Category Archives: মতামত

🌲🌲💐💐🦈🐠🐟পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য পরিবর্তন ও সাঁওতাল জাতির সেঁদরা 🐟🐠🦈🌲🌲🌺🌺🌺

🖋️🖊️✍️– কুনৗমি মুরমু

এই চৈত্র-বৈশাখ মাসে সাঁওতাল জাতিগোষ্ঠীর প্রাচীনকাল থেকে “সেঁদরা” বা “অনুসন্ধান/খোঁজ” নামক এক পারম্পরিক প্রথা বিদ্যমান। বর্তমানে এই সেঁদরা শব্দকে অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করে বলা হচ্ছে শিকার। যা কিন্তু অনেকাংশে সত্যি। কেননা জানা গেছে একসময় অযোধ্যায় শিকারের সময় ঝাড়খণ্ড থেকে আসা শিকারীরা তীর বল্লম এর সাথে বন্দুক নিয়েও শিকার করেছে।

পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খন্ড ও ওডিশার প্রত্যেক জায়গার শিকারীরা সেঁদরা পর্ব শেষ করার পর মনোরঞ্জনের জন্য কাহিনী বেষ্টিত “সিংরৗই” এবং প্রাচীন সংস্কৃতি “দোঁগেড়” এর নাচ-গান করে।
পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার অযোধ্যার সুতৗন টৗঁডি হলো সাঁওতাল সমাজের শীর্ষ আদালত (ল মহল/Law Mahal)। এই শীর্ষ আদালতে সাঁওতাল সমাজের অমীমাংসিত বিচার সম্পন্ন হওয়ার কথা।

কিন্তু বর্তমানে কোন বিচার সভা না হওয়া সত্ত্বেও দূর-দূরান্ত থেকে গাড়ি ভাড়া করে তীর-ধনুক নিয়ে মানুষজন শিকারি হিসেবে পৌঁছে যাচ্ছে। সেই গাড়িতে করে আসা যাওয়া এবং কোন কোন বছরের সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া বন-শুয়োর ও ময়ূরের ছবি সেঁদরার অর্থকে শিকারের সঙ্গে সমার্থক করে দিয়েছে। সেই কারণে বর্তমানে সরকারের তরফ থেকে শিকারকে বন্ধ করার জন্য কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সাঁওতাল জাতিগোষ্ঠীর সেঁদরার কারণেই কি বন্যজন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বা পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য পরিবর্তিত হচ্ছে??এই প্রশ্নের উত্তরের খোঁজেই আমার এই ক্ষুদ্র লেখনি।






যেসব কারণে পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্র প্রভাবিত হচ্ছে সেগুলি হলো-

(১) অরণ্যচ্ছেদন:– পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করেছে এমন অনেক কারণ রয়েছে। যেমন নগরায়নের জন্য, কলকারখানা স্থাপনের জন্য, খনিজ সম্পদ খনন করার জন্য, জাতীয় সড়ক চওড়া করার জন্য হাজার হাজার বড় বড় গাছ শিকড় সমেত উপড়ে ফেলা হচ্ছে, তার পরিবর্তে কোথাও চারা গাছ রোপন করা হচ্ছে না। কোন কোন খনিজ পাহাড় বা শাল মহুলের, বনজ ঔষধি গাছের জঙ্গলকে রক্ষা করার জন্য স্থানীয় অধিবাসীরা আন্দোলন করেছে তখন আইনের লাঠি ওদের পিঠে পড়েছে।গত ৪০ বছরে পুরো বিশ্বে আনুমানিক ১ বিলিয়ন হেক্টর এলাকার গাছপালা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে ২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি ২৯.৭ মিলিয়ন হেক্টর বন জঙ্গল ধ্বংস করা হয়েছে।

২০১৮ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি যেসব দেশের বন জঙ্গল ধ্বংস করা হয়েছে সেগুলি হল ব্রাজিলের ১.৩৫ মিলিয়ন হেক্টর, কোংগো (গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র) এর ৪.৮১ লক্ষ হেক্টর, ইন্দোনেশিয়ার ৩.৪০ লক্ষ হেক্টর, কলম্বিয়ার ১.৭৭ লক্ষ হেক্টর বলিভিয়ার ১.৫৫ লক্ষ হেক্টর। বিশ্বে এই পরিমাণ বনজ সম্পদ ধ্বংসের কারনে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের হার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৭ সাল পর্যন্ত সাধারণের তুলনায় ৫০% অধিক কার্বন ডাই অক্সাইড এবং ২০% গ্রীন হাউস গ্যাস উৎপন্ন হয়েছে।।






(২) জনসংখ্যা বৃদ্ধি:– পৃথিবীর অনেক অনেক সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেক বেশি যে কারণে বছরে ১.১% বা বছরে ৮০ মিলিয়ন জনসংখ্যা বৃদ্ধি ১৩ মিলিয়ন হেক্টর বনভূমি ধ্বংসের সমান। কারণ এদের জন্য এই বর্ধিত জনসংখ্যার জন্য পৃথিবীকে অক্সিজেন সরবরাহ করতে গিয়ে বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়ে পৃথিবীর জঙ্গল এলাকার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ঘনীভবনের চক্র ব্যাহত হয়ে বৃষ্টিপাতের চক্র পরিবর্তিত হচ্ছে।






(৩) প্লাস্টিকের উৎপাদন:– প্লাস্টিকের উৎপাদন হলো পৃথিবীর মারাত্মক সমস্যা। প্লাস্টিক ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া বর্জ্য প্লাস্টিক শহরের ড্রেন থেকে নদীতে এবং নদী থেকে সাগরে বা মহাসাগরে পৌঁছচ্ছে। বর্তমানে পৃথিবীতে বছরে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদন করে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ফেলে দেওয়ার পরে ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন টন নদীর জলের সাথে বাহিত হয়ে মহাসাগরে পৌঁছে জলজ প্রাণীর জীবনকে ব্যাহত করছে। বিশ্বের সমস্ত মহাসাগরের ভাসমান প্লাস্টিকের আনুমানিক ওজন হল ২,৬৮,৯৪০ টন। এই প্লাস্টিক গুলি যেহেতু বছরের-পর-বছর জলের মধ্যে ভাসমান হয়ে থাকছে তাই প্লাস্টিক গুলিতে উপস্থিত রাসায়নিক উপাদান গুলি জলে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে জলজ প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করছে এছাড়া অনেক প্রাণী অজান্তে প্লাস্টিক খেয়ে ফেলে মৃত্যুবরণ করছে যেমন স্কটল্যান্ড এর উপকূলে ২০১৭ সালে একটি তিমি ৯ পাউন্ড প্লাস্টিক খেয়ে ফেলার কারণে মারা যায়।






(৪) জল দূষণ:– কোন বড় নদীর ধারেই সাধারণত কল কারখানা স্থাপন করা হয়েছে এবং কলকারখানা থেকে নির্গত বর্জিত নাইট্রেট, ফসফরাস, কপার, জিংক, ক্যাডমিয়াম, হাইড্রোকার্বন প্রভৃতি রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা সমুদ্রের জল দূষিত হচ্ছে। বিশ্বে খাদ্য পণ্যের চাহিদা বাড়ায় ফলন বাড়ানোর জন্য অধিক মাত্রায় নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ব্যবহার করার কারণে মাছ, ব্যাঙ ইত্যাদির যেমন বেঁচে থাকার অসুবিধা হচ্ছে সেরকমই ভূগর্ভস্থ জল ধীরে ধীরে দূষিত হচ্ছে।






(৫) চোরাশিকার:– বন্য জীবজন্তু হ্রাস হওয়ার অন্যতম কারণ হলো আধিকারিকের মদতে চোরাশিকার। গবেষণায় দেখা গেছে ৮৩% বন্য জীবজন্তু শিকারের কারণে মারা গেছে।

২০১৯ এর গণনা অনুসারে ভারতে ২৯৬৭ টি বাঘ, ৩০০০ টি একশৃঙ্গ গন্ডার, ২০০০টি হাতি এবং ২০১৮ এর গণনা অনুসারে ১২৮৫২টি চিতাবাঘ এবং ১৩৪৯ টি প্রজাতির পাখি রয়েছে। তুলনামূলক হিসেবে এই পশুপাখি গুলির জনসংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেত যদি ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড-এর পেশাদারী শিকারির মতো ভারতেও বন্দুক দিয়ে না শিকার করা হতো। এই পেশাদারী শিকারিরা সারা বছরেই শিকার করে বাঘের চামড়া, হাতির দাঁত ইত্যাদি বিদেশের বাজারে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করছে।






ভারতের আদিবাসী গোষ্ঠীর সাঁওতাল জাতির মানুষরা বছরের শুধুমাত্র একটি মরসুমে সেঁদরা পালন করে এবং ওই সময় হয়তো কিছু পাখি এবং খরগোশ শিকার করে মেরে ফেলে। সেই হিসেবে দেখলে গোটা বিশ্বের সাঁওতাল মিলে ৮৩ শতাংশের ০.৫% শিকার করে তাই এটা কখনও বলা যাবে না যে সাঁওতালরা বন্যজন্তু হত্যার জন্য চোরা শিকারির মতো অনেকাংশে দায়ী। কারণ সাঁওতালরা বছরে একবার এই শিকার করে বনৌষধি খোঁজার সময় বা সেঁদরা করার সময় এবং বন-জঙ্গল ধ্বংসের পেছনে সাঁওতালদের কোনো অবদান নেই। কারণ সাঁওতালরা প্রাচীনকাল থেকে প্রকৃতিকে রক্ষা করে আসছে ভগবানের রূপে প্রকৃতিকে পুজো করে। এরা শুধু বাড়ি বানানোর সরঞ্জাম আসবাবপত্র এবং জ্বালানির জন্য একমাত্র পুরনো গাছ কেটে ফেলে কিন্তু সেই হিসেব খুবই নগণ্য। কিছু এলাকার মানুষজন একসময় কচিকাঁচা শাল গাছ কেটে শুকনো করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতো কিন্তু এখন বন্ধ করে দিয়েছে এবং কিছু কাঠ ব্যবসায়ীরা একসময় জঙ্গল আধিকারিক এর সহায়তায় জঙ্গলের পুরনো গাছ বিক্রি করতো কিন্তু সেটাও এখন অনেকটা ক্রমহ্রাসমান। তাই এখন এই সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারি যে পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ব্যাহত হওয়ার পেছনে সাঁওতাল দের কোন ভূমিকা নেই।

