড়ে যাদের বাস তাদের কেই আমরা আদিবাসী বলতে পারি। এই আদিবাসীরা হলো দেশের একমাত্র আদিম অধিবাসী। আজকের আধুনিক সমাজের জনক সেই আদিবাসী,যাদের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হয় নিজের সংস্কৃতি,ধর্ম,পূজা পার্বণ। বন জঙ্গল যাদের প্রাণ, এই প্রকৃতি তাদের দেব স্থান, যারা হলেন প্রকৃতির পূজারী তারাই হলো আদিবাসী। এই আদিবাসীরা যুগ যুগ ধরে নানা রকম ভাবে শোষিত, বঞ্চিত,নিপীড়িত এক জাতি। যাদের কে বার বার করে তাদের বাসস্থান পাল্টাতে হয়েছে অত্যাচারী শাসকের জন্য। এই আদিবাসীরা আজকের দিনও শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত এক জাতি। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই আদিবাসীদের বসবাস দেখাযায় কমবেশী।

আমাদের ভারত বর্ষে ১০ মিলিয়নের চেয়েও বেশি আদিবাসী বসবাস করছেন। এই আদিবাসীদের মধ্যে আবার অনেক জাতি আছে যাদের ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ভিন্ন ভিন্ন । সাঁওতাল জাতি তার মধ্যে এক উন্নত আদিবাসীদের মধ্যে একটা জাতি। যাদের মাতৃ ভাষায় শিক্ষালাভ এর সুযোগ আছে। আদিবাসী সম্প্রদায় গুলি ইতিমধ্যে প্রচুর বাধার সম্মুখীন হয়েছে এবং দুর্ভাগ্যজনক বর্তমান বাস্তবতার ই হচ্ছে যে COVID-19 এর প্রভাব এখন এ বাধাগুলোকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আদিবাসী সম্প্রদায়় গুলো ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যসেবা গুলিতে সঠিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত,রোগের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধির হার, প্রয়োজনীয় পরিষেবা গুলোর অভাব স্যানিটেশন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যেমন পরিষ্কার জল জীবাণুনাশক ইত্যাদি। এমনকি আদিবাসীরা যখন স্বাস্থ্যপরিসেবা পেয়ে থাকে তখনো তাদের বিভিন্ন অপমানজন ও বৈষম্যের শিকার হতে হয়। মূল বিষয় হলো আদিবাসীদের নির্দিষ্টট পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত হিসাবে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় আদিবাসী ভাষায় পরিষেবা এবং সুযোগ-সুবিধা সরবরাহ নিশ্চিত করা। এছাড়াও শিক্ষাক্ষেত্রে আদিবাসীদের সমস্ত রকম সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যাতে তারা নিখরচায় শিক্ষা লাভ করে তাদের জাতিকে উন্নয়নের মূল স্রোত এ নিয়ে আসতে পারে তার জন্য সকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে।

এছাড়াও আদিবাসী যাতে মাতৃভাষায় পড়াশোনা করতে পারে তার ব্যবস্থাাা করা প্রয়োজন। আদিবাসীরা প্রায় সকলেই অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করে তাদের সংসার চালান। অনেক ক্ষেত্রে মহিলারা সংসারেেের হাল ধরেন। বন থেকেে শুকনো কাঠ পাতা আরোহন করে রোজগার করেন। ভারতবর্ষে অরণ্যযবাসী আদিবাসীদের অরণ্যের অধিকার আইন ২০০৬ কে সংশোধন করার মাধ্যমে আদিবাসীদের জীবনযাত্রাকে এক চরম সংকটের মুখে ঠেেলে দেওয়া হয়েছে। সাঁওতাল পরগনা টেনান্সি অ্যাক্ট ছোটনাগপুর টেনান্সি অ্যাক্ট বাতিল করার মাধ্যমে সাঁওতাল তথা আদিবাসীদের জমির উপর সরকার থাবা বসাতে চলেছে। বড়় বড় শিল্পপতিদের হাতে অরণ্যের অধিকার তুলে দিয়ে অরণ্য ধ্বংস করার একটা চক্রান্ত চলছে। সরকার আদিবাসীদের সংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ দেওয়া ও অরণ্যের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আদিবাসীদের প্রকৃত উন্নয়ন করার জন্য সচেষ্ট হতেে হবে। ভারতবর্ষে বিভিন্ন ভাষাভাষী আদিবাসী মানুষজন থাকলো সবাই কিন্তুুুু তাদের মাতৃভাষায় পড়াশোনা করার সুযোগ পায় না।

2003 সালের 22 শে ডিসেম্বর ভারতবর্ষের সংবিধানের অষ্টম তফসিলেে সাঁওতালি ভাষাা অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তি হওয়ার দীর্ঘদিন পর সাঁওতালি ভাষায়় পড়াশোনা চালু হয়েছে। বহু বঞ্চনার মধ্যে আজ এগিয়ে চলেছ। এই বার প্রথম উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য এখনো পর্যন্ত শুধুমাত্র একটি কলেজে দুটি বিষয়ের উপর অনার্স কোর্সে পড়ার জন্য অনুমোদন পেয়েছি। কিন্তুুু দুর্ভাগ্যের বিষয়় যখন অন্যান্য মিডিয়ামেের ছাত্র ছাত্রীরা আগামীকাল থেকে কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য অনলাইনে ফরম ফিলাপ শুরু করবে কিন্তু সাঁওতালি মিডিয়াম ছাত্র-ছাত্রীদের এখনো পর্যন্ত কলেজের নাম ও জানানো হলো না। জানিনা এভাবেে কি সরকার ভারত বর্ষ থেকে আদিবাসীদের চিরতরে মুছেে ফেলতে চায়? কিন্তু না, সরকার শত চেষ্টা করেও কিন্তুুু আদিবাসীদের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে পারবে না। এই আদিবাসীরাই একদিন ইংরেজদের গোলাবারুদের সামনে ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার জন্য বুক চিতিয়ে আন্দোলন করেছিলেন। একথা গর্বব করে বলতে বলতেে পারি ১৮৫৫ সালে হুল বিদ্রোহ সংগঠিত না করলে ভারতবর্ষের অন্যান্য জাতি ইংরেজদের হাত থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার জন্য আন্দোলনের কথা ভাবতেও পারতেন না। সেই আদিবাসীদেের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা একটা ঐতিহাসিক ভুল হবেই এবং তার জবাব কড়া হাতেই করা হবে। (সংক্ষিপ্ত)

হুদিশ

– হুদিশ

– রিমিল

ᱚᱠᱛᱚ ᱯᱚᱞᱚᱢᱚᱜ ᱠᱟᱱ ……..