সাঁওতালদের সেঁদরা নামক পরম্পরা কে বন্য প্রাণী এবং উদ্ভিদ সংরক্ষণের বাহানা করে শেষ করতে চাইলে পোষা প্রাণী হত্যা যেমন পাঁঠা বলি, উঁট পূজা, Beef Marketing সবকিছুই চিরকালের জন্য বন্ধ করতে হবে। কোথাও কোন ধর্মের দেবস্থানে কোন প্রাণীর এক ফোঁটা রক্তও যেন না পড়ে সেইরকম নিয়মকানুন লাগু হওয়া প্রয়োজন।






ব্রাজিলের বিপন্ন আদিবাসী

ফিরিয়ে দাও আমাদের আগের জঙ্গল জীবন। হারিয়ে যেতে বসেছে ‘ইন্ডিজেনাস’ পরিচয়টুকুও। ব্রাজিলের অধিকাংশ নাগরিকই অবগত নয় তাঁদের মূল পরিচয়, সংস্কৃতির সম্পর্কে। অরণ্য হারিয়ে ঠাঁই শহরে, টাউন বাবুদের বৈষম্যের জেরবার ব্রাজিলের প্রাচীন জনগোষ্ঠী।

ক্রমাগত জমি অধিগ্রহণ, ড্রাগ মাফিয়াদের বাড়বাড়ন্ত, বনভূমি ধ্বংস, অনৈতিক খনন— এসবের জেরেই ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে ব্রাজিলের প্রাচীন জনগোষ্ঠীগুলির আবাসস্থল। ফলত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শহরে এসে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছেন তাঁরা। তবে সেখানেও যে খুব একটা সুখকর হচ্ছে না তাঁদের টিকে থাকার লড়াই, তেমনটাই জানাচ্ছে রিও ডি জেনেইরোর ফেডারাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

সাম্প্রতিক গণনা অনুযায়ী, ব্রাজিলের এক তৃতীয়াংশ প্রাচীন জনজাতির মানুষই বসবাস করেন শহরাঞ্চলে। যার সংখ্যা ৩ লক্ষ ১৫ হাজারের কাছাকাছি। তবে শহরের পটভূমি ও যাপনচিত্রে ক্রমশ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তাঁদের সংস্কৃতি। এমনকি হারিয়ে যেতে বসেছে ‘ইন্ডিজেনাস’ পরিচয়টুকুও। ব্রাজিলের অধিকাংশ নাগরিকই অবগত নয় তাঁদের মূল পরিচয়, সংস্কৃতির সম্পর্কে।

আদিবাসী সংস্কৃতি বলতে শুধুমাত্র অরণ্যযাপনকেই চিহ্নিত করেন খোদ ব্রাজিলের তথাকথিত ‘উন্নত’ শহরের বাসিন্দারা। আর তা হবে না-ই বা কেন? একজন আদিবাসী হয়েও সরকারি স্বীকৃতি পাওয়াই যে দুষ্কর ব্রাজিলের বুকে দাঁড়িয়ে।পাশাপাশি শহরাঞ্চলে বসবাসরত প্রাচীন জনজাতির মানুষেরা শিকার কুসংস্কারেরও। আদিবাসী পরিচয়ের জন্য অনেকক্ষেত্রেই বৈষম্যমূলক মন্তব্য, এমনকি হিংসারও সম্মুখীন হয়ে চলেছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে ‘সভ্য’ সমাজ যেন দু’দিক থেকেই কোণঠাসা করে তুলছে তাঁদের অস্তিত্বকে।

কিন্তু একুশ শতকে দাঁড়িয়েও এই বৈষম্য কেন? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে দেখা যাবে, ব্রাজিলের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আদিবাসী শিক্ষার জন্য বিশেষ বন্দোবস্ত নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার কোনোরকম উদ্যোগ নেয়নি ব্রাজিল প্রশাসন। পাশাপাশি খাতায় কলমে অস্তিত্ব থাকলেও নিষ্ক্রিয় আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তর। বিভাজন হোক কি বৈষম্য— তার সূত্রপাতের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে রয়েছে বলসোনারো-র দুর্নিতিগ্রস্ত প্রশাসন। তবে এই বৈষম্যের বীজ বপন করা হয়েছিল বহু বহু যুগ আগে।

উনিশ শতকের শুরুর দিকের কথা। তখনও ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম রয়েছে ব্রাজিলে। জনগণনা শুরু হয়েছিল সেই সময়। তবে তা কেবল সীমাবদ্ধ ছিল শহর, মফঃস্বল অঞ্চলেই। কেননা, ঔপনিবেশিক শাসকদের কাছে সেনসাসের মূল উদ্দেশ্যই ছিল কর-আদায়। অরণ্যে বসবাসরত জনগোষ্ঠীগুলি যে আদতে কোনো আর্থিক কর প্রয়োগ করতে পারবে না, সে কথা মাথায় রেখেই ব্রাত্য করে রাখা হয়েছিল তাঁদের। আজ এত বছর পরেও এতটুকু পরিবর্তন আসেনি সেই রীতিতে। একদিকে যেমন অব্যাহত রয়েছে অরণ্যনিধন প্রক্রিয়া, তেমনই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি শহরেও। এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে শিক্ষাকেই হাতিয়ার করে নিয়েছেন প্রাচীন জনজাতির মানুষেরা।

২০১৯ সালের হিসাব বলছে ব্রাজিলে বসবাসরত মোট ৯ লক্ষ আদিবাসী মানুষের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যরত ৮১ হাজার শিক্ষার্থী। অর্থাৎ, শিক্ষার হার প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি। পাশাপাশি, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে শিল্পক্ষেত্রেও নিজেদের সংস্কৃতির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে চলেছেন তাঁরা। তাতে আসছে সাফল্যও। গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি স্বীকৃতি মিলছে আন্তর্জাতিক স্তরে। যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল আমাজনের প্রাচীন ‘কাদিইউ’ চিত্রকলা।

তবে এভাবেই একদিনে সম্ভব নয় সামাজিক বদল। জনসচেতনতা গড়ে তুলতে এগিয়ে আসতে হবে প্রশাসনকেই। বদল আনতে হবে শিক্ষাব্যবস্থাতেও। সেই দাবিতেই সরব ব্রাজিলের আদিবাসী পড়ুয়ারা। চলছে এক অসম লড়াই। স্বপ্ন, এমন এক বৈষম্যমূলক সমাজের যেখানে একদিন সমস্ত মানুষই তাঁদের স্বীকৃতি দেবে ‘পূর্বপুরুষ’ হিসাবে…

কবি সারদা প্রসাদ কিস্কু স্মৃতি পুরস্কার যেন প্রতি বছর কবির জন্মদিনে (2 February) দেওয়া হয় – শুভজিৎ মুর্মু

আজ সাঁওতালি সাহিত্যের সাহিত্যিক, কবি, সমাজ সংস্কারক ও পথপ্রদর্শক সারদা প্রসাদ কিস্কুর ৯৩ তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২৯ সালের আজকের দিনেই তিনি পুরুলিয়া জেলার দাড়িকাডোবা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা চরণ কিস্কু ও মাতা ধণমনি কিস্কু। তিনি পিতা মাতার কনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন। ১৯৪৮ সালে খাতরা হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর বিষ্ণুপুর রামানন্দ কলেজে I.Sc. পড়ার জন্য ভর্তি হন কিন্তু অর্থের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। জীবনযাপন ও জীবিকার তাগিদে ১৯৫০ সালে তিন মাসের হিন্দি ট্রেনিং নেন বান্দোয়ান হিন্দি ট্রেনিং সেন্টার থেকে। এর কিছুদিন পর তিনি জামতোড়িয়া সিনিয়র বেসিক স্কুলে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ হন।


সারদাপ্রাসাদ কিস্কু ছাত্র জীবন থেকে সাহিত্য চর্চা শুরু করেন। তাঁর প্রথম লেখা হড় সম্বাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
তাঁর প্রকাশিত পুস্তকগুলি হলো-
১।ভুরকৗ ইপিল(১৯৫৩)
২।কুহু বৗউ(১৯৬০)
৩।গাঁম গঁদার(১৯৬৭)
৪।লাহাঃ হররে(১৯৮৫)
৫।সলম লটম(১৯৮৮)
৬।জুডৗসি অনল মালা(১৯৯৪)
৭।বিদৗঃ বেড়া(১৯৯৭)
৮।সংগীতিকা(১৯৯৮)
৯।লিলিবিছি(২০১৩)
১০। চিঠিসাকাম(২০১৯)



তিনি খেরওয়াল আড়াং(১৯৫৮) ও সুসর ডাহার(১৯৭২) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তিনি সমাজের কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করেছিলেন। তিনি ১৯৭৩ সালে আদর্শ শিক্ষক পুরস্কার পান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভি.ভি. গিরির কাছ থেকে এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গুণীজন সংবর্ধনা পান ১৯৮৯ সালে। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা অসংখ্য থেকে সংবর্ধনা ও সম্মান পেয়েছেন।



সাঁওতালি সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার কবি সারদা প্রসাদ কিস্কু স্মৃতি পুরস্কার চালূ করেন ২০০৯ সালে। কিন্তু খুবই দুঃখের বিষয় কবি সারদা প্রসাদ কিস্কু স্মৃতি পুরস্কার নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে না। সর্বশেষ ২০১৭ সালে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।২০১৮,২০১৯ও ২০২০ সালের পুরস্কার এখনও পর্যন্ত্য দেওয়া হয়নি। কবির নামাঙ্কিত স্মৃতি পুরস্কার সঠিক সময়ে না দেওয়া মানে শুধু কবি সারদা প্রসাদ কিস্কুর অসম্মানই নয়, এটি আপামর সাঁওতাল সমাজের অসম্মান সেই সঙ্গে তাচ্ছিল্য ও অবহেলার চুড়ান্ত নিদর্শন। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি কবি সারদা প্রসাদ কিস্কু স্মৃতি পুরস্কার যেন প্রতি বছর কবির জন্মদিনে (2 February) দেওয়া হয় এবং ২০১৮, ২০১৯ এবং ২০২০ সালের বকেয়া পুরস্কারও যেন খুব তাড়াতাড়ি দেওয়া হয়।

Difference between tribals religion and Santals religion

SẠRI DHOROM AND SARṆA DHOROM ARE TWO DIFFERENT RELIGIONS, THEY ARE NOT THE SAME.

DIFFERENCE BETWEEN SẠRI DHOROM AND SARṆA DHOROM:



1. The Religious Belief System and Practices of the Austroasiatic Adivasi Peoples like the Santals, Mahalis, Birhoṛs etc. is collectively called as Sạri Dhorom.

The Religious Belief System and Practices of the Dravidian Adivasi Peoples like the Orãos, Maltos, Saurias, Kumarbhags etc. is called as Sarṇa Dhorom.

Some later adherents of this Sarṇa Religion are the Muṇḍas, Bhumijs, Hos, Khaṛias etc. who though originally being of Austroasiatic stock, are following this Dravidian religion of their neighbours, perhaps due to historical influences.

Some section of the Santals too now profess their religion’s name to be Sarṇa, though in every practical aspect they undeniably follow the rituals and beliefs of the Sạri Dhorom only.

2. The Sacred Grove of the Sạri Dhorom is called as the Jaher Than or Jaher Gaṛh or Jahera.

The Sacred Grove of the Sarṇa Dhorom is in contrast called as the Sarṇa Sthal or Sarṇa Sthali.

3. In Jaher, the Sạri Dhorom followers worships various deities, such as the female deity Ram Sạlgi a.k.a. Jaher Era a.k.a. Jaher Ayo; the male deity Maraṅ Buru; another male deity Liṭạ Gosãe, and the composite ancestral deities collectively known as the Mõṛẽko Turuiko.



At Sarṇa, the Sarṇa Dhorom followers worships only one male deity – Buṛadeo a.k.a. Baṛadeo. No other deity is worshipped in Sarṇa Sthal.

Lately though, some Sarṇa Dhorom followers, under the influence of the neighbouring Hindu Dhorom, are shifting their place of worship from the Sacred Grove “Sarṇa Sthal” to a type of Temple constructed using brick, cement and concrete, called as the “Sarṇa Mandir”. Therein they are nowadays worshipping a newfound female deity, the “Sarṇa Mata”, of whom not much is recorded in their earlier annals and oral traditions. Here the Deko mimicking and influence can be clearly seen as they call this newfound female deity as “Sarṇa Mata” and not as “Sarṇa Ayo” or “Sarṇa Era”.

4. The Sarṇa Dhorom followers worships the Supreme Deity / Supreme Creator “Buṛadeo” / “Baṛadeo” at their Sacred Grove, the Sarṇa Sthal. They do not worship Him in the newly built Sarṇa Mandirs.

At the Jaher, the Sạri Dhorom followers never worships the Supreme Deity / Supreme Creator, who is variously known as the Ṭhạkur Jiv, Ṭhạkur Jiu, Maraṅ Ṭhạkur, Cando Baba or Cando (not the Moon, a mere celestial object, but the Creator of all such things). They also never erect any shrine in His reverence.
It must be clearly mentioned that the Sạri Dhorom Supreme Creator, the Ṭhạkur Jiv is not the same as their Prime deity, the Maraṅ Buru. The former is an eternal being associated with their Creation Narrative, while the later is a rescuer of their people when they entered India in the ancient times, through the legendary mountain passes called the Siń Duạr and the Bạńhĩ Duạr respectively.


5. The Sạri Dhorom pantheon, apart from the Supreme Creator – Ṭhạkur Jiv / Maraṅ Ṭhạkur / Cando / Cando Baba, the Interlocutor deity – Liṭạ Gosãe / Liṭạ Goḍet, the Prime deity – Maraṅ Buru, the Incumbent deity of the sacred grove – Ram Sạlgi / Jaher Ayo /Jaher Era, the Composite Ancestral deities – Mõṛẽko Turuiko, also comprises of specific Ancestral deities – Hapṛam Boṅgas, Tutelary deities specific to each of the clans/subsepts (khũṭ ko) – Oṛaḱ Boṅgas, Abge Boṅgas, Incumbent deities of abodes / places – Mạńjhi Boṅgas, Pargana Boṅgas, Simạ Boṅgas, Baṛge Boṅgas, Darha Boṅgas etc, deities of the Hunt – Bir Boṅgas, Bạghut Boṅgas, Hurut́ Khuṇṭut́ren Boṅgas etc, and also the Unknown deities – Bin Baḍae Boṅgas.

The Sarṇa Dhorom pantheon traditionally comprised of the Supreme Creator – Buṛadeo / Baṛadeo only (some communities call Him as Dharmesh, a loan word from Saṃskr̥t, a conjunction of ‘Dharma’ and ‘Īśa’). Nowadays there’s another deity though – the female deity “Sarṇa Mata”. Even if there are some tutelary deities (due to neighbouring Sạri influence), they are different from the Sạri Dhorom tutelary deities.

6. The Sạri Dhorom has well defined strictures regarding the Jurisdiction of its various types of Priests.
The Mạńjhis, Chairpersons of the Village Council, “Ato Bạisi” / “Mạńjhi Bạisi” / “Kulhi Dupuṛuṕ”, can act as priests on some specific occasions, but can never assume the role of the Naekes, the village priests. The Naekes or Village Priests also can never officiate any worship event held beyond the bounds of the villages. For that purpose, they have the Priests of the Wilderness, the Kuḍạm Naekes, who in turn cannot officiate at worships within the village limits. Again both these types of full fledged priests can never officiate any worship at the Hunt. Doing so is believed to be extremely dangerous for the hunting party, and that responsibility lies solely with the Dihris, the Convenor, Chairperson cum temporary priest at the Disom Sendras and Lo Bir Bạisis (Annual Hunts cum Supreme Appellate Councils of various regions). A Dihri, though being the Chairperson of the temporary but apex appellate council, is never allowed to perform the acts of the Naekes or the Kuḍạm Naekes.
This kind of democratic division of labour is not seen among the Sarṇa Dhorom priests, known simply as the Pahans or the Layas, who are but of only one category.



7. A peculiar association of the place of worship with the professed religion is evident in the name of the Sarṇa Religion, which directly derives from the Dravidian Sacred Grove, in want of any better nomenclature.

In contrast, the Austroasiatic Adivasi People never calls their ancestral religion as the Jaher Religion or something like that. Nor any other people does that. Naming the religions generally after their places of worship can lead to a situation where Islam will be called as the Masjid Mazhab, Hinduism as the Mandir Dharma, Christianity as the Church Religion and Sikhism as the Gurdwara Sahib Panth!

Some section of the Santals, a major Austroasiatic Tribe, associates their place of worship with the religion they follow, when they self-identify as “Jaher Boṅga Santals”. However, the Sarṇa Religion followers among the Santals never self-identify as “Sarṇa Boṅga Santals” though they advocate for the Sarṇa name.



8. Among Santals, a major Austroasiatic Tribe, the Sạri Dhorom name is endorsed by scholars like Sadhu Ramchand Murmu, Dr Dhirendranath Baskey, Dr Timotheas Hembrom et al.
Guru Goṅke Pt Raghunath Murmu is known to have endorsed the Sarṇa Dhorom name, perhaps due to some strategic political compulsions arising out of his pact with Maraṅ Goṅke Jaipal Singh Muṇḍa, regarding pan-Jharkhandi identity construction through the proposed Troika of Kherwal-Sarṇa-Ol Chiki.
It must be noted however, though Panḍitji honoured his part of the pact and accepted the Sarṇa nomenclature as the name of his ancestral religion, Maraṅ Goṅke and other Jharkhand Movement leaders never fulfilled their part of the mutual promise. That’s why today, Santals are bickering and infighting among themselves over the Sạri and Sarṇa names, but the other Jharkhandi tribes never accepted Ol chiki, and went forward to invent their “own” scripts like the Tolong Siki, Varang Kshiti, Mundari Bani etc.

9. As a result of this complex past background, ASECA of Odisha promotes the Sarṇa name for traditional Austroasiatic tribal religion, while the West Bengal chapter of ASECA bitterly opposes it, and champions the name Sạri, as being the name of their ancestral religion.

10. The recently circulated story of ancestor females supposedly searching for an arrow shot in the air, and shouting in excitement “Sar Na! Sar Na!” when they found it struck in the trunk of some Shorea robusta tree, can safely be termed as a Fakelore of recent construction. No supporting evidence for it can be found in the documented oral narrations of past authors like Guru Kolean, Sagram Murmu, Choṭrae Desmạńjhi, Ramdas Ṭuḍu ‘Reska’, Sạdhu Ramchand Murmu et al. Perhaps it is constructed to justify the politically motivated choice of Sarṇa by Pt Raghunath Murmu.
Such other Fakelores abound the Santal society today; of which, if some are reclaiming the Harappan civilisation, by interpreting the recent Punjabi names as ‘Mońj Jo Dare’, ‘Hoṛ Rapaḱ’, ‘Kạli Boṅgan Than’ etc, then some others are claiming “Shiva” to be originated from the nickname of some ancient Santal Guru, whose matted hair or ‘Jaṭa’ was infested with Lice (Se), thus him being called as “Se Bohoḱ” or a derivative “Se-bohoḥ”!