ᱡᱩᱜ ᱦᱚᱸ ᱯᱟᱞᱚᱴᱚᱜᱠᱟᱱ,

ᱢᱟᱱᱣᱟ ᱡᱟ.ᱛᱤ ᱥᱟᱱᱟᱢ ᱩᱛᱱᱟ.ᱣ ᱰᱟᱦᱟᱨ ᱛᱮᱠᱚ ᱢᱚᱦᱰᱟ ᱟᱠᱟᱱ᱾

ᱞᱤᱞ ᱥᱮᱨᱢᱟ ᱞᱟᱯᱷᱟᱝ ᱞᱟᱛᱟᱨ ᱪᱮᱬᱮ ᱞᱮᱠᱟ ᱩᱵᱟ.ᱣ

ᱠᱩᱠᱢᱩ ᱛᱤᱦᱤᱧ ᱥᱟᱹᱨᱤ ᱟᱠᱟᱱ, ᱥᱟᱱᱟᱢ ᱢᱟ.ᱱᱢᱤ ᱴᱷᱮᱱ᱾

ᱥᱟᱸ.ᱜᱤᱧ ᱛᱤᱦᱤᱧ ᱥᱳᱨ ᱟᱠᱟᱱ,

ᱪᱟᱸᱱᱫᱳ ᱢᱟᱢᱟ ᱴᱷᱮᱱ ᱪᱟᱞᱟᱣ ᱦᱚᱸ ᱛᱤᱦᱤᱧ ᱠᱩᱠᱢᱩ ᱵᱟᱝ ᱠᱟᱱ᱾

ᱱᱳᱣᱟ ᱚᱛ ᱦᱟᱥᱟ, ᱫᱷᱩᱲᱤ ᱫᱷᱟᱹᱨᱛᱤ ᱵᱟᱹᱜᱤ ᱠᱟᱛᱮ

ᱟ.ᱰᱤ ᱥᱟ.ᱜᱤᱧ……….. ᱟ.ᱰᱤ ᱥᱟ.ᱜᱤᱧ……………

ᱩᱵᱟ.ᱣ ᱪᱟᱞᱟᱜ ᱠᱟᱱᱟ ᱱᱤᱛᱦᱚᱸ ᱢᱟ.ᱱᱢᱤᱭᱟᱜ ᱥᱤᱨᱡᱚᱱ,

ᱥᱟᱹᱨᱤᱜᱮ ᱛᱤᱦᱤᱧ ᱛᱤᱱᱟ.ᱜ ᱞᱟᱦᱟ ᱟᱠᱟᱱ ᱢᱟ.ᱱᱢᱤ ᱡᱤᱭᱚᱱ᱿

ᱱᱚᱣᱟ ᱫᱷᱟᱹᱨᱛᱤ ᱨᱮ ᱦᱮᱱᱟᱜ ᱠᱚ ᱛᱤᱱᱟ.ᱜ ᱡᱟ.ᱛᱤ

ᱥᱟᱱᱟᱢ ᱠᱚ ᱪᱷᱩᱴᱟᱹᱣ ᱟᱠᱟᱱ ᱩᱛᱱᱟᱣ ᱞᱟᱹᱜᱤᱫ ᱩᱛᱤ ᱥᱩᱛᱤ᱾

ᱥᱟᱶᱦᱮᱫ ᱵᱟᱜᱟᱣᱟᱱ ᱨᱮᱱ ᱞᱩᱛᱤ ᱛᱮᱨᱚᱢ

ᱯᱟᱥᱱᱟᱣ ᱮᱫᱟᱠᱚ ᱥᱟᱣᱦᱮᱫ ᱢᱚᱦᱚᱠ ᱟ.ᱰᱤ ᱥᱟᱸ.ᱜᱤᱧ

ᱢᱚᱦᱚᱠ ᱥᱚ ᱛᱮ ᱥᱟᱱᱟᱢ ᱯᱟᱠᱟᱲ ᱟᱫᱟ ᱩᱛᱟᱹᱨᱮᱱ,

ᱥᱟᱱᱛᱟᱲ ᱡᱟ.ᱛᱤ ᱮᱱᱦᱚᱸ ᱪᱮᱫᱟᱜ ᱵᱚ ᱟᱸᱫᱷᱟᱭᱮᱱ?

ᱪᱮᱫᱟᱜ ᱜᱮᱵᱟᱝ ᱚᱱᱚᱞᱤᱭᱟ., ᱚᱱᱚᱲᱦᱤᱭᱟ.

ᱱᱤᱛᱦᱚᱸᱠᱚ ᱚᱞᱮᱫ ᱠᱟᱱᱟ ᱦᱩᱫᱤᱥ ᱠᱟᱛᱷᱟ,

ᱦᱟᱱᱰᱤ , ᱯᱟᱹᱣᱨᱟ. , ᱫᱷᱚᱨᱚᱢ ᱠᱚᱨᱚᱢ, ᱥᱮᱪᱮᱫ ᱠᱟᱛᱷᱟ

ᱛᱤᱥᱫᱚᱠᱚ ᱚᱞ-ᱟ ᱥᱟᱶᱦᱮᱫ ᱦᱟᱨᱟ ᱵᱩᱨᱩ ᱵᱟᱠᱷᱨᱟ!

ᱛᱤᱥᱫᱚ ᱯᱟᱞᱚᱴᱚᱜ-ᱟ ᱚᱱᱚᱞᱤᱭᱟᱹ ᱠᱚᱣᱟᱜ ᱥᱟᱛᱟᱢ,

ᱛᱤᱥᱫᱚ ᱠᱤᱸᱥᱟ.ᱲᱚᱜ-ᱟ ᱥᱟᱱᱛᱟᱲ ᱥᱟᱶᱦᱮᱫ ᱵᱟᱜᱣᱟᱱ?

ᱱᱚᱣᱟ ᱞᱟᱦᱟᱱᱛᱤ ᱥᱚᱥᱚᱱᱚᱜ ᱰᱟᱦᱟᱨ ᱨᱮ ᱦᱮᱡ ᱠᱟᱛᱮ

ᱚᱱᱚᱞᱤᱭᱟ. , ᱚᱱᱚᱲᱦᱤᱭᱟᱹ ᱠᱚᱣᱟᱜ ᱱᱚᱱᱚᱞ

ᱱᱤᱛᱦᱚᱸ ᱚᱞᱚᱜ ᱠᱟᱱᱟ ᱥᱟᱱᱛᱟᱲ ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱩᱛᱱᱟ.ᱣ ᱨᱮᱭᱟᱜ ᱠᱟᱛᱷᱟ;

ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱨᱮᱭᱟᱜ ᱥᱟᱹᱨᱤ ᱪᱤᱛᱟ.ᱨ

ᱥᱟᱶᱦᱮᱫ ᱵᱟᱰᱳᱦᱤ ᱟᱢᱟᱜ ᱱᱚᱱᱚᱞ ᱛᱤ ᱪᱩᱯᱩᱫᱨᱮ᱾

ᱟᱢᱟᱜ ᱠᱟᱛᱷᱟ ᱜᱮ ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱨᱮᱭᱟᱜ ᱠᱟᱛᱷᱟ,

ᱟᱢᱟᱜ ᱠᱟᱛᱷᱟ ᱜᱮ ᱡᱟᱹᱛᱤᱭᱟᱜ ᱠᱟᱛᱷᱟ,

ᱟᱢᱟᱜ ᱚᱞ ᱜᱮᱛᱚᱭ ᱥᱚᱫᱚᱨᱮᱫᱟ

ᱟᱢᱟᱜ ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱱᱤᱛᱦᱚᱸ ᱛᱟᱭᱚᱢ ᱨᱮᱜᱮ,

ᱞᱟᱦᱟᱱᱛᱤ ᱰᱟᱦᱟᱨ ᱠᱷᱚᱱ ᱟ.ᱵᱤ ᱥᱟᱦᱟᱨᱮ᱾

ᱦᱩᱫᱤᱥ ᱢᱮᱥᱮ ᱚᱱᱚᱞᱤᱭᱟ., ᱚᱱᱚᱲᱦᱤᱭᱟ,

ᱟᱢᱟᱜ ᱚᱞᱜᱮ ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱪᱮᱫᱟᱜ ᱛᱟᱭᱚᱢ ᱨᱮᱜᱮ ᱫᱚᱦᱚᱭ!

শতবর্ষের দোরগোড়ায় “অলচিকি” লিপি

কলমে:- রিমিল

“অকারণে বৃথাই কেন করো বারণ, সময় চলে আপন খেয়ালে, সময়ের সাথে অগ্রগতি মোদের চলনে।”

দেখতে দেখতে আমরা আজ 95 বৎসরে পা রাখলাম আর পাঁচ বছর পরে পূর্ণ হবে শতবর্ষের। আমরা সেই মহান ঐতিহাসিক বর্ষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছি। আর পাঁচ বছর পরেই আসবে সেই মহান বর্ষ অর্থাৎ 2025 সালে পূরণ হবে সাঁওতালি ভাষার জন্য প্রথম লিখিত বর্ণমালা অলচিকি হরফ এর। একটা সময় ছিল যখন সাঁওতালি ভাষাতে পঠন পাঠন করার জন্য কোন সুযোগ-সুবিধা বা সাঁওতালি ভাষায় রচিত কোন পাঠ্যপুস্তক ছিল না। নিজের মাতৃভাষায় লেখাপড়া করার যে একটা সুবিধা সেটা বুঝতে পেরেছিলেন পন্ডিত রঘুনাথ মুরমু মহাশয়। অন্য কোন লিপিতে সাঁওতালি ভাষা লিখিত আকারে সঠিকভাবে প্রকাশ করা যায় না তা বলাই বাহুল্য। সাঁওতালি ভাষা লিখিত আকারে প্রকাশ করার জন্য একটা স্বতন্ত্র লিপির প্রয়োজন ছিল। এছাড়াও এই পৃথিবীতে সাঁওতালি ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে গেলে নিজস্ব মাতৃভাষার মত নিজস্ব একটা দরকার ছিল । এই সমস্ত কিছু সুবিধার্থে এবং মাতৃভাষায় পড়াশোনা করার জন্যই পন্ডিত রঘুনাথ মুর্মু 1925 সালে “অলচিকির” সৃষ্টি করেছিলেন। আজ আমরা উনার সৃষ্টি করা লিপির মাধ্যমে সাঁওতালি ভাষায় পাঠ্যপুস্তক রচনা থেকে সাহিত্য চর্চা ইত্যাদি করে থাকি। এই “অলচিকি” হরফকে জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিজ হাতে ছাপাখানা তৈরি করে ও বই ছেপে তা প্রসারে জোর দিয়েছিলেন পন্ডিত রঘুনাথ মুরমু মহাশয়। এই “অলচিকি” লিপিতে মুদ্রিত প্রথম বই হল “বিদু চাঁদান” 1942 সালে বাংলা “অলচিকি” দুইটি হরফে ছাপা হয়েছিল ,উক্ত বছরেই “অল চেমেদ”ও “অল উপরুম” বই দুটি লেখেন পন্ডিত রঘুনাথ মুরমু।

আজকে অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে এগিয়ে চলেছে স্বমহিমায় “অলচিকি “লিপি। এই “অলচিকি” লিপি যে বিজ্ঞানসম্মত তা একবাক্যে সবাই মেনে নেন কিন্তু “সুন্দর সে যতই হোক বিশ্রী বলার লোক তো থাকবেই” সেইরুপ, অনেকেই “অলচিকি” লিপির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন। উনারা “রোমান” হরফে সাঁওতালি তে লেখাপড়া চালু করার জন্য একটা প্রচেষ্টা করেছিলেন এবং তাতে উনারা কিছুটা সফলও হয়েছিলেন। এখনো এই “রোমান” হরফে সাঁওতালি ভাষা চর্চার করার একটা প্রচেষ্টা আছে কিন্তু “অলচিকি” লিপিতেই যে একমাত্র সাঁওতালি ভাষা লিখিত ভাবে প্রকাশ করা যায় তা অন্য কোন ভাষার লিপিতে সম্পূর্ণ রূপে প্রকাশ করা অসম্ভব। সাঁওতালি ভাষার নিজস্ব লিপি “অলচিকি”র শতবর্ষ উদযাপনের জন্য বা স্বাগত জানানোর জন্য সাঁওতালি ভাষা দরদী মানুষজনের মধ্যে অন্য আবেগ, অনুভূতির ঢেউ খেলে যাচ্ছে। শতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নানারকম কর্মসূচির বাস্তবায়নের জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি চোখে পড়ার মতো।

2003 সালের 22 শে ডিসেম্বর ভারতের” অষ্টম তফসিলে” সাঁওতালি ভাষা অন্তর্ভুক্তি হওয়ার পর 2005 সাল থেকে “সাহিত্য একাডেমী” নিউ দিল্লি ,সাঁওতালি ভাষায় রচিত সাহিত্যকর্মের জন্য পুরস্কার চালু করেছে। এই পুরস্কারের জন্য সাঁওতালি সাহিত্যচর্চা দ্বিগুণ গতিবেগ পেয়েছে একথা কিন্তু মানতেই হবে। নিত্যনতুন লেখক ও কবি এর আবির্ভাব তারই ইঙ্গিত বহন করছে। এখনতো সাঁওতালি সাহিত্য চর্চা করার জন্য লেখক, কবিগণ বই, খাতা, ডায়েরি তুলে রেখে “ফেসবুক” সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজের লেখনশৈলী তুলে ধরতে বেশি মাত্রায় উৎসুক থাকেন। এই ফেসবুক সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিত্যনতুন অনেক লেখক ও কবির সন্ধান পাওয়া যায়। যারা কিনা বই ছাপা করার থেকে ফেসবুক কেই বই হিসাবে ব্যবহার করতে পছন্দ করেন । যারা অন্য লেখকের ছাপা বই পড়ার জন্য কোন সময় পান না, উনারাই আবার ফেসবুকে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেন। তবু বলব এই ফেসবুক মিডিয়ার মাধ্যমে সাঁওতালি সাহিত্য চর্চা খুব জোরদার ভাবেই চলছে। তার সাথে সমান তালে চলছে সাঁওতালি মাধ্যমের পঠন-পাঠন ও ” মিশন অলচিকি 2025″- এর কর্মযজ্ঞ। এই মিশনের এক এবং অদ্বিতীয় উদ্দেশ্য হল সাঁওতালি ভাষার প্রসার ও সাঁওতালি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে অলচিকি লিপিতে 100% স্বাক্ষর করে তোলা। এই উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরদার প্রচার ও “অল চিকি” তে পাঠদানের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে যাতে 2025 সালের মধ্যে সাঁওতালি ভাষার ক্ষেত্রে অলচিকি লিপির ব্যবহার 100% নিশ্চিত করা যায়। এটা একটা খুবই প্রশংসনীয় পদক্ষেপ এতে কোন সন্দেহ নেই।

কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে “মিশন অল চিকি 2025” অধরাই থেকে যাবে ও তাহার পরিপূর্ণ স্বাদ পেতে আমাদের হয়তো আরো অনেক বছর অপেক্ষা করতে হবে। কেননা এই অল চিকি লিপিতে সাঁওতালি ভাষা চর্চা ও প্রচারে যাদের ভূমিকা অগ্রগণ্য বলে মনে করা হয় সেই সমস্ত লেখক, কবি ,গীতিকারগণ সাঁওতালি ভাষায় সাহিত্য চর্চার জন্য “অলচিকি” নয় অন্য কোন দ্বিতীয় ভাষার অবলম্বন করছেন যেমন উড়িষ্যাতে “ওড়িয়া” আসামে “অসমীয়া” পশ্চিমবঙ্গে “বাংলা” ঝাড়খন্ড ও বিহারে “দেবনাগরী” লিপিতে সাহিত্য চর্চা করতে বেশি অভ্যস্ত ও ভালো মনে করেন বলেই মনে হয়। এছাড়াও ফেসবুক, হোয়াটঅ্যাপস ছাড়াও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সাঁওতালি ভাষায় লেখার জন্য অলচিকি লিপির ব্যবহার করা গেলেও তা কিন্তু অনেকেই যত্নসহকারে এড়িয়ে যান অদ্বিতীয় ভাষাতেই লেখালেখি বা কোন কিছুর উপরে পোস্ট করতে পছন্দ করেন। এর থেকেও আরও একটা উদ্বেগের বিষয় হলো যে সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীগণ আছেন উনাদের মধ্যে যারা অলচিকি লিপি দরদী মানুষজন আছেন উনারা নিজের লেখা গুলো অলচিকি লিপিতে পোস্ট করে থাকেন। এই লেখাগুলো যতই সুন্দর ও তথ্য সমৃদ্ধ হোক না কেন সে সমস্ত পোস্টগুলোকে সন্তর্পনে এড়িয়ে চলতেই সবাই এখন অভ্যস্ত এবং দিনের শেষে দেখা যায় একটা লাইক বা কমেন্ট ও জমা পড়ে না কিন্তু উক্ত লেখাটি আবার দ্বিতীয় কোন হরফে লেখা হলে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করার বন্যা বয়ে যায়। এর থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় মুখে যতই আমরা বলি না কেন সাঁওতালি ভাষা মোদের মাতৃভাষা, অলচিকি লিপি মোদের গর্ব কিন্তু আমরা তার ব্যবহার 5% করি কিনা সন্দেহ আছে।

“মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধ সমান”- এই কথাটা অন্য ভাষার ক্ষেত্রে যথার্থ মনে হলেও সাঁওতালি ভাষার ক্ষেত্রে এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে মনে হয়না যথার্থ হবে। তাইতো এখনও সেরকম ভাবে কোনো পত্রপত্রিকা অলচিকি লিপিতে ছাপা হয় না। যে কয়েকটি ছাপা হয় তা উক্ত পত্রিকার সম্পাদকের সাঁওতালি ভাষা প্রীতির জন্য সম্ভবপর হচ্ছে। এছাড়াও এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে সাঁওতালি ভাষা জানা মানুষ জন প্রযুক্তিতে এগিয়ে চলেছে তবুও এখনো সেরকম একটা সাঁওতালি ভাষায় ওয়েবসাইট দেখতে পাওয়া যায় না। হাতেগোনা দুটি বা তিনটি ওয়েবসাইট বর্তমানে দেখতে পাওয়া যায় ,যাতে প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন খবর ও নতুন নতুন লেখকের সাহিত্য চর্চা দেখতে পাওয়া যায়। বহুল পরিচিত ও স্বনামধন্য যে সমস্ত পত্রপত্রিকা ও ওয়েবসাইট সাঁওতালি সাহিত্য চর্চার জন্য আছে তাও কিন্তু অন্য দ্বিতীয় লিপির মাধ্যমে সাঁওতালি ভাষা প্রকাশ করা হয়।

পরিশেষে এটাই বলব এখনকার ছাত্রছাত্রীরা যারা সাঁওতালি মাধ্যমে পড়াশোনা করছে শুধুমাত্র তারাই অলচিকি লিপিতে পাঠ্যবই পড়াশোনা করছে এবং তারাই হল একমাত্র সাঁওতালি ভাষা দরদী। তারা এক অনিশিত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে চলেছে, কুর্নিশ তাদের জানাতেই হয় এবং তার সাথে তাদের প্রিয় অভিভাবক অভিভাবিকাদের । এই অলচিকি লিপির শতবর্ষ কেমন হবে বা সাঁওতালি ভাষাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার জন্য আমাদের নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসা দরকার। সে সমস্ত সম্পাদক মহাশয় পত্রপত্রিকা বা ওয়েবসাইটে যারা প্রতিনিয়ত অলচিকি লিপির প্রচারের জন্য সচেষ্ট তাদের পাশে আমাদের থাকা একান্তই উচিত।

হিটৗং ঝাড়াং

ᱦᱤᱴᱟ.ᱝ ᱡᱷᱟᱲᱟᱝ

ᱨᱤᱢᱤᱞ

ᱠᱚᱭᱚᱜ ᱨᱩᱭᱟᱹᱲ ᱢᱮᱥᱮ ᱹᱹᱹᱹᱹᱹᱹᱹᱹᱹ
ᱦᱟᱱᱮ ᱥᱮᱫᱟᱭᱟᱜ ᱦᱤᱦᱤᱲᱤ ᱯᱤᱯᱲᱤ
ᱪᱟᱹᱭ, ᱪᱟᱢᱯᱟ, ᱵᱟᱫᱳᱞᱤ, ᱠᱚᱸᱭᱵᱟ,
ᱛᱤᱱᱟᱹᱜ ᱢᱚᱧᱡᱽ ᱛᱟᱸᱦᱮᱠᱟᱱᱟ ᱠᱷᱮᱨᱣᱟᱞ ᱜᱟᱲ᱾
ᱛᱟᱸᱦᱮ ᱠᱟᱱᱟ ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱛᱟᱞᱟ ᱥᱩᱞᱩᱠ ᱱᱤᱨᱟᱹᱭ᱿
ᱠᱟᱹᱭᱡᱟᱹ, ᱠᱷᱟᱹᱯᱟᱹᱨᱤ, ᱦᱤᱸᱥᱟᱹᱼᱥᱩᱭᱟᱹᱹᱹᱹᱹᱹᱹᱹᱹ
ᱵᱟᱝ ᱛᱟᱸᱦᱮ ᱠᱟᱱᱟ ᱢᱟᱹᱱᱢᱤ ᱢᱚᱱᱮᱨᱮ ᱠᱩᱭᱟᱹ ,
ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱛᱟᱞᱟ ᱥᱩᱞᱩᱠ ᱥᱟᱹᱜᱟᱭ ᱦᱩᱱᱟᱹᱝ
ᱵᱚᱭᱦᱟ ᱥᱟᱹᱜᱟᱭ ᱞᱮᱠᱟ ᱛᱟᱸᱦᱮ ᱠᱟᱱᱟ ᱥᱤᱱᱟᱹᱢ᱿


ᱩᱭᱦᱟᱹᱨ ᱢᱮᱥᱮ ᱱᱤᱛᱟᱜ ᱥᱟᱶᱛᱟ
ᱵᱮᱼᱵᱟᱹᱲᱤᱡ ᱠᱟᱹᱢᱤ ᱟᱨ ᱮᱠᱮᱱ ᱵᱷᱟᱶᱛᱟ,
ᱫᱷᱚᱨᱚᱢ ᱠᱷᱟᱹᱛᱤᱨ ᱫᱮᱹᱥ ᱫᱚ ᱵᱷᱮᱜᱟᱨᱮᱱ
ᱵᱚᱭᱦᱟ ᱥᱟᱹᱜᱟᱹᱭ ᱦᱚᱸ ᱢᱟᱥᱮ ᱵᱟᱯᱟᱜᱼᱮᱱ᱾

ᱦᱤᱴᱟᱹᱝ ᱡᱷᱟᱲᱟᱝ ᱦᱮᱱᱟᱜ ᱱᱚᱣᱟ ᱥᱟᱶᱛᱟ,
ᱡᱩᱢᱤᱫ ᱞᱟᱹᱜᱤᱫ ᱠᱳ ᱨᱤᱠᱟᱹᱭᱮᱱ ᱛᱤᱱᱟᱹᱜ ᱜᱟᱶᱛᱟ
ᱢᱤᱴᱤᱝ ᱢᱤᱪᱷᱤᱞ ᱫᱳᱢᱮᱞ ᱫᱳᱢᱮᱞ‌ᱹᱹᱹᱹᱹᱹᱹ
ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱦᱩᱛᱤᱠᱳ ᱠᱚᱭᱚᱜ ᱟᱠᱟᱫ ᱢᱮᱸᱨᱮᱞ ᱢᱮᱸᱨᱮᱞ,
ᱥᱚᱢᱟᱡᱽ ᱨᱮᱭᱟᱜ ᱢᱚᱦᱚᱛᱟᱱ ᱟᱹᱱ ᱟᱹᱨᱤ
ᱛᱤᱥᱦᱚᱸ ᱵᱟᱝ ᱵᱳᱱ ᱨᱟᱹᱯᱩᱫᱽ ᱱᱚᱣᱟᱜᱮᱵᱳᱱ ᱥᱟᱹᱨᱤ᱾
ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱨᱮᱱ ᱞᱤᱸᱫᱤᱨ ᱜᱟᱸᱰᱟᱨᱹᱹᱹᱹ
ᱮᱱᱦᱚᱸᱠᱚ ᱡᱚᱢᱮᱫ ᱠᱟᱱᱟ ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱨᱤᱦᱤᱴ᱾


ᱠᱚᱭᱚᱜᱽ ᱢᱮᱥᱮ ᱱᱤᱛᱚᱜ ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱛᱟᱞᱟ
ᱠᱚᱭᱚᱜᱽ ᱢᱮᱥᱮ ᱱᱤᱛᱚᱜ ᱥᱟᱱᱟᱢ ᱫᱤᱥᱚᱢ ᱛᱟᱞᱟ
ᱦᱤᱴᱟᱹᱝ ᱡᱷᱟᱲᱟᱝᱜᱮ ᱢᱮᱱᱟᱜ ᱟᱢᱟᱜ ᱥᱟᱶᱛᱟ,
ᱨᱤᱦᱤᱴ ᱞᱟᱹᱜᱤᱫ ᱡᱟᱸᱦᱟᱭᱼᱮ ᱢᱮᱱ ᱩᱱᱤᱜᱮᱛᱚ ᱵᱷᱟᱶᱛᱟ᱾
ᱫᱩᱠᱷ ᱫᱚᱨᱭᱟ ᱠᱷᱚᱱ ᱚᱣᱟᱨ ᱞᱟᱹᱜᱤᱫ
ᱱᱚᱣᱟ ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱚᱜᱚᱢ ᱫᱚᱨᱭᱟᱥᱮᱫᱜᱮᱭ ᱞᱟᱦᱟᱭ,
ᱚᱱᱠᱟᱱ ᱢᱟᱹᱱᱢᱤᱠᱳᱜᱮᱛᱚ ᱢᱟᱹᱱᱵᱳᱱ ᱥᱚᱝᱼᱟᱭ᱾
ᱫᱷᱚᱨᱚᱢ ᱨᱮᱭᱟᱜ ᱮᱱᱮᱡ ᱥᱮᱨᱮᱧ, ᱵᱤᱱᱛᱤ ᱵᱟᱠᱷᱮᱬ
ᱠᱟᱹᱣᱵᱤ ᱞᱟᱞᱚᱪᱛᱮᱜᱮ ᱥᱟᱱᱟᱢᱼᱮᱢ ᱩᱡᱟᱹᱲ᱾
ᱛᱮᱭᱟᱨᱚᱜ ᱠᱟᱱᱟᱠᱳ ᱛᱤᱱᱟᱹᱜ ᱢᱟᱹᱧᱡᱽᱦᱤ ᱪᱮᱛᱟᱱ ᱢᱟᱹᱧᱡᱽᱦᱤ,
ᱨᱟᱹᱯᱩᱫ ᱮᱫᱟᱠᱳ ᱢᱚᱦᱚᱛᱟᱱ ᱟᱹᱱ ᱟᱹᱨᱤ,
ᱱᱟᱣᱟᱠᱟᱨᱛᱮ ᱛᱮᱭᱟᱨ ᱮᱫᱟᱠᱳ ᱥᱚᱢᱟᱡᱽ ᱨᱮᱭᱟᱜ ᱟᱹᱨᱤ;
ᱨᱟᱹᱯᱩᱫ ᱮᱫᱟᱠᱳ ᱡᱟᱦᱮᱨ ᱛᱷᱟᱱ, ᱵᱳᱝᱜᱟ ᱵᱩᱨᱩ ᱟᱹᱨᱤᱪᱟᱞᱤ
ᱱᱚᱣᱟ ᱜᱮᱛᱚᱠᱳ ᱢᱮᱛᱟᱜ ᱠᱟᱱᱟ “ᱨᱟᱡᱽᱟᱹᱨᱤ”᱿