In conclusion, it can be said without any hesitation that, this debate and disunity over nomenclature is causing irreparable harm to the Santal Society, and must be addressed collectively in a democratic, amicable and mature manner.

Written by- TONOL MURMU

জীবনের সংজ্ঞা

ক্লাস থ্রিতে পড়া একটি শিশুকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়! জীবন মানে কি ? সে বলবে জল, কারণ সে মাষ্টার মশাইদের মুখে শুনেছে জলের অপর নাম হল “জীবন”।

ঠিক একই প্রশ্ন যদি ক্লাস ফাইভে পড়া কোন ছাত্রছাত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হয়! জীবন মানে কি ? সে হা করে তাকিয়ে থাকবে! ভাববে এটা আবার কেমন প্রশ্ন ?

ঠিক একই প্রশ্ন যদি মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের করা হয়, তবে তারা বইতে যা পড়েছে তাই উত্তর দেবে।


এস.এস.সি পাশ করা পরীক্ষার্থীকে যদি প্রশ্ন করা হয়,! জীবন মানে কি ? সে বলবে- পড়াশুনা করা,খেলাধুলা করা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া,বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বেড়ানো। কিন্তু অনার্স শেষ করার পরে যদি ঐ মানুষটাকে প্রশ্ন করা হয়! আচ্ছা জীবন মানে কি ??

সে বলবে- জীবন সে-তো খুবই কঠিন #বাস্তব! নির্দিষ্ট সংজ্ঞা কিভাবে দেবো,শুধু এতোটুকুই বলবো-জীবন মানে উচ্চ শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়ার ভীষণ ভীষণ যন্ত্রনা।

সংসার জীবনের হালধরা মানুষটাকে যদি প্রশ্ন করা হয়! বলুন তো #জীবন মানে কি ? সে হাসতে হাসতে বলবে, রোজ কাজের উদ্দেশ্যে সকালে বেরিয়ে যাওয়া আর সন্ধ্যা বেলায় ঘরে ফেরা। মাস শেষে যে টাকার অংকটা পাই তাইদিয়ে পরিবারের সকল মানুষের মুখে হাসি ফোটানোটাই হল প্রকৃত পক্ষে জীবন।

আর একজন বৃদ্ধের কাছে যদি প্রশ্ন করা হয়! জীবনের মানে কি ? তিনি চশমাটার গ্লাসে ফুঁক দিয়ে বলবেন, জীবন মানে চশমা ছাড়া সবেতেই ঝাপসা দেখাই বাবা….।

ক্ষনিকের এই জীবন নিয়ে আমাদের কত আয়োজন তাই না। বহুমুখী এই জীবনের সংজ্ঞাটা সবাই নিজের মতো করে দিতে পারে। তবে বার্ধক্যের সাথে সাথে নিজের জীবনের সংজ্ঞটাও পরিবর্তন হয়ে যায়। তবে আমাদের অনেকের কাছে #জীবনের সংজ্ঞাটা খুবই ছোট। আজ ঘুমিয়ে গেলে,আগামীকালের ভোরটা আর নাও দেখতে পারি!!

আবার আমাদের বয়স যখন 40 বছর পার হয় তখন উচ্চ শিক্ষিত আর নিম্ন শিক্ষিত সবাই সমান, বয়স যখন 50 বছর পার হয় তখন কালো ফর্সা সবই সমান,কার চেহারা সুন্দর,দেখতে কে স্মার্ট এটা নিয়ে আর কেউ ভাবেনা…!! বয়স যখন 60 বছর পার হয় তখন উচ্চ পজিশনে চাকুরী আর নিম্ন পজিশনে চাকুরী এটা আর কোন ব্যাপারই নয়!! এমনকি একজন পিয়নও অবসরে যাওয়া বসের দিকে তাকায়না…!! বয়স যখন 70 বছর তখন বড় ফ্ল্যাট,বড় বাড়ি কোন গর্বের বিষয় নয় বরং বাড়ি বড় হলে সেটা মেইনটেইন করাই কঠিন,
তখন ছোট একটি রুম হলেই চলে…!! বয়স যখন 80 বছর তখন টাকা থাকলে যা,,না থাকলেও তা। টাকা খরচ করার ইচ্ছা হলে সেটা খরচ করার জায়গাও খুঁজে পাওয়া যায় না…!! বয়স যখন 90 বছর আমাদের ঘুমানো আর জেগে থাকা একই……. জেগে ওঠার পর কি করবো #আমরা নিজেও জানিনা…!! বয়স যখন 100 বছর তখন আমাদের বেঁচে থাকা আর বেঁচে না থাকা এতে কিছুই যায় আসে না। পৃথিবীবাসী আমাদেরকে নিয়ে আর ভাবেননা…!

জীবনের মানে টা এতটুকুই… জীবনের সংজ্ঞাটা এতোটুকুই..এর বেশি কিছুই না… এতো চাপ নিয়ে, লোভ করে, মানুষের ক্ষতি করে লাভ কি ??? নিজ নিজ জায়গা থেকে জীবনটা উপভোগ করা উচিত, অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকা উচিত, সময়টা ভালো কাজে লাগানো উচিত, পৃথিবীটা সকলের জন্য সুন্দর হবে। এত উচ্চাকাঙ্ক্ষা আশা সবকিছুরই পরিসমাপ্তি ঘটে এই অতি অল্প সময়ের মধ্যে!!

——-সংগৃহীত——

মহিষাসুর কোনও অশুভ শক্তির প্রতীক নন, তিনি শহিদ বীর যোদ্ধা – অভিমন্যু মাহাতো

মহিষাসুর কোনও অশুভ শক্তির প্রতীক নন। তিনি শহিদ। আর্য সভ্যতার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে গিয়ে ‘খুন’ হন হুদুড় দুর্গা নামে অনার্য বীর।

প্রাচীন কালে এই জনপদের নাম ছিল “বোঙ্গাদিশম” এবং যার মহান সম্রাট ছিলেন এই বোঙ্গাসুর বা মহিষাসুর। হুদুড় (বজ্রের ধ্বনিকে হুদুড় বলা হয়) বা বজ্রের মত ছিল তাঁর প্রভাব ও প্রতাপ। তাই তাঁর আর এক নাম হুদুড় দুর্গা। আনন্দস্রোতের বিপরীতে এ এক আশ্চর্য শোকগাথা৷ আকাশে-বাতাসে যখন শারদীয়ার আনন্দ, তখন এই ভারতীয় মানচিত্রেরই আর এক দিকে পালিত হয় দাসাই, যা আসলে শোক-উৎসব৷ মহিষাসুরকে অন্যায় ভাবে খুন করা হয়েছিল, এমনটাই দৃঢ় বিশ্বাস উপজাতির মানুষদের। তাই দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে একাংশ উপজাতির ঘরে আলোও জ্বলে না৷

পুরুলিয়ার ভালাগোড়া গ্রামে বহু বছর ধরে হুদুড় দুর্গার পুজোর প্রচলন৷

মুখে মুখে প্রচলিত উপজাতিদের গানে বারবার ফিরে আসে জনগোষ্ঠীর পুরোনো ইতিহাস৷ চাঁইচম্পা বা চম্পা ছিল তাদের বাসভূমি৷ সেই আদিম জীবনে মেঘ ঘনায় আর্যদের দখলদারি শুরু হলে৷ প্রচলিত বিশ্বাস, হুদুড় দুর্গার সঙ্গে বাহুবলে এঁটে উঠতে না -পেরে অন্য কৌশল নেয় দখলদারেরা৷ ছলনা করে এক আর্য নারীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয় তাঁর৷ সেই নারীর হাতেই শেষপর্যন্ত মৃত্যু হয় এই অসীম বলশালী উপজাতি নেতার৷ হুদুড় দুর্গা বধ হওয়ার পর খেরোয়ালদের(উপজাতি) নেতৃত্ব দেওয়ার আর কেউ ছিল না৷ ধর্মগুরুদের পরামর্শে তারা সরস্বতী নদীতে স্নান করে নাচতে নাচতে পূর্ব দিকে পালাতে থাকে৷ এই নাচই ‘দাসাই’ নাচ নামে প্রচলিত৷ আশ্বিন মাসও উপজাতিদের কাছে এক অর্থে দাসাই৷ দাসাইয়ের অর্থ অসহায়৷ নেতাহীন খেরোয়ালরা সেসময় যথার্থই অসহায় হয়ে পড়েছিল৷ দাসাই নাচের গানেও সেই হা -হুতাশ আছে৷ তাতে বলা হয়, ‘দুর্গা অন্যায় সমরে মহিষাসুরকে বধ করেছেন৷ হে বীর, তোমার পরিণামে আমরা দুঃখিত৷ তুমি আমাদের পূর্বপুরুষ৷ আমাদের প্রণাম নাও …৷’