ᱤᱧᱟ.ᱜ ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱹᱹᱹᱹᱹᱹ ᱤᱧᱟ.ᱜ ᱜᱟᱶᱛᱟ
ᱥᱟᱱᱟᱢ ᱠᱷᱚᱱᱟᱜ ᱟᱹᱰᱤ ᱥᱚᱨᱮᱥ
ᱯᱟᱥᱱᱟᱹᱣ ᱮᱫᱟᱠᱳ ᱱᱟᱣᱟ ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱟᱹᱨᱤ ᱥᱟᱱᱟᱢ,
“ᱨᱟᱡᱽᱟᱹᱨᱤ” ᱱᱮᱛᱟᱜ ᱞᱟᱹᱜᱤᱫ ᱠᱩᱠᱢᱩ ᱛᱟᱠᱳ ᱥᱟᱹᱨᱤᱭᱟᱱ᱾
ᱦᱟᱴᱤᱝ ᱮᱫᱟᱠᱳ ᱢᱤᱫ ᱟᱛᱳ , ᱵᱟᱨ ᱯᱮ ᱯᱟᱴᱤ
ᱱᱟᱯᱟᱭ ᱠᱟᱛᱷᱟ ᱦᱚᱸ ᱥᱤᱠᱤᱲᱼᱮᱱ ,
ᱰᱟᱹᱰᱤ, ᱠᱩᱧ ᱫᱟᱜ ᱦᱟᱹᱴᱤᱝ ᱮᱱ᱾
ᱱᱮᱛᱟᱭᱮᱱᱟᱠᱳ ᱟᱨᱦᱚᱸ ᱮᱢᱟᱱ, ᱢᱩᱪᱟᱹᱫ ᱨᱮᱫᱚ ᱵᱷᱩᱞᱩ ᱥᱮᱛᱟ,
ᱥᱟᱶᱛᱟ ᱥᱟᱱᱟᱢᱠᱳ ᱟᱠᱷᱨᱤᱧ ᱠᱮᱫᱼᱟ
“ᱨᱟᱡᱽᱟᱹᱨᱤ” ᱜᱮᱠᱳ ᱥᱟᱢᱟᱝ ᱠᱮᱫᱼᱟ ;
ᱠᱚᱭᱚᱜᱽ ᱢᱮᱥᱮ ᱢᱤᱫᱫᱷᱟᱣᱹᱹᱹᱹᱹᱹ
ᱦᱤᱴᱟᱹᱝ ᱡᱷᱟᱲᱟᱝ ᱟᱠᱟᱱ ᱟᱢᱟᱜ ᱥᱟᱶᱛᱟ᱿

সাঁওতালি মাধ্যমের শিক্ষা আজ কোন পথে!!!

বিরেন্দ্র নাথ কিস্কু

অতি আনন্দের সহিত এবছর সাঁওতালি মাধ্যমের ইতিহাসে সংযোজিত হলো নতুন মুকুট। এ বছর অর্থাৎ ২০২০ সাল সাঁওতালি মাধ্যমের শিক্ষার ইতিহাস চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এই গৌরবময় অধ্যায়। তবুও সাঁওতালি ভাষা প্রিয়, সাঁওতালি ভাষা দরদী মানুষজনের মনে কোথায় যেন একটা ‘কিন্তু’ রয়ে যাচ্ছে। সেই ‘কিন্তু এর উত্তর খোঁজার কারনে আজকের এই কলম।