নবমীর দিন রঙিন পোশাক পরে, মাথায় ময়ূরের পালক গুঁজে, বাজনার তালে তালে নাচ -গান করেন সাঁওতালরা৷ সেদিন স্মৃতিতর্পণের পর হুদুড় দুর্গা তথা মহিষাসুরের উদ্দেশ্যে ছাতা উত্তোলনের অনুষ্ঠান চলে৷ যা পরিচিত ‘ছাতা ধরা’ উৎসব নামে৷ বীর বন্দনার এই পালা ক্রমে জনপ্রিয় হচ্ছে আদিবাসী সমাজে৷ এই পুজোর প্রসারও ঘটছে ক্রমশ৷ দেশে এখন প্রায় ১৫০টি এলাকায় হুদুড় দুর্গার পুজো প্রচলিত আছে৷ হুদুড় দুর্গা পূজাকে নিজেদের সমগ্র জাতি চেতনার অহংকার হিসেবে দেখেন সাঁওতাল জনজাতির অনেকেই। এ যেন অনেকটা সরাসরি হিন্দু দেবতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রান্তমানুষের বীরগাথা, শোষিতের জয়গান।



ইতিহাসবিদরা এমনও বলেন, গ্রামীণ কৃষিপ্রধান সভ্যতার বাহক অনার্য জাতির কাছে মহিষরূপী মহিষাসুর চিরকালই খুব আপন। আজও ষষ্ঠী থেকে দশমীর দিন পর্যন্ত উপজাতির (মূলত সাঁওতাল, মুন্ডা প্রভৃতি জাতি) পুরুষেরা সেরেঞ বা ভুয়াং হাতে ‘দাসাই নাচ’-এর ‍মাধ্যমে নিজেদের আত্মরক্ষার একটা প্রয়াস করেন। মহিষাসুরের শোকগাথার মাধ্যমেই তাঁরা প্রমাণ করতে চান মানুষ হিসেবে তাঁরা আজও কতটা বঞ্চনা আর অবহেলার শিকার। দুর্গাপূজার পনেরো দিন পরেই আদিম আদিবাসীদের দ্বারা পালিত বাঁদনা পরবে গৃহপালিত পশু হিসেবে মহিষের পুজো করা হয়।

রাঁচি থেকে ৯০ কিলোমিটার এগলে গুমলা শহর। তারই কিছু দূরে পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা ঝাড়খণ্ডের ঘাগরা, চৈনপুর, বিষণপুর। দুর্গাপুজো এলেই ঝাড়খণ্ডের অসুর জাতি অধ্যুষিত এই তিন গ্রাম ডুবে যায় শ্মশানের নৈঃশব্দে। ঘরে ঘরে জানলা-দরজা বন্ধ থাকে পুজোর চার দিন। যাতে আলোর রোশনাই তো দূর, ঢাকের আওয়াজটুকুও যেন ভুল করে ঢুকে না পড়ে! ‘পূর্বপুরুষ মহিষাসুরের হত্যার উৎসবে কেন সামিল হব আমরা,’ বেশ ঝাঁঝিয়েই উত্তর আসে প্রান্তজনদের কাছ থেকে। আগে তো নবরাত্রি উৎসবের টানা ন’দিনই গ্রামগুলিতে শোকপালন হত। সাদা থান পরে থাকতেন সকলে। মেয়েরা সাদা শাড়ি পরতেন। এখন সময় পাল্টেছে। সাদা কাপড় পরা বা শোকগাথা পাঠ হয় না। তবে দুর্গাপুজোর সঙ্গে এখনও সম্পর্কহীন এই প্রান্তজনেরা।

শুধু মহিষাসুর বধ নয়, পুজোর পরে ঝাড়খণ্ডের বিষণপুরের অসুর সম্প্রদায় দশেরায় রাবণ বধও মেনে নিতে পারেন না। রামলীলা উৎসবে গিয়ে রাবণের মূর্তি জ্বালানোর বিরোধিতা করেন আপামর সবাই। মহিষাসুর এবং রাবণই এই এলাকার অধিবাসীদের আত্মার আত্মীয়। আরাধ্য দেবতা। দুর্গাপুজোকে তারা কার্যত ‘গণ-বয়কট’ করেছে। পুরাণ ঘেঁটে অসুর জনজাতির আসল রহস্য, আর্য-অনার্য তত্ত্বের হাল-হকিকত বোঝার চেষ্টা করে চলেছেন ইতিহাসবিদ, গবেষকরা। বাংলা ও ঝাড়খণ্ড জুড়ে অসুর জাতি অধ্যুষিত-গ্রামগুলির এই সংস্কারের আসল কারণ কিন্তু আজও রহস্যে ঘেরা। বছর বছর আশ্বিনের শারদপ্রাতে বিষাদের মেঘ জমে অসুরদের ঘরে ঘরে।



আদিবাসীদের সংস্কৃতিকে ধ্বংস বা নষ্ট করার প্রচেষ্টা উচ্চবর্ণকুল চালিয়ে আসছে সেই প্রাচীন কাল থেকে। তবু কোনও ধর্মবিরোধী তীব্র লড়াই ছিল না এতদিন। অন্যায় শোষণের বিরুদ্ধে আদিবাসীরা বহুবার গর্জে উঠলেও হিন্দু ধর্মকে আঘাত করেনি কখনও। বরং উপজাতিকুল হিন্দু ধর্মকে সবসময় মর্যাদা দিয়ে এসেছে। পুরুলিয়ার ছৌ-নাচে দীর্ঘদিন ধরে দুর্গার কাহিনী পরিবেশিত হয়।

আদিবাসীদের আদি পুরুষ হুদুড়দুর্গা তথা মহান রাজা মহিষাসুর বিদেশি আর্য রমণীর দ্বারা অন্যায়ভাবে নিধনের ফলে ভারতের আদিবাসী খেরওয়ালগণ দেশের শাসন ক্ষমতা হারিয়েছিল। সারা দেশে গ্রাস করেছিল বৈদিক সংস্কৃতি। বৈদিক সংস্কৃতির সেই প্রবলতার সামনে সারা ভারতের মূলনিবাসীরা দলিত -অন্ত্যজ- নীচ ইত্যাদি আখ্যা যে লাভ করেছিল তার প্রমাণ আজও মেলে।

বাংলা, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তীসগড় অন্ধ্রপ্রদেশের যেসব অঞ্চলে ভারতের খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার, সেই সব অঞ্চলের জঙ্গল ও পাহাড়ে লক্ষ লক্ষ আদিবাসী হাজার হাজার বছর ধরে পুরুষানুক্রমে বসবাস করে আসছেন। সেসব অঞ্চলে এখন অনেক আইনি ও বেআইনি খনি। সংবিধানের পঞ্চম তফসিলকে মানা হয়নি। নির্বিচারে অরণ্য ধ্বংস করে জঙ্গল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে তাঁর ভূমিসন্তানদের। বাধ্য করা হয়েছে মহাজনের কাছে জীবন বিকিয়ে দিতে। পাশাপাশি চলেছে জল- জঙ্গল- খনিজ সম্পদ লুঠতরাজ। নিজেদের রাজনৈতিক সংগঠন না থাকায় বাধ্য হয়েই তাঁরা উগ্র-বামপন্থী মাওবাদী রাজনীতির কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। অতএব আখ্যা মিলেছে রাষ্ট্রদ্রোহীর!

দেশের অগ্রগতির নামে মৌ চুক্তিতে আদিবাসীদের দেবতা পাহাড়গুলিকে বেচে দেওয়া হল কর্পোরেট সংস্থার কাছে। কারণ এই পাহাড়গুলি থেকে বক্সাইট পাওয়া যায়। ডিনামাইট ফাটিয়ে আসলে তখন আর খনিজ উত্তোলন হচ্ছে না, বামিয়ান বুদ্ধের মতই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার বছরের অস্ট্রিক দেবতাকে। তাঁদের আরাধ্য মারাংবুরুকে চোখের সামনে টুকরো টুকরো হতে দেখছেন আদিবাসীরা। আজ হুদুড় দুর্গার মতই অসহায় মূলবাসীরা। কর্পোরেট সংস্থার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে গিয়ে আগামীতেও হয়ত শহিদ হবেন অনার্য বীরেরা। রচিত হবে নতুন পুরাণ।

_লেখা— অভিমন্যু মাহাতো_
(সংগৃহীত)

দুর্গা প্রতিমা গড়তে বেশ্যা বাড়ির মাটি লাগে কেন? তাহলে মা দূর্গা কি বেশ্যা??

(১)
দুর্গা কি বেশ্যা ?
দুর্গা প্রতিমা গড়তে বেশ্যা বাড়ির মাটি লাগে কেন?


শতাব্দীর প্রাচীন প্রশ্ন এটা। দিল্লীর জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়ে চর্চা হচ্ছে বেশ কয়েক বছর ধরে। গোমাতার সন্তানরা শিং বাগিয়ে তেড়ে এলেও ছাত্রছাত্রীরা তাদের সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি। পুলিশ লেলিয়ে দিলেও ভয়ে গুটিয়ে যায় নি। স্মৃতি ইরানী দুর্গা-মহিষাসুর প্রসঙ্গ সংসদে উপস্থাপন করলেও নাকানি চোবানি খেয়েছেন। বরং দুর্গা বেশ্যা কি না এই প্রসঙ্গটি একটি রাষ্ট্রীয় ইস্যু হয়ে গেছে।

গত ২২শে সেপ্টেম্বর দিল্লীর দীনদয়াল সিং কলেজের সহকারী অধ্যাপক কেদার কুমার মণ্ডল টুইট করে দাবী করে বসলেন যে “Durga is the very much sexy prostitute in Indian mythology” ভারতীয় মাইথলজিতে দুর্গা নাকি একজন যৌনকর্মী বা বেশ্যা।
কী কান্ড কী কান্ড !!!

রেই রেই করে উঠল ভারতীয় মিডিয়া। এবিভিপি আর বিজেপির শিক্ষক সংগঠন এনডিটিএফ প্রফেসরকে বরখাস্ত করার দাবী তুলল। তার নামে এফআইআর করা হল। তাঁকে এরেস্ট করল পুলিশ।
তারপর কী প্রমান হল, তা আর মিডিয়া প্রকাশ করল না!!
প্রফেসর ক্লিনচিট পেলেন একথা প্রকাশ করার সাহস পেল না ব্রাহ্মণবাদী এঁটোখোর মিডিয়ার দল !!

“দুর্গাকে বেশ্যা বলেও আদালতে ক্লিনচিট পেলেন প্রফেসর মণ্ডল” এই বার্তা প্রকাশ করলে কী এমন ক্ষতি হত?
হ্যা, ক্ষতি হত ব্রাহ্মণবাদের।
ক্ষতি হত ধর্ম ব্যবসায়।
দেবীদুর্গা নামের আড়ালে বেশ্যা পূজার উপরে বিরাট প্রশ্ন উঠে আসত।



(১)
দুর্গা কেমন ভগবতী ?
“ব্রাহ্মণ মাইথলজীই দুর্গা কে বেশ্যা বলেছে” এই কথা বললেই ভক্তরা রে রে করে চিল্লাতে শুরু করবেন। কিন্তু নিজেরা খুঁজে দেখবেন না যে যে রেফারেন্স আমি দিচ্ছি তা কতটা সত্য।

বলছি কি বন্ধুরা, আমাকে গালাগালি করার আগে গাল দিতে থাকুন সেই জারুয়া এবং বারুয়াদের যারা নিজেদের যৌনাচারের দর্শন নানা পুরাণ কাহিনীতে লিখে রেখেছে।

এর আগে জিজ্ঞাসা করেছিলাম দুর্গার বাপের নাম কি?.
কেউ সদুত্তর দিলেন না তো?
এবার জিজ্ঞাসা করছি কার্ত্তিক আর গণেশের বাপের নাম কি?
কোন মায়ের গর্ভের সন্তান এরা?
বুড়ো শিব দুর্গার স্বামী হলেও তাকে নারায়ণী বলা হয় কেন?

যদি প্রমান করে দিই যে ব্রাহ্মন্যবাদী পুঁথিগুলিতেই দুর্গাকে মেনকা, রম্ভা, উর্বশীর মত বেশ্যা দেখানো হয়েছে তবে আগামী কাল থেকে এই দেবীর পূজা বন্ধ করবেন তো?

গোপুত্রগণ,
তোমরা জান যে “ভগ” শব্দের অর্থ হল যোনি। যার মাধ্যমে জনন কাজ সম্পন্ন হয়। আর “বতী” শব্দের অর্থ হল “যার সাথে বর্তমান”। অর্থাৎ ভগবতী শব্দের অর্থ হল “যিনি যোনির সাথে বর্তমান” বা যিনি যোনি সর্বস্য নারী।

আমরা যদি বলি “দুগ্ধবতী গাভী”, তার মানে দাঁড়ায় যে গাভী দুগ্ধ দান করে। তেমনি এখানে “ভগবতী” মানে হল যে “ভগ” দান করে এমন নারী। এবার বুঝে নাও হে গরুর পুত্রগণ তোমাদের এই দুর্গাকে কেন তোমাদের ধর্ম বাপেরা ভগবতী বলত !!



হে গোপুত্রগণ,
তোমাদের ধর্ম বাপেরা তাঁদের পর্ণপুঁথিতে আর কি কি লিখে গেছে জেনে নাও। তারাই বলেছে যে এই পার্বতী হলেন দুর্গা। যখন মাহাদেবের প্রমত্ত যৌন উত্তেজনার ফলে পার্বতী মরনাপন্ন হয়ে পড়ে, তখন পার্বতী প্রান রক্ষার জন্য ভগবান কৃষ্ণের উদ্দেশ্যে প্রার্থণা শুরু করে। কৃষ্ণ দেখে যে শিব আর পার্বতী এমন ভাবে মৈথুনে মত্ত যে তাঁদের আলাদা করা কঠিন! তখন কৃষ্ণ তার সুদর্শন চক্রের দ্বারা উভয় লিঙ্গ কেটে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে পার্বতীর প্রান রক্ষা করে।

হে গোপুত্রগণ, তোমাদের ধর্ম বাপেরা তাঁদের পিতৃপুরুষদের এই কাহিনী এবং যৌনতা ধরে রাখার জন্য প্রবর্তন করে শিবলিঙ্গ বা এই যুক্তলিঙ্গ পূজা । (ভগবত, নবম স্কন্ধঃ৫৯৮)

হে গোপুত্রগণ, দেবী দুর্গার “ভগ” দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরে কি ভাবে তিনি অন্যান্য দেবতাদের যৌন তৃপ্তি দান করতেন তা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ কর। স্কন্দ পুরানে যে কাহিনী তোমাদের ধর্ম বাপেরা বর্ণনা করেছেন তা বর্ণনা করছি। ভাল করে শোন।

সুদর্শনের সাহায্য কৃষ্ণ শিব আর পার্বতীর যৌনাঙ্গ কেটে নিল বটে কিন্তু শরীর আর মন থেকে তো যৌন চাহিদা মেটার নয়। বিষ্ণু সহ অন্যান্য দেবতারা পড়লেন মহা ফ্যাসাদে। কারণ দেবী দুর্গার সাথে তাঁদের সম্পর্ক ভদ্র মাসের সারমেয়র মত। মেনকা, উর্বশী এবং রম্ভার থেকেও এই নারী দেবতাদের বেশি পছন্দ!! দেবীও চিন্তিত !! তিনি তার খ্যাতির বাজার ধরে রাখার জন্য “পায়ু” দ্বারা দেবতাদের চাহিদা মেটাতে শুরু করলেন।

গোপুত্রগণ,
এই পর্ণপুঁথিগুলিতে বর্ণিত এমনি একটি বিশেষ দিনের ঘটনা বলছি শ্রবণ করো।
বুড়ো শিব লিঙ্গ হারানোর ফলে যৌন ক্রিয়ায় অক্ষম। পার্বতী গোপনে ভগবান বিষ্ণুর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে। ঠিক এমন সময় সেখানে গনেশ এসে হাজির। কী মুশকিল !! গনেশ পার্বতীর আপন ছেলে!! এমন বেসামাল অবস্থায় ছেলে তাঁকে দেখে ফেললে লজ্জার আর শেষ নেই !!! পার্বতী গনেশের থেকে নিজেকে লুকানোর জন্য তুলসীর রূপ ধারণ করে। তুলসীর সাথে গনেশের পূর্ব থেকে যৌন সম্পর্ক ছিল। তখন গনেশ নিজের মা পার্বতীকে তুলসী ভেবে তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। (স্কন্ধ পুরাণ, নাগর খন্ডম ৪৪১, পৃঃ১-১৬)

ST, SC, OBC দের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হোক

“ST,SC,OBC দের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হোক”
” কম নম্বর নিয়ে কোটায় চাকরি পেয়ে ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে বলে ব্রিজ ভেঙে গেছে”
“St,Sc রা হচ্ছে সন্ত্রাসি, তাদের তারাও করোনামুক্ত করো “
আরোও কত কি! শুনতে হয়েছে ,আর শুনতে হবেও হয়তো আগামী দিনে এই যদি আপনাদের শিক্ষিত সমাজ হয়ে থাকে, আমিতো হেসে হেসে দেশ ছেড়ে দিতে চাইবো ।

বলছি যে দেশে এখনোও পর্যন্ত কতজন মারা গেছে তার হিসাব রেখেছেন,আদৌ আমরা কোনোদিন রোগমুক্ত পৃথিবীর মুখ দেখতে পাবো কি না তার ক্থা ভেবে দেখেছেন কখনো!??!! পৃথিবী ধ্বংসের পথে আর আপনারা পরে আছেন স্ংরক্ষনের জন্য দেশ টা শেষ হয়ে গেল, কিংবা কোটার মালদের জন্য চাকরি পাচ্ছিনা এইসব নিয়ে । আরে মশাই চাকরি পাওয়ার জন্য পড়াশোনা করতে হয়, যোগ্যতা লাগে ,এইভাবে জাতিবিদ্বেষ বা দ্বন্দ্ব করলে সময় নষ্ট হবে, চাকরি নয়।


সাংবিধানিক সংরক্ষন হচ্ছে Representation বা প্রতিনিধিত্ব, সেটাকে গতানুগতিক সংরক্ষনের সাথে গুলিয়ে ফেললে হবে না, ট্রেনে বাসে সিট সংরক্ষন আর সামাজিক প্রতিনিধিত্ব সম্পুর্ন আলাদা বিষয়।
তারপর বলি#সংরক্ষণ কিন্তু কোনও #দয়ারদাননয়, #সংরক্ষন হলো দেশের সামগ্রিক বিকাশের স্বার্থে পিছিয়ে রাখা সমাজের জনসংখ্যার অনুপাতে রাজনীতি, শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে #প্রতিনিধিত্বমূলক_যোগদান। সমাজের জাতিবৈষম‍্যে দূর করতে বাবাসাহেব আম্বেদকর ভারতের সংবিধানে এই ব‍্যবস্থা লিপিবদ্ধ করে গেছেন। কিন্তু এই প্রতিনিধিত্বমূলক যোগদান নিয়েই চারিদিকে আজ বিদ্বেষের আগুন ছড়াচ্ছে জাতিবিদ্বেষীরা, বর্তমানে সারাদেশে এমন এক জাতিবিদ্বেষের বাতাবরন তৈরি হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে শুধু ঘৃনা নয়, চলছে অগনিত দলিতনিধন, দলিত নির্যাতন এবং দলিত উৎপীড়ন।

আমাদের দেশে #সংরক্ষনশুধুমাত্রসরকারিক্ষেত্রেরমধ্যেই_সীমাবদ্ধ, বেসরকারি ক্ষেত্রে এদেশের কোথাও কোনোরকম সংরক্ষননীতি মানা হয় না। National Sample Survey Organization (NSSO) এর সমীক্ষা অনুযায়ী – ভারতে মোট শ্রমিকের 94% কাজ করে অসংগঠিত ক্ষেত্রে এবং বাকি 6% কাজ করে সংগঠিত ক্ষেত্রে। তবে সরকারি ক্ষেত্রে কাজ করা 4.63% কর্মচারী কিন্তু ঐ সংগঠিত ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত।