বিগত ১২ বছর ধরে প্রচুর বাধা বিপত্তির মধ্যেও সাঁওতালি মাধ্যমের পথ চলা বন্ধ হয়ে যায়নি, মাঝ পথে ছাত্র ছাত্রীদের কিছুটা অভাব সেই অন্ধকারের প্রতিচ্ছবি কিন্তু সাঁওতালি দরদী মানুষের মনে ফুলকির মতো ঝলক দেখা দিয়েছিল তাও ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠে ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ থেকে মাধ্যমিক ও ২০২০ উচ্চ মাধ্যমিক সংসদ থেকে অর্থাৎ এবছর উচ্চ মাধ্যমিক খুব ভালো মেধার পরিচয় দিয়ে পাশ করে গেছে। প্রথম থেকে যেমন পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক শিক্ষিকার অভাব ছিল, বর্তমানেও তাহার কোনরূপ পরিবর্তন হয়নি। এই অবস্থা তো ছাত্র-ছাত্রীদের না যায় প্রমাণ করে দেয় পাঠ্যপুস্তক যতই থাকুক ভুলে ভরা, না থাকুক সমস্ত বিষয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকার তা আমরা অর্জন করবোই। পদ্ম মসজিদ থাকার কারণে আজ উচ্চমাধ্যমিকে সমস্ত বিষয়ের পাঠ্যপুস্তক না থাকার কারণটা ম্লান করে দিয়ে এগিয়ে চলেছে এবং ভবিষ্যতে এভাবেই এগিয়ে যাবে এই আশা করা যায়। ভাবি একবার ভাবুনতো ওই সকল ছাত্র-ছাত্রীদের কথা যারা উচ্চমাধ্যমিকে পাঠ্যপুস্তক না পেয়েও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে গেল কিভাবে?? নিশ্চয়ই প্রশ্ন আপনার মাথায় আসছে এবং উত্তরটা খুব সহজে পেয়ে গেলেন, কেননা কোন বাংলা মাধ্যমের পাঠ্যপুস্তক পড়ে বা ইংরেজি মাধ্যমের পাঠ্যপুস্তুক পড়াশোনা করে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে গেল এবং সেই সাথে বাংলা মাধ্যমে প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়াশোনা করেছিল। এবিষয়ে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়। এ পর্যন্ত পড়ে আপনার মনে হতে পারে তাতে কি হয়েছে??? ছাত্র-ছাত্রীরা তো সাঁওতালি মাধ্যমেই পরীক্ষায় পাশ করেছে। হ্যাঁ সাঁওতালি মাধ্যমে পাস করেছে। এরপর হচ্ছে সেই কিন্তু র পালা, কেননা সাঁওতালি মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা সমস্ত বিষয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাড়াই ও সর্বোপরি পাঠ্যপুস্তক ছাড়াই যেভাবে পাশ করে গেল আর কলেজের ক্ষেত্রেও একইভাবে পাস করবে এই ভাবনাটা কি ঠিক? যেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যপুস্তক ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে তুলে দিতে পারলোনা, শিক্ষক-শিক্ষিকা বিষয়ভিত্তিক দিতে পারল না, এই অবস্থায় কলেজের পাঠ্য পুস্তক ,অধ্যাপক অধ্যাপিকার কাছে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা করার আশা একেবারে নেই বললেই চলে। কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি পড়াশোনা সুনিশ্চিত করার জন্য আদিবাসী সংগঠন আ্যসেকা মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী কে আবেদন জানিয়েছেন অতি শীঘ্র সাঁওতালি মাধ্যমের জন্য কলেজের ব্যবস্থা করার আর্জি জানিয়েছেন। এটা একটা খুবই প্রশংসনীয় পদক্ষেপ এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। মাননীয় আ্যসেকার পদাধিকারী ও সদস্যগন এটাও ভালো করে জানেন যে উনারা যে সমস্ত কলেজে সাঁওতালি মাধ্যমের ছাত্র ছাত্রীদের ভর্তি করার জন্য সকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন সেই সমস্ত কলেজে সাঁওতালি বিষয় অনার্স ও পাশ কোর্স এ পড়াশুনা চলছে আগে থেকেই তাই সেখানে সাঁওতালি বিষয়ের অধ্যাপক পাওয়া যাবে কিন্তু বাকি বিষয়ের ক্ষেত্রে কি অধ্যাপক পাওয়া যাবে? সাঁওতালি মাধ্যমের ছাত্র ছাত্রীরা তো আর সাঁওতালি বিষয় নিয়ে সবাই পড়বে তাতো নয়, যার যে বিষয়ে পড়ার আগ্রহ ও সেই বিষয়ে পড়তে পারে। তাহলে পাঠ্যপুস্তক ছাড়াই ও অধ্যাপক ছাড়াই তারা কিভাবে পড়াশুনা করবে? এখানেও সেই একটাই উপায় যে উপায়ে তারা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছে তাহলো বাংলা মাধ্যমের বা ইংরেজি মাধ্যমের পাঠ্যপুস্তক পড়ে ও প্রাইভেট টিউটরের কাছে সাহায্য নেওয়া। এখানে আমার একটা বিষয় বলার আছে তা হল মুক্ত কলেজগুলিতে বিজ্ঞান বিষয় অনার্স বা পাস কোর্সে পড়ানো হয় না তাহলে বিজ্ঞান বিভাগে যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা ভর্তি হতে ইচ্ছুক বা ভর্তি হবে তারা কোন কলেজে ভর্তি হবে? এ বিষয়টিকে আরো ভালোকরে ভাবার প্রয়োজন ছিল। এছাড়াও সাঁওতালি মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীরা উক্ত কলেজের পাশাপাশি প্রাইভেট টিউটরের উপর ভরসা করে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে তাও তো কলেজগুলির কাছের শহর বাজারগুলিতে পাওয়া নাও যেতে পারে এ অবস্থায় তাদের পড়াশোনার জন্য জেলা শহরগুলোতে যেতে হবে প্রাইভেট টিউটরের জন্য কিন্তু যারা এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পাস করল তাদের শতকরা 99 জনের পারিবারিক অবস্থা খুবই সংকটজনক তাই তাদের পক্ষে গাঁটের কড়ি খরচ করে দূরে বাঁকুড়া ঝাড়গ্রাম মেদিনীপুর শহরে প্রাইভেট টিউটরের জন্য না যেতে পেরে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হতে পারে। এছাড়াও আরেকটা বিষয় হলো কেন্দ্রীয় সরকারের যে সমস্ত হোস্টেল আছে সে সমস্ত হোস্টেলের কাছাকাছি ছাত্রীদের কলেজের ব্যবস্থা করা গেলে তা খুব ভালো হতো।যেমন বাঁকুড়া জেলার সারদামণি ওমেন্স কলেজ , পুরুলিয়ার নিস্তারিণী কলেজ, ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজ ইত্যাদি। যেখানে বাংলা মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীরা ভালো কলেজে পড়াশোনা করার সুযোগ পায় সেখানে সাঁওতালি মাধ্যমের ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনার সুযোগ না পেলে তাদের মধ্যে একটা মানসিক আঘাত আসবে এর ফলে তারা পড়াশোনা করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে কেননা সাঁওতালি মাধ্যমে যারা রাজ্যে প্রথম 10 জনের মধ্যে স্থান নিয়েছে তাদের ও ভালো কলেজে পড়ার বা শহরের কোন কলেজে পড়ার একটা আশা থাকে। আমরা যদি সরকারের কাছে উক্ত কলেজ গুলির জন্য সাঁওতালি মাধ্যমে পড়াশোনা করার জন্য অনুমতি পায় তাহলে ছাত্র-ছাত্রীদের মুক্ত কলেজগুলোতে ভর্তি হতে হবে এবং এটা একটা জোরপূর্বক বা বাধ্যতামূলক ব্যাপার এর মত। তাই সাঁওতালি দরদী, সাঁওতালি মাধ্যমে শিক্ষার দরদী মানুষজন যারা আছেন তাদের উচিত সরকারের কাছে দাবি রাখা যাতে করে প্রত্যেকটি জেলা শহরের কলেজগুলোতে এই সাঁওতালি মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করার সুযোগ পায়, তাহার জন্য দাবি জানানো প্রয়োজনে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থে পথে নেমে আন্দোলন করতে হবে। এই সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা ভবিষ্যতে আমাদের স্বপ্নের সাঁওতালি মাধ্যমের শিক্ষাকে পরবর্তীকালে টেনে নিয়ে যাবে, এরাই হলো আমাদের আগামী দিনের পথ প্রদর্শক তাই এসমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের যাতে কোনরূপ পড়াশোনা করার জন্য অসুবিধা না হয় তা দেখার জন্য আমাদের এই এগিয়ে আসা উচিত।

সাঁওতালি মাধ্যমে শিক্ষা কি আজ ঘোর অন্ধকারের মুখে ??

– বিরেন্দ্র নাথ কিস্কু

সাঁওতালি মাধ্যমে আজ ছাত্র ছাত্রীরা উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরও শিক্ষার সুনিশিত আজও হলো না। আজও সাঁওতালি মাধ্যমের শিক্ষা সেই ঘোর অন্ধকারের মুখে।

দীর্ঘ বার বৎসর পরেও শিক্ষা ব্যবস্থার কোনরূপ পরিবর্তন হয়নি, সেই সূচনা কাল হইতে শত শত বাধা কাটিয়ে আজও চলছে সাঁওতালি মাধ্যমের পড়াশুনা। অনেক অবহেলার পরও কিন্তু আজও সমান তালে এগিয়ে চলেছে অন্যান্য মাধ্যমের সাথে সাঁওতালি মাধ্যমের পড়াশুনা এবং অতি আনন্দের সাথেই ছাত্র ছাত্রীরা নিজের মাতৃভাষায় শিক্ষালাভ করে চলেছে। ভারতের সংবিধানের অষ্টম তফসিলে সাঁওতালি ভাষার অন্তর্ভূক্তি এর পর থেকেই সাঁওতালি মাধ্যমে শিক্ষার জন্য সমাজের সর্ব স্তরের মানুষ একজোট হয়ে বহু আন্দোলনের ফলে পশ্চিমবঙ্গে বার বৎসর পূর্বে সাঁওতালি মাধ্যমের পথ চলা শুরু হয়েছিল, যদিও তারও অনেক আগে থেকেই সাঁওতালি ভাষাকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছানোর একটা চেষ্টা চলে আসছিল।

যাইহোক, সাঁওতালি মাধ্যমের মধ্যে পড়াশুনা শুরু হওয়ার পরও এক শ্রেণীর মানুষজন এটাকে নিয়ে হেঁয় করার চেষ্টা করেছিলেন এবং চিরতরে বন্ধ করার একটা চাপা প্রচেষ্টা ছিল, মাঝ পথে মনে হয়েছিল তারা যেন না পেরে হাল ছেড়ে দিয়েছেন কিন্তু না, যখনই ছাত্র ছাত্রীরা উচু ক্লাসের দিকে পা বাড়াতে চলল তখনই দেখা দিল আর এক বাধা , সেটা কিনা “হাতে না মেরে ভাতে মারার মতো ” —-পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক/শিক্ষিকার জন্য সাঁওতালি মাধ্যমের পড়াশুনা লাটে উঠার মত অবস্থা। কোন রকমে ভুলে ভরা পাঠ্যপুস্তক ( এর জন্য মাননীয় সাঁওতালি ভাষা দরদী সাঁওতাল শিক্ষকগণও সমান দায়ী) ও স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষক দিয়ে সাঁওতালি মাধ্যমের পড়াশুনা এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে ভাষা বিষয়ের শিক্ষক ছাড়া আর কোন বিষয়ের পূর্ণ সময়ের শিক্ষক/ শিক্ষিকা নিয়োগ হয়নি। গুটিকয়েক পার্শ্ব শিক্ষক শিক্ষিকাদের( সকল বিষয়ের নয়) দিয়ে পড়াশোনা এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে যাহার কোনো সুরাহা হয়নি বা সূরাহা করার কোন প্রচেষ্টা বিন্দুমাত্র দেখতে পাওয়া যায়নি। আদ্য প্রান্ত ভুলে ভরা ও অসম্পূর্ণ বই নিয়েই আজকে ছাত্র ছাত্রীরা উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পার করে ফেলল। এর সাথে এটাও বুঝতে পারলাম ছাত্র ছাত্রীরা সত্যিই কতটা মেধা সম্পন্ন। আরও একটা মাইল ফলক সংযুক্ত হলো সাঁওতালি মাধ্যমের শিক্ষার মুকুটে। এই কথা ভেবে সত্যিই গর্ব বোধ করি, কিন্তু একবার ভাবুনতো সেই ছাত্র ছাত্রীদের কথা যারা সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে নতুন কলেজ জীবনে প্রবেশ করতে চলেছে সাথে শত শত বাবা মায়ের মুখে হাসি ফুটাতে চেয়ে নিজের পছন্দ বিষয় নিয়ে আরো ভালো করে পড়াশুনা করে ভালো রেজাল্ট করে ভবিষ্যতে একটা সুন্দর জীবন কাটাবে , একটা মনের মত চাকরী করবে, তাদের সামনে আজ ঘোর অন্ধকার। তারা আজও জানেনা সাঁওতালি মাধ্যমের জন্য আদৌ কোন কলেজ বন্দোবস্ত হবে কিনা? হলে সেখানে মনের মত বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করতে পারবে কিনা? সেখানেও কি কোন রকমের বই ছাড়াই বেদের মত শুনে শুনে মনে রেখেই পড়াশুনা করতে হবে না কি হবে! যদিও সাঁওতালি দের মধ্যে এই শুনে শুনে মনে রাখার ব্যাপারটা অতি প্রাচীন কাল থেকেই চলে আসছে। যেখানে ছাত্র ছাত্রীরা একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সমস্ত বিষয়ের বই এখনো হাতে পায়নি তাই এ ভাবনা তাদের মনে আসাটা স্বাভাবিক।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এব্যাপারে সদিচ্ছার সত্যিই অনেক অভাব আছে তাও পরিষ্কার। তা না হলে এটা বলতে হবে যে সমস্ত সাঁওতালি শিক্ষকগণ এই পাঠ্য পুস্তক রচনা করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন উনাদের আন্তরিকতার অভাব আছে। আজকে সরকার সাওতালি শিক্ষার ব্যাপারে এতোটা অবহেলা করলে সাঁওতালি মাধ্যমের শিক্ষা কিন্তু ঘোর অন্ধকারের দিকে পা বাড়াবে। যদিও এরকম হলে নিজেদের মধ্যে সমস্ত ইগোকে দূরে সরিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে সাঁওতালি সংগঠন গুলো কিন্তু জানে এবং এটার যে বিহিত হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত। কিন্তু কথাটা হল একটা বিষয় নিয়ে সরকার বাহাদুরকে কতবার তেল দিতে হবে? শুধু মাত্র ভোটে জয়ী হওয়ার জন্য নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করার কৌশল কিন্তু আজ সবাই জেনে গেছে। আজকে সবাই চাইছে সাঁওতালি মাধ্যমে পূর্ণ সময়ের শিক্ষক । যে ছাত্র ছাত্রীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ তাদের জীবনকে এভাবে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া একেবারেই অনুচিত এবং এটা দেশকেই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার সামিল বলে মনে করি। আগামী ২০২৫ সাল সাঁওতালি লিপি “অলচিকির” শতবর্ষ পূর্তি হবে তার আগে সাঁওতালি মাধ্যমের এই দশা কিন্তু খুব ভালো নয়। সাঁওতালি ভাষা জানা কলেজ শিক্ষক দেরও এগিয়ে আসা উচিত এই সময়ে যাহাতে কলেজের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা যায়। এছাড়াও সরকারের এব্যাপারে এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত এবং যে যে কলেজে সাঁওতালি মাধ্যমের পড়াশুনা শুরু হবে সেগুলোর নাম অতিসত্বর প্রকাশ করে ছাত্র ছাত্রীদের মনের সব অন্ধকার এখনই দুর করা দরকার।

« Older Entries