#ইদানিং বহু সরকারি ক্ষেত্রের বেসরকারিকরন হওয়ায় সংরক্ষিত পদের সংখ্যা দ্রুতহারে কমেছে। আবার সংরক্ষণনীতি না মেনে সরকার বহু চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ করায় SC/ST কর্মচারীর সংখ্যা ক্রমশ কমছে। আবার চুক্তির ভিত্তিতে নিযুক্তদের চাকুরি পরবর্তীতে স্থায়ী করায় মাঝখানে পড়ে মার খাচ্ছে SC/ST ছাত্রছাত্রীরা। নিয়োগে গাফিলতিতো আছেই, সেই সঙ্গে যোগ‍্যলোক পাওয়া যাচ্ছেনা বলে উদ্ভট কারন দেখিয়ে সরকারি দপ্তরে এখনো হাজার হাজার সংরক্ষিত পদ খালি রাখা হচ্ছে।

2019 সালের নভেম্বর মাসে কেন্দ্র সরকার দ্বারা ভারতীয় সংসদে প্রদত্ত তথ‍্যের কয়েকটি নমুনা নিচে দেওয়া হোলো –

কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের 89টি দপ্তরে সচিব রয়েছেন SC-1জন (প্রাপ্য 13জন), ST-3জন (প্রাপ্য 7জন), তবে এতে কোনও OBC প্রতিনিধি নেই (প্রাপ্য 24 জন).

আবার কেন্দ্রীয় সরকারের সচিবালয়ে কর্মরত 275 জন যুগ্মসচিবের মধ্যে রয়েছে

SC-13 জন (প্রাপ্য 41জন)
ST-9 জন (প্রাপ্য 21জন)
OBC-19 জন (প্রাপ্য 74 জন)

রুরকি আই, আই,টিতে 433 জন অধ‍্যাপকের মধ‍্যে SC মাত্র 8 জন এবং ST মাত্র 2 জন। কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বত্র সংরক্ষিত পদ খালি থাকা সত্বেও তারা হিসাব দেখান SC/ST কর্মচারির কোনো ঘাটতি নেই, এটা #পৃথিবীরঅষ্টমআশ্চর্য।

তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই সংরক্ষিত পদে কর্মচারীর কোনো ঘাটতি নেই, তাহলে দেশের সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের মোট কর্মচারীদের মধ্যে #সংরক্ষণের মাধ্যমে SC/STরা চাকরি করেন মাত্র 1.04%, সুতরাং কোনো দেশের 1.04% কর্মচারীর কর্মদক্ষতা যদি সাধারনের থেকে একটু কমও হয়, তার জন‍্য সেই দেশ কখনো রসাতলে যায়না। আর সেই দেশ যদি সত‍্যিই রসাতলে যায়, তার জন‍্য দায়ী অসংরক্ষিত পদের ঐ 99% (প্রায়) কর্মচারী।

#প্রকৃতপক্ষে সংরক্ষিত পদে কাজ করা কর্মচারীর সংখ্যা 1.04% এর থেকেও কম। কারন চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ ও অস্থায়ী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংরক্ষণ নীতি মানা হয়না। তাহলে বুঝতেই পারছেন কত শতাংশ ছাত্র ছাত্রী সংরক্ষণের সুযোগ নিয়ে চাকুরি পায়, তবু জাতিবিদ্বেষীরা চিরকাল রব তূলে এসেছেন -দেশের সব চাকুরি যেন ঐ SC/STরা নিয়ে গেলো। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই – বাবাসাহেব আম্বেদকর সরকারি ক্ষেত্রে SC/STজন‍্য ঐ সংরক্ষণ দিয়ে না গেলে আজ তাদের কপালে এটুকুও জুটতো না।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অর্থনীতিবীদ অশ্বিনী দেশপান্ডে (দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত) এবং অর্থনীতিবীদ থমাস ই উইস্কপ্ (মিচিগান বিশ্ববিদ্যালয়, আমেরিকা) একটি সমীক্ষায় (The Affirmative action of Productivity in Indian Railway) দেখিয়েছেন SC/ST কর্মচারীরা কর্মদক্ষতায় অন‍্যদের থেকে অনেক এগিয়ে। #সুতরাং দেশ যদি #রসাতলে যায় তার জন্য দায়ী অসংরক্ষিত পদে চাকুরি করা তথাকথিত উচ্চবর্নের কর্মচারীরা‌। সুতরাং SC/STদের কর্মদক্ষতার নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগার কোনও কারন নেই।

দাঁড়ান এতক্ষণ আপনারা শুধু ট্রেলার দেখলেন, #পিকচার আভি বাকি হ‍্যায়। উচ্চবর্ণের যেসকল জাতিবিদ্বেষীরা বলেন – আমরা 80% নম্বর পেয়ে চাকুরি পাইনা, আর ওরা 30%- 40% নম্বর পেয়ে চাকুরি পেয়ে যাচ্ছে, তাদের মিথ‍্যে প্রচার ভোঁতা করতে নিচে কিছু তথ্য-

ভারতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও কঠিন চাকুরির পরীক্ষা Civil Service Exam (IAS) 2018 এর ফাইনাল রেজাল্ট কয়েক মাস আগে বেরিয়েছে।

2025 নম্বরের এই পরীক্ষায় (লিখিত 1750 নম্বর + পার্সোনালিটি টেষ্ট 275 নম্বর) Cut off Marks ছিল এরকম –

General- 982 (48.49%)
OBC – –938 (46.32%)
SC & ST- 912 (45%)
এটাকে শুধুমাত্র একটা পরিসংখ্যান ভাবলে ভুল হবে, এটা যুগযুগ ধরে শোষিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত হয়ে আসা সমাজের প্রতিভূদের হাতে জাতিবিদ্বেষীর মুখে একটা সপাটে থাপ্পড়। আজ তফাৎ ঘুচিয়ে ওদের ঘাড়ের ওপরে নিশ্বাস ফেলছে দলিত সমাজের এই যোদ্ধারা। এরপরও যদি কেউ মিথ‍্যা অপবাদ তথা আজগুবি কথা বলে SC/ST দের অবমূল্যায়ন করতে আসে, মুখের পরে ঠুসে দেবেন এই তথ্যগুলো।

ছলেবলে, কলেকৌশলে SC/STদের দাবিয়ে রাখার কতই না চেষ্টা ওরা করে চলেছে। এইতো ভালো পরীক্ষা দেওয়া সত্বেও দিল্লির সফদরজং মেডিকেল কলেজে 2004-2010 সাল পর্যন্ত SC/STর 25 জন MBBS ছাত্রকে টানা 6 বছর ফেল করানো হয়। পরবর্তীতে দিল্লি হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে অন্য একটি নিরপেক্ষ জায়গায় তাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয় এবং তারা এক চান্সেই সকলে পাশ করে যায়। এটাকে কি বলবেন আপনারা ?

মেডিকেলের উচ্চশিক্ষায় (MD/MS কোর্স) প্রাইভেট কলেজগুলোতে সংরক্ষণ আগেই তুলে দেওয়া হয়েছে। আবার মেডিকেলের সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষায় কয়েকটি বিষয়ে উচ্চবর্নের কিছু ছাত্র “শূন‍্য” পাওয়া সত্বেও বাপের টাকার জোরে ঐ সব প্রাইভেট কলেজে ভর্তি হচ্ছে MBBS কোর্সে, অথচ ওদের থেকে নিট পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া SC/ST ছাত্রছাত্রীরা টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারছে না ঐ কলেজগুলোতে। আমাদের এই সাম‍্যের দেশে ক‍্যাপিটেশন ফি নামক এরকম ছাকনিতে আটকে দিচ্ছে অগনিত SC/ST ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ। সব দেখেশুনে মনে হচ্ছে -এদেশে যেন নিম্নবর্নে জন্মগ্রহণ করাটাই অপরাধ‌।

মন্ডল কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতের মোট জনসংখ্যার মধ্যে উচ্চবর্ন-15%, OBC-52%, SC-15%, ST-7.5% এবং Muslim-10.5% হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র #উচ্চবর্নের মানুষ দখল করে আছে

রাজনীতির 66%,
চাকুরির 87%,
ব‍্যবসার 10% এবং
জমির 51%.
বিচার বিভাগের উচ্চস্তরের 90% এবং
সব ধরনের মিডিয়ার 100%,
(প্রসঙ্গত উল্লেখ্য মন্দিরের #প্রনামীর হাজার হাজার কোটি টাকা এবং দেশের সম্পদ লুঠ করে বিদেশে পালানোয় #উচ্চবর্নের 100% সংরক্ষণ)

অথচ SC/ST দের কপালে জুটেছে

রাজনীতি 22.5%,(সংবিধানের দৌলতে)
চাকুরি 5%, (বাস্তবে 2%)
ব‍্যাবসা 0.2%,
এবং জমি 1%.

যুগযুগ ধরে সমাজে এই পিছিয়ে রাখা SC/ST মানুষগুলোকে বঞ্চিত করে জাতিবাদিরা (উচ্চবর্ণেরা) সর্বস্ব ভোগ করে চলেছে। এতেও তাদের ক্ষান্তি নাই, তাদের যেন আরো চাই, সবটুকু চাই। সে জন‍্যই ঐ ওরা সংরক্ষণের ফলে SC/STদের পাওয়া সামান্য অধিকারটুকুও কেড়ে নিতে সদা উদ‍্যত।

#আজকাল আইনসভাকে এড়িয়ে সর্বোচ্চ আদালতের মাধ‍্যমেও ওরা একের পর এক SC/STদের অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের পথে বসাতে চলেছে। কয়েক মাস আগে উচ্চবর্নের দরিদ্রদের জন‍্য শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে 10% সংরক্ষণ তারা আইনসিদ্ধ করেছে। মাসে 66,666 টাকা আয় করা জাতিবাদিরাও আজ গরীবের স্বীকৃতি পাচ্ছে। তাতেও ওদের খাই মেটেনি, তার জন‍্য সোস‍্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন মাধ্যমে SC/STদের সংরক্ষণ নিয়ে চলছে মিথ‍্য প্রচার। জাতিবাদিদের এই অপপ্রচার রুখতে যুক্তিপূর্ণ তথ‍্যযুক্ত হাতিয়ার নিয়ে SC/STদের অগ্রসর হওয়া ছাড়া কোনো পথ নেই।

-জয়ভীম।।

( বিঃদ্রঃ- দলিতস্বার্থে লেখাটি দিকে দিকে ছড়িয়ে দিন)

                   [তথ্য সংগ্রহে- তাপসকান্তি বিশ্বাস]

ডক্টর অমরনাথ ঝাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের আদর্শ শিক্ষক স্বর্গীয় অসিত বরন মান্ডির স্মৃতিচারণায় কিছু কথা ও কাহিনী

2002 সাল থেকে 2010 সাল 8 বছর ওই ডক্টর অমরনাথ ঝাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম থেকে দ্বাদশ আমার পড়াশোনা। ঐ সময় ডক্টর অমরনাথ ঝাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ে যে চারজন ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন তার মধ্যে মান্ডি বাবু একজন।

মান্ডি বাবুকে নিয়ে স্মৃতিকথা লেখার আগে অন্য আরেকটি কথা বলি। বর্তমানে আমি কেন্দ্রীয় জল আয়োগের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী। প্রথম জয়নিং হয়েছে 2015 সালের আগস্ট মাসে ব্রাহ্মনি সাব-ডিভিশন, রাওরকেলার অধিনে। অফিস ঝাড়খন্ডের সিমডেগা জেলাতে। বর্তমানে স্থানান্তর হয়ে আছি ওডিসার দেওগড় জেলাতে।

2015 সালের দীপাবলিতে যখন বাড়ি যাচ্ছি তখন জামশেদপুরের মানগো বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি মিনিবাস করে বান্দোয়ান যাবার জন্যে উঠে দেখলাম বাসটি প্রচুর ভিড়। বাসের ভেতর দিকে একটি সিটের পাশে দাঁড়ালাম। সিটে বসে আছেন দুইজন বয়স্ক স্বামী-স্ত্রী। বাস চলতে শুরু করার পর বৃদ্ধটি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ”বাবু কোথায় যাবে?” আমি বললাম, ”রানিবাঁধ।” উনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, ”কোথা থেকে আসছ?” বললাম ”ঝাড়খণ্ডের সিমডেগা থেকে”। আবার জিজ্ঞেস করলেন, কী কাজ করো? বললাম, ”সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের গ্রুপ ডি তে কাজ করি।” তারপরে উনি বললেন সে যাই হোক সেন্ট্রাল এর কাজ তো তাহলে ভালই। তারপরে জিজ্ঞেস করলেন, ”পড়াশোনা কোথায় করেছো?” বললাম, ”ডক্টর অমরনাথ ঝাঁ হাইস্কুলে।” তারপর উনি বললেন, ”আর কিছুই জিজ্ঞেস করবোনা।” ওনারা আরো জানালার দিকে সরে গিয়ে আমাকে বসতে বললেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ”কেন কিছু জিজ্ঞেস করবেন না?” উনি বললেন, ”তুমি ডক্টর অমরনাথ ঝাঁ উচ্চ বিদ্যালয়েতে পড়াশোনা করেছ তার মানে তুমিও ভালোছেলে ছিলে তাই আজ এত তাড়াতাড়ি চাকরি পেয়েছো ।ওই সময় আমি ওনাকে আমার আগের চাকরির কথাটাতো বললাম না তবু উনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, ”তাহলে কোন বছর উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছো?” বললাম, ”2010 সালে।” তারপরে বললেন, ”তাহলে আমাদের আকরোঁর নিরুপমাকে জানো?” বললাম, ”হ্যাঁ, আমরা একসঙ্গে পড়েছি।” তারপর আরো অনেক গল্প হল…।

এরপরে আসি আসল কথায় ঐ যে বয়স্ক বৃদ্ধটি আমাকে বললেন, ”তুমি ডক্টর অমরনাথ ঝাঁ উচ্চ বিদ্যালয়েতে পড়াশোনা করেছ তার মানে তুমিও ভালোছেলে ছিলে” এই কথা শুনে কতযে স্কুল কে নিয়ে গর্ববোধ করেছি তা কারো কাছে প্রকাশ করিনি। আজ লিখে প্রকাশ করলাম। 2015 সাল পর্যন্ত আমার সাথে ইন্টারনেট এর সম্পর্ক ছিলনা তাই ডক্টর অমরনাথ ঝাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের রেজাল্ট বন্ধুদেরকে ফোন করে জিজ্ঞেস করতাম কিন্তু এখনতো কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফেসবুকে দেখতে পাচ্ছি আজ 10:07 সময়ে আমাকে ফেসবুকের একটি লিংক বন্ধু সুকুমার পাঠালো। সঙ্গে সঙ্গে লিংকে ক্লিক করার পর দেখলাম ”আমাদের মাঝে আর নেই মান্ডি বাবু।”

সঙ্গে সঙ্গে সুকুমারকে জিজ্ঞেস করলাম, ”মান্ডি বাবুর কি হয়েছিল?” বলল, ”জানিনা।” তারপর ফোন লাগালাম বন্ধু প্রনয়ের ভাই গৌতমকে। তখন ও কারোর সাথে কথা বলছিল।

তারপরে ফোন লাগালাম বন্ধু কাজলকান্তকে। সেও তখন কারোর সাথে কথা বলছিল। আধঘন্টা পরে গৌতম আমাকে ফোন করে জানালো যে, গতকাল রাতেই দুর্গাপুরের এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। কিডনি খারাপ হয়েছিল।

তারপরে কাজলকান্ত আমায় ফোন করে সে বলল, অনেকে অনেক রকম বলছে লিভার, কিডনি কিছু একটা খারাপ হয়েছিল।

যাইহোক কোন কারণে আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন মান্ডি বাবু।

মান্ডি বাবু যে 2002 থেকে 2010 সাল পর্যন্ত টানা আট বছর আমাকে পড়িয়েছেন তা কখনো ভুলতে পারবোনা আজ যেমন আমি দিনের সারাক্ষণ অফিসে থাকতে ভালোবাসি সেই রকম উনিও সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা-আটটা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে থাকতেন। ইংরেজিতে আগ্রহী ছেলেমেয়েদেরকে কোচিং ক্লাস করাতেন; বিনা পয়সায়। আমিও পড়েছি, কিছুটা হলেও ইংরেজি শিখেছি ওনার কাছ থেকে। উনার ক্লাস সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শুধু মজার ক্লাস হয়ে থাকত আর আমাদের জন্য ছিল মহামূল্যবান।

বিদ্যালয়ের যে কোন অনুষ্ঠানে উনার একটি বড় মাপের খাতা দেখে দেখে উনি যেসব বক্তব্য ইংরেজিতে উপস্থাপন করতেন তার সবকিছু আমি বুঝতাম না। শুধু শেষের কথাটা ভাল করে বুঝতাম কারন শেষে বাংলায় বলতেন, ”শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে বিপ্লব, বিপ্লব আনে মুক্তি।

যেহেতু আমি সাঁওতাল। মান্ডি বাবুও সাঁওতাল। তাই বিদ্যালয়ের একমাত্র সাঁওতাল শিক্ষক হওয়ার সুবাদে আমি উনাকে অনুসরণ করলাম এবং বিশ্বশান্তিতে অনুপ্রাণিত হলাম। তাই আমিও সাঁওতালিতে লেখালেখি শুরু করলাম ওই ক্লাস নাইন থেকে।

মান্ডি বাবু বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে যে সকল বক্তব্য উপস্থাপন করতেন সেগুলো হয়তো এখনো পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয়নি। তাই আশা রাখবো ডক্টর অমরনাথ ঝাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের আদর্শ শিক্ষক মান্ডি বাবুর ওই লেখাগুলো যেন বিদ্যালয়ের উদ্যোগে পুস্তক আকারে প্রকাশ করা হয়। এমনিতে তো আমার মতো অনেকের মনে অন্তরে হৃদয়ে মান্ডি বাবু বেঁচে থাকবেন কিন্তু যারা ডক্টর অমরনাথ ঝাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী নন ওরাও জানতে পারবে মান্ডি বাবুর চিন্তাভাবনা। আবার যেহেতু ইংরেজিতে লেখা তাহলেতো একদিন গোটা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছাবে।

আজ এই শোকভরা মনে যতটা মনে পড়লো ততটাই লিখলাম।

আরেকটা কথা; মান্ডি বাবুর ধীরে ধীরে কুড়ি থেকে ত্রিশ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা গতিবেগে মোটর সাইকেল চালানোটা যখনই আমার মোটর সাইকেলের স্কেলেটরে মোচড় দিই তখনই মনে পড়ে।

পরিশেষে এটাই বলব, যদি সত্যিই আত্মা নামে কিছু থেকে থাকে তাহলে যেন মান্ডি বাবুর আত্মাও শান্তিতে থাকুক এটাই আমার কামনা।

কালিরাম মুরমু (প্রাক্তন বিজ্ঞান ছাত্র ২০০২-২০১০